)
Gallup poll Democrats vs Republicans: মার্কিন রাজনীতিতে ভোটারদের আনুগত্যের এমন বদল কোনও নতুন বিষয় নয়। ২০২৪ সালেও সাধারণ ভোটারদের দলীয় পরিচয়ে সামান্য এগিয়ে ছিল রিপাবলিকানরা। কিন্তু গত দুই বছরে সেই ধারা পুরোপুরি উল্টে গিয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এই ধরনের পরিবর্তনকে ‘থার্মোস্ট্যাটিক পাবলিক ওপিনিয়ন’ (Thermostatic Public Opinion) বলে থাকেন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আমেরিকার রাজনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে চলেছে? তেমনই ইঙ্গিত মিলেছে সাম্প্রতিক সমীক্ষায়। ভারতের মতো ওদেশেও বইছে পরিবর্তনের হাওয়া। আন্তর্জাতিক সমীক্ষা সংস্থা গ্যালপ (Gallup)-এর নতুন তথ্যে দেখা গিয়েছে, বিপুল সংখ্যক মার্কিন নাগরিক বর্তমানে নিজেদের ‘ডেমোক্র্যাট’ বলে পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করছেন। অর্থাত্ ট্রাম্পের বিরোধী দল। এর ফলে রাজনৈতিক পরিচয়ের নিরিখে ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির চেয়ে প্রায় ১০ শতাংশ পয়েন্টের বড় ব্যবধানে এগিয়ে গেছে বিরোধী ডেমোক্র্যাটিক পার্টি। ২০০৮ সালে বারাক ওবামার ঐতিহাসিক জয়ের ১৮ বছর পর এটিই ডেমোক্র্যাটদের পক্ষে জনসমর্থনের সবচেয়ে বড় ব্যবধান।
সামনে গুরুত্বপূর্ণ মিড-টার্ম (মধ্যবর্তী) নির্বাচন। তার আগে প্রকাশিত গ্যালপের সাম্প্রতিক কোয়ার্টারলি পরিসংখ্যানে দেখা গিয়েছে, মোট ভোটারের প্রায় ৪৯ শতাংশ মানুষ নিজেদের ডেমোক্র্যাট কিংবা ডেমোক্র্যাটিক পার্টির আদর্শে বিশ্বাসী (Democratic-leaning). এই পরিচয় দিতেই তাঁরা ভালোবাসছেন। বিপরীতে রিপাবলিকান বা তাঁদের সমর্থক হিসেবে মত দিয়েছেন ৩৯ শতাংশ নাগরিক। সরাসরি দলীয় আনুগত্যের প্রশ্নেও ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৩১ শতাংশে পৌঁছেছে, যেখানে রিপাবলিকানরা রয়েছে ২৫ শতাংশে। অবশিষ্ট ৪৪ শতাংশ নিজেদের নির্দল বা স্বতন্ত্র (Independent) বললেও তাঁদের বড় অংশই বর্তমানে ডেমোক্র্যাটদের দিকে ঝুঁকছেন।
পেন্ডুলামের মতো রাজনৈতিক পরিবর্তন
মার্কিন রাজনীতিতে ভোটারদের আনুগত্যের এমন বদল কোনও নতুন বিষয় নয়। ২০২৪ সালেও সাধারণ ভোটারদের দলীয় পরিচয়ে সামান্য এগিয়ে ছিল রিপাবলিকানরা। কিন্তু গত দুই বছরে সেই ধারা পুরোপুরি উল্টে গিয়েছে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা এই ধরনের পরিবর্তনকে ‘থার্মোস্ট্যাটিক পাবলিক ওপিনিয়ন’ (Thermostatic Public Opinion) বলে থাকেন। ঘরের থার্মোস্ট্যাট যেমন অতিরিক্ত ঠান্ডা বা গরম হলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে আনে, ঠিক তেমনই ভোটাররাও সরকার অতিরিক্ত একমুখী সিদ্ধান্ত নিতে থাকলে বিপরীত দিকে ঝুঁকে পড়েন।
সমীক্ষা সংস্থা কী বলছে?
গ্যালপের সিনিয়র এডিটর জেফ্রি জোন্সের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ভালো থাকলে মানুষ ক্ষমতাসীন দলের প্রতি অনুগত থাকে। কিন্তু পরিস্থিতি যখন খারাপ হয় বা সরকারের ওপর অসন্তোষ বাড়ে, তখন জনসমর্থন বিরোধী শিবিরের দিকে ধাবিত হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, জর্জ ডব্লিউ বুশের মেয়াদের শেষের দিকে (২০০৬-২০০৮ সাল) রিপাবলিকানদের জনপ্রিয়তা তলানিতে নেমেছিল এবং ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন ৫২ শতাংশ পর্যন্ত উঠেছিল, যার ওপর ভর করে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছিলেন ওবামা।
এরপর ২০১৮ সালের ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদের মিড-টার্মেও ডেমোক্র্যাটরা প্রায় ৪৯ শতাংশ সমর্থন পেয়ে হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভসের ৪০টির বেশি আসন নিজেদের দখলে নিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি সেই সময়ের কথাই মনে করিয়ে দিচ্ছে।
ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা নিম্নমুখী
পিউ রিসার্চ সেন্টারের (Pew Research Center) পৃথক তথ্য বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এই বিশাল পরিবর্তনের নেপথ্যে রয়েছে তরুণ প্রজন্ম এবং হিস্পানিক (ল্যাটিনো) ভোটারদের ভূমিকা। উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে তরুণ ভোটারদের মধ্যে রিপাবলিকানরা ১ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে ছিল– যা ছিল এই দশকের একমাত্র ব্যতিক্রম। কিন্তু সাম্প্রতিক তথ্যে দেখা গিয়েছে, তরুণদের মধ্যে ডেমোক্র্যাটরা একলাফে ১৬ শতাংশ পয়েন্টে এগিয়ে গেছে। একইভাবে হিস্পানিক ভোটারদের মধ্যেও ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন অন্তত ৯ শতাংশ পয়েন্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।
কারণ কী?
জনমতের এই পরিবর্তনের পিছনে মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের একনাগাড়ে উল্টোপাল্টা সিদ্ধান্ত। গত কয়েক মাস ধরেই ট্রাম্পের এপ্রুভাল রেটিং (জনপ্রিয়তার হার) ৪০ শতাংশের নিচে আটকে রয়েছে। ভিসা ফি বৃদ্ধি থেকে চাকরি ছাঁটাই, ইরান-ইজরায়েল যুদ্ধ থেকে ভারতের রাজনীতি– সবেতেই অযাচিত নাকগলানো। শেষে হরমুজের তেল আটকে দেওয়া, ভারতীয়দের দেশ থেকে বের করে দেওয়া– এই সবকিছুর ফলেই বিশ্বে অপছন্দের তালিকায় শীর্ষে পৌঁছেছে ট্রাম্প।
আকাশছোঁয়া মূল্যবৃদ্ধি, জীবনযাত্রার ব্যয় এবং দেশের বর্তমান গতিপথ নিয়ে সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ অসন্তুষ্ট। ফলে ট্রাম্পের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত একাধিক রাজ্যেও সিনেট নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা কড়া টক্কর দিচ্ছেন।
জনমত কি সরাসরি ভোটে রূপান্তরিত হবে?
তবে সমীক্ষার এই ব্যবধানই চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল নিশ্চিত করে না। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দলীয় পরিচয় বা সমর্থনের ঝোঁক ব্যালট বাক্সে প্রতিফলিত হয় না। বিশেষ করে যারা নির্দল কিন্তু কোনও দলের দিকে ঝুঁকে থাকেন,তাঁদের ভোটকেন্দ্রে যাওয়ার প্রবণতা কট্টর সমর্থকদের তুলনায় কম হয়। এ ছাড়া আমেরিকার নির্বাচন ব্যবস্থার ভৌগোলিক বিন্যাস ও নির্দিষ্ট কিছু আসনের সীমানা নির্ধারণে রিপাবলিকানদের সুবিধা থাকায় দেশজুড়ে জনপ্রিয়তার ব্যবধান থাকলেও কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ছিনিয়ে নেওয়া ডেমোক্র্যাটদের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ।
তা সত্ত্বেও, আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মুখে ২০০৮ সালের পর এমন রেকর্ড ব্যবধান রিপাবলিকানদের জন্য এক সতর্কবার্তা হিসেবেই মনে করছে। সাধারণ মার্কিন জনগণের ক্ষোভকে কাজে লাগিয়ে ডেমোক্র্যাটরা ক্যাপিটল হিলের ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে ভোটারদের আস্থা ফেরাতে কৌশল বদলের চেষ্টায় রয়েছে রিপাবলিকান শিবির।
(Feed Source: zeenews.com)
