
Silk Smitha Mysterious Death:
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আশি এবং নব্বইয়ের দশকে দক্ষিণী সিনেমার অন্যতম জনপ্রিয় এবং আলোচিত অভিনেত্রী ও ড্যান্সার হয়ে উঠেছিলেন তিনি। মূলত তাঁর সাহসী অভিনয়, মোহময়ী চোখের চাউনি এবং আইকনিক সব আইটেম ড্যান্সের মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমায় আলোড়ন ফেলে দিয়েছিলেন। তৎকালীন সময়ে তাঁকে ভারতীয় সিনেমার অন্যতম বড় ‘সেক্স সিম্বল’ হিসেবে গণ্য করা হত! ৪৫০টিরও বেশি চলচ্চিত্রে অভিনয় করেছিলেন তিনি। কিন্তু একদিন আচমকাই মেলে সুইসাইড নোট! কথা হচ্ছে সিল্ক স্মিতাকে নিয়ে। বছরের পর বছর ধরে চলচ্চিত্র নির্মাতারা জানতেন যে, সিল্ক স্মিতার থেকে তাঁরা ঠিক কী চান— কোনও এক চটুল নাচ, এক উত্তেজক দৃশ্য, কিংবা কোনও সিনেমার পোস্টারে তাঁর নাম, যা বিক্রি করার জন্য ক্রেতার প্রয়োজন। কিন্তু সিল্ক স্মিতার নামের আড়ালে থাকা মানুষটিকে চেনা বা দেখা ছিল বাস্তবে অনেকটাই কঠিন।
১৯৬০ সালের ২ ডিসেম্বর অন্ধ্রপ্রদেশের কোভভালি গ্রামে ভাদলাপাতি বিজয়লক্ষ্মী বিজয়ালক্ষ্মী নামে জন্ম সিল্ক স্মিতার। বেড়ে ওঠেন চরম অর্থকষ্টের মধ্য দিয়ে চলা এক পরিবারে। চতুর্থ শ্রেণির পর আর স্কুলে যাওয়াও হয়নি তাঁর। মাত্র ১৪ বছর বয়সে জোর করে তাঁর বিয়ে দেওয়া হয়েছিল বয়সে অনেক বড় এক ব্যক্তির সঙ্গেই। সিল্ক স্মিতার জীবনের শুরুর দিকের ঘটনাপ্রবাহ থেকে জানা যায়, বিয়ের পর স্বামী ও শ্বশুরবাড়িতে তিনি নিগ্রহের শিকার হন। মাত্র দু’ বছরের মধ্যেই তিনি সেই সংসার ছেড়ে বেরিয়ে আসেন। অবশেষে তিনি চেন্নাইয়ে আসেন এবং মায়ের সঙ্গে থাকতে শুরু করেন। সেখানে তিনি ‘টাচ-আপ আর্টিস্ট’ হিসেবে কাজ পান। শুটিংয়ের আলো জ্বলার ও ক্যামেরা চালু হওয়ার আগে তিনি অন্য অভিনেত্রীদের মেকআপ ঠিকঠাক করে দিতেন। সিনেমার দুনিয়ায় এই ভাবেই তাঁর পা রাখা—সেই জগৎ, যার বাণিজ্যিক সাফল্যে তিনি পরবর্তীতে বড় ভূমিকা রেখেছিলেন। এরপর ছোটখাটো চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ আসতে থাকে। মালয়লম পরিচালক অ্যান্টনি ইস্টম্যান তাঁকে ‘ইনায়ে থেডি’ সিনেমায় প্রথম প্রধান চরিত্রে অভিনয়ের সুযোগ দেন এবং পর্দায় ব্যবহারের জন্য স্মিতা নামটি দিয়েছিলেন। পরিচালক ভিনু চক্রবর্তীও তাঁর কেরিয়ারের প্রতি আগ্রহ দেখান এবং তাঁকে ইংরেজি ভাষা ও নাচ শিখতে সাহায্য় করেন।
কী বলতে চেয়েছিলেন স্মিতা
সিল্ক স্মিতা কথাই বলতে চেয়েছিলেন। ১৯৯৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর রাতে তিনি অভিনেত্রী অনুরাধাকে ফোন করে তাঁর কাছে আসতে বলেছিলেন। কোনো এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনা করতে চেয়েছিলেন সিল্ক স্মিতা। কিন্তু সেই সন্ধ্যায় অনুরাধা আসতে পারেননি। ঠিক হয় পরদিন তাঁরা দেখা করবেন। স্মিতা অভিনেতা রবিচন্দ্রনের সঙ্গেও যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু তখন রবিচন্দ্রন শ্যুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলেন এবং নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে তাঁদের কথা বলা সম্ভব হয়নি। পরদিন সকালেই দু’জনেই খবরটি পেয়েছিলেন—চেন্নাইয়ের বাড়িতে সিল্ক স্মিতা আর নেই। তাঁর বয়স হয়েছিল ৩৫ বছর। সেই কথোপকথনগুলি আর কখনই হয়ে ওঠনি। তিনি ঠিক কী বলতে চেয়েছিলেন, তা আজও এক অমীমাংসিত রহস্য হয়েই রয়ে গিয়েছে! এমন এক প্রশ্ন যা তাঁর বন্ধুরা বয়ে বেড়িয়েছেন দীর্ঘকাল, এমনকী চলচ্চিত্র জগৎ যখন অনেক আগেই তাঁকে পিছনে ফেলে এগিয়ে গিয়েছে, তখনও।
অনুরাধা-রবিচন্দ্রন কী বলেছিলেন?
অনুরাধা পরে বলেছিলেন যে, ২২ সেপ্টেম্বর স্মিতা কোনও এক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নিয়ে কথা বলতে চেয়েছিলেন। পরদিন তাঁর সঙ্গে দেখা হবে—এমনটাই আশা করেছিলেন তিনি। রবিচন্দ্রনের মনে পড়ে, স্মিতা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের জন্য বারবার চেষ্টা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘ সেদিন আমি শুটিংয়ে ব্যস্ত ছিলাম; স্মিতা যে মরিয়া হয়ে কয়েকবার আমার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করছি, তা দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম।’ রবিচন্দ্রন এরপর স্মিতার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। আমি ভেবেছিলাম এটি হয়তো সাধারণ কোনও ফোন কল। কিন্তু পরদিন মর্মান্তিক এক সত্য জানতে পারলাম—স্মিতা আত্মহত্যা করেছেন।’ স্মিতা তাঁকে ঠিক কী বলতে চেয়েছিলেন, সেই প্রশ্নটি রবিচন্দ্রকে সবসময়ই ভাবাত। পরদিন সকালে কী ঘটতে চলেছে, তা তাঁদের কারোরই জানা ছিল না। তাঁদের স্মৃতিচারণ থেকে এটুকু স্পষ্ট যে, স্মিতা যোগাযোগের চেষ্টা করেছিলেন। তবে সেই কথোপকথন হলে পরিস্থিতির কতটা বদল ঘটত, তা আজ আর জানার উপায় নেই। ২০১১ সালে স্মিতার বর্ণময় ও ট্র্যাজিক জীবন নিয়ে বলিউডে ‘দ্য ডার্টি পিকচার’ নামে একটি বায়োপিক হয়েছিল, যেখানে তাঁর চরিত্রে অভিনয় করে জাতীয় পুরস্কার পেয়েছিলেন বিদ্যা বালন।
আপনি কি অবসাদগ্রস্ত? বিষণ্ণ? চরম কোনও সিদ্ধান্ত নেবেন না। আপনার হাত ধরতে তৈরি অনেকেই। কথা বলুন প্লিজ…
iCALL (সোম-শনি, ১০টা থেকে ৮টা) ৯১৫২৯৮৭৮২১
কলকাতা পুলিস হেল্পলাইন (সকাল ১০টা-রাত ১০টা, ৩৬৫ দিন) ৯০৮৮০৩০৩০৩, ০৩৩-৪০৪৪৭৪৩৭
(Feed Source: zeenews.com)
