)
Delhi Satya Niketan PG Hostel collapsed: রায়পুরের পঞ্চশীল নগরে যুবরাজের পরিবারে এখন শুধুই বুকফাটা হাহাকার। তাঁর বাবা কানহাইয়া সোনি পেশায় স্থানীয় এক ওষুধের দোকানি। পরিবারের একমাত্র পুত্রসন্তান যুবরাজ, তাঁর একটি ছোট বোনও রয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট (সিএ) হওয়ার স্বপ্ন বুকে বেঁধে এক বছর আগে ছত্তীসগঢ়ের রায়পুর থেকে রাজধানী দিল্লিতে পা রেখেছিলেন যুবরাজ সোনি। দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের মতিলাল নেহরু কলেজ-এর বিকম দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন তিনি। কিন্তু এক নিমেষে সেই সমস্ত স্বপ্ন ধুলোয় মিশে গেল। দিল্লির সত্য নিকেতন এলাকায় পড়ুয়াদের পেয়িং গেস্ট ভেঙে পড়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় যে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে, তার মধ্যে ছিলেন যুবরাজও।
রায়পুরের পঞ্চশীল নগরে যুবরাজের পরিবারে এখন শুধুই বুকফাটা হাহাকার। তাঁর বাবা কানহাইয়া সোনি পেশায় স্থানীয় এক ওষুধের দোকানি। পরিবারের একমাত্র পুত্রসন্তান যুবরাজ, তাঁর একটি ছোট বোনও রয়েছে। ছেলের মৃত্যুর পরও দীর্ঘ সময় পর্যন্ত বাবাকে সত্য জানানোর সাহস পাননি স্বজনেরা। কানহাইয়া সোনি যাতে ভেঙে না পড়েন, তাই শুরুতে তাঁকে কেবল জানানো হয়েছিল যে যুবরাজ দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন। যুবরাজের আত্মীয় নীতেশ জানান, ময়নাতদন্তের পর দেহ হাতে পাওয়ার পরেও বাবার সামনে দাঁড়িয়ে একমাত্র ছেলের মৃত্যুর নির্মম সত্যটি স্বীকার করার মতো সাহস পরিবার জোগাড় করতে পারছিল না।
স্থানীয় পুলিস সূত্রে জানা যায়, দিন কয়েক আগেই রাখিবন্ধন উৎসবে রায়পুরের বাড়িতে গিয়েছিলেন যুবরাজ। পরিবার ও বোনের সঙ্গে ছুটি কাটিয়ে গত ৩১ আগস্টই তিনি ফের দিল্লি ফিরে যান। দিল্লিতে ফিরে সত্য নিকেতনের ওই নতুন বহুতলের পিজিতে উঠেছিলেন তিনি। কিন্তু সেখানে থাকার মাত্র কয়েক দিনের মাথাতেই ঘটে যায় এই বিপর্যয়। এই ঘটনায় এখনও পর্যন্ত ১২ জনকে ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও যুবরাজ-সহ সাতজনের প্রাণ রক্ষা করা যায়নি।
এই ভয়ংকর দুর্ঘটনার পর দিল্লি মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (MCD) নড়েচড়ে বসেছে। সত্য নিকেতনে বিল্ডিং ভেঙে পড়ার ঘটনায় গাফিলতির অভিযোগে সাউথ জোনের ডেপুটি কমিশনার রাকেশ কুমার এবং চারজন ইঞ্জিনিয়ারকে ইতিমধ্যেই সাসপেন্ড করা হয়েছে। অন্যদিকে, দিল্লি হাইকোর্ট এই ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আদালত জানিয়েছে, কেবল পিজি মালিকের ওপরেই নয়, দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এবং পুরপ্রশাসনের ওপরেও এর দায় বর্তায়। কারণ বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়াদের সংখ্যার তুলনায় হোস্টেলের আসন সংখ্যা ‘একদমই অপ্রতুল’, যার ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা হাজার হাজার ছাত্রছাত্রী বাধ্য হয়ে চরম নিরাপত্তাহীন ও বেআইনিভাবে গড়ে ওঠা ব্যক্তিগত পিজিগুলিতে আশ্রয় নিচ্ছেন।
রায়পুরের জেলা প্রশাসনের সহায়তায় দেওয়া অ্যাম্বুলেন্সে করে যুবরাজের মরদেহ নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়েছেন স্বজনেরা। পঞ্চশীল নগরের প্রতিবেশীরা স্তব্ধ হয়ে গেছেন এই আকস্মিক দুর্যোগে। কান্নাভেজা চোখে আত্মীয় নীতেশ জানিয়েছেন, প্রশাসনের কাছে তাঁদের আর কোনও প্রত্যাশা অবশিষ্ট নেই; তাঁরা কেবল ঘরের ছেলের নিথর দেহটি ফিরে পেতে চেয়েছিলেন, যা পেয়ে এখন তাঁরা বাড়ি ফিরছেন।
(Feed Source: zeenews.com)
