চিপ থেকে ক্যামেরা বা শক্তিশালী ব্যাটারি, নতুন কী কী বদল আসতে চলেছে অ্যাপল আইফোন ১৮ প্রো-তে?

চিপ থেকে ক্যামেরা বা শক্তিশালী ব্যাটারি, নতুন কী কী বদল আসতে চলেছে অ্যাপল আইফোন ১৮ প্রো-তে?

 

নয়া দিল্লি: অ্যাপল ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে তাদের নতুন ফ্ল্যাগশিপ স্মার্টফোন ‘আইফোন ১৮ প্রো’ এবং ‘আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স’ উন্মোচন করতে পারে বলে জোর জল্পনা চলছে। যদিও অ্যাপলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে এখনও কিছুই নিশ্চিত করা হয়নি। তবে বিভিন্ন রিপোর্ট থেকে এই ফোনের ক্যামেরা, ব্যাটারি, ডিসপ্লে, কানেক্টিভিটি এবং ডিজাইনে ১০টি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

আইফোন ১৮ প্রো সিরিজে অ্যাপলের পরবর্তী প্রজন্মের A20 চিপ থাকতে পারে বলে জানা গিয়েছে। তথ্য বলছে, এই প্রসেসরটি ২-ন্যানোমিটার (2nm) প্রযুক্তিতে তৈরি হতে পারে। এর ফলে ফোনটির কার্যক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি পাওয়ার এফিসিয়েন্সি বৃদ্ধি করবে।

নতুন চিপ এলে তার দক্ষতার কারণে প্রসেসর কম শক্তি খরচ করবে। এর ফলে বৃদ্ধি পাবে ব্যাটারি লাইফ। রিপোর্ট বলছে, আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্স মডেলে ৫ হাজার ৫৬৭ মিলি অ্যাম্পিয়ার আওয়ারের (5,567mAh) বড় ব্যাটারি ব্যবহৃত হতে পারে।

ফটোগ্রাফির জন্য প্রধান লেন্সে যুক্ত হতে পারে ভেরিয়েবল-অ্যাপারচার প্রযুক্তি। এর ফলে আলোর পরিস্থিতি অনুযায়ী ক্যামেরার লেন্স নিজের অ্যাপারচার পরিবর্তন করতে পারবে, যা ছবির এক্সপোজার এবং ব্যাকগ্রাউন্ড ব্লারের ওপর আরও নিখুঁত নিয়ন্ত্রণ দেবে।

আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সকে ছোট প্রো মডেলের থেকে আলাদা করতে এতে কিছু বিশেষ ক্যামেরা হার্ডওয়্যার দেওয়া হতে পারে। বিশেষ কিছু অত্যাধুনিক ক্যামেরা ফিচার শুধুমাত্র বড় মডেলেই সীমাবদ্ধ থাকতে পারে।

কম আলোতেও স্পষ্ট ছবি তোলার জন্য অ্যাপল চওড়া বা ওয়াইডার অ্যাপারচারের টেলিফোটো লেন্স পরীক্ষা করছে। এর মাধ্যমে লেন্সে বেশি আলো প্রবেশ করতে পারবে, ফলে নাইট মোডে ফটোর কোয়ালিটি ভালো হবে এবং নয়েজ কমবে।

প্রো মডেলের অন্তত একটিতে থ্রি-লেয়ার স্ট্যাকড ক্যামেরা সেন্সর দেওয়া হতে পারে। এই প্রযুক্তি ক্যামেরার রেসপন্স টাইম, ডায়নামিক রেঞ্জ এবং লো-লাইট বা কম আলোতে ছবি তোলার দক্ষতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেবে।

নতুন হার্ডওয়্যার যুক্ত করার কারণে পেছনের ক্যামেরা বাম্প বা হাউজিং কিছুটা পুরু বা মোটা হতে পারে। তবে সামগ্রিক ডিজাইন আইফোন ১৭ প্রো সিরিজের মতোই থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফোনটির বাহ্যিক ডিজাইনে কিছুটা সূক্ষ্ম পরিবর্তন আসতে পারে। পেছনের গ্লাস এবং মেটাল ফ্রেমের রঙের পার্থক্য বা টু-টোন ভাব কমিয়ে আরও একইরকম দেখতে (একীভূত) লুক দেওয়া হতে পারে। সম্ভাব্য রঙের মধ্যে ডার্ক চেরি, লাইট ব্লু, ডার্ক গ্রে এবং সিলভার অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।

ডিসপ্লের মাপ ৬.৩ ইঞ্চি এবং ৬.৯ ইঞ্চিতে অপরিবর্তিত থাকলেও ‘ডায়নামিক আইল্যান্ড’-এর কাটআউট সাইজ কিছুটা ছোট হতে পারে। এ ছাড়া উন্নত বিদ্যুৎ সাশ্রয়ী LTPO+ ডিসপ্লে প্রযুক্তি ব্যবহার করা হতে পারে।

নতুন সিরিজে অ্যাপলের নিজস্ব C2 মোডেম ব্যবহৃত হতে পারে, যা ফাইভ-জি (5G) কানেক্টিভিটি এবং স্যাটেলাইট যোগাযোগের ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। তবে উন্নত চিপসেট ও মেমোরির খরচ বৃদ্ধির কারণে ফোনগুলোর দাম বাড়তে পারে; আমেরিকায় আইফোন ১৮ প্রো ম্যাক্সের দাম প্রায় ১ হাজার ৩৯৯ ডলার হতে পারে।

উল্লেখ্য, অ্যাপল এখনও পর্যন্ত এই ফিচারগুলোর কোনওটিই নিশ্চিত করেনি। চূড়ান্ত ঘোষণার সময় আসল স্পেসিফিকেশন কিছুটা আলাদা হতে পারে।