
IIT Kharagpur: জাতীয় শিক্ষানীতিকে সামনে রেখে স্কুলের পাঠদানে এআই ও আধুনিক প্রযুক্তি যুক্ত করতে বিশেষ উদ্যোগ আইআইটি খড়গপুরের। উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষকদের দেওয়া হল ডিজিটাল প্রশিক্ষণের বিশেষ অভিজ্ঞতা। উচ্চমাধ্যমিকের শিক্ষকদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স ও ভার্চুয়াল রিয়্যালিটির প্রশিক্ষণ প্রদান।
খড়গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: পাঠ্যবইয়ের বাঁধাধরা পাতার বাইরে বেরিয়ে স্কুলের শ্রেণিকক্ষকে কী ভাবে ভবিষ্যৎমুখী করে তোলা যায়, সেই তাগিদ এখন সর্বত্র। জাতীয় শিক্ষানীতি ২০২০-এর মূল ভাবনাকে পাথেয় করে স্কুলশিক্ষায় আধুনিক প্রযুক্তির উপযোগিতাকে কাজে লাগাতে উদ্যোগী হল আইআইটি খড়গপুর। প্রতিষ্ঠানের ‘সেন্টার ফর ইন্টারডিসিপ্লিনারি অ্যান্ড কনভার্জেন্ট টেকনোলজিস’ (সিআইডিসিটি)-এর ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত বিশেষ কর্মসূচিতে গুরুত্ব পেল কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ডিজিটাল পেডাগজি এবং আধুনিক শিক্ষণ-পদ্ধতির বাস্তব প্রয়োগ। উচ্চমাধ্যমিক স্তরের রসায়ন ও কর্মশিক্ষার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের জন্য আয়োজিত এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য ছিল শিক্ষার মানের গুণগত উত্তরণ ঘটানো। মূলত উচ্চমাধ্যমিক স্তরের রসায়ন ও কর্মশিক্ষার শিক্ষক-শিক্ষিকাদের নিয়েই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।
বর্তমান যুগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, রোবোটিক্স কিংবা থ্রি-ডি প্রিন্টিংয়ের মতো প্রযুক্তি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এই পরিস্থিতিতে প্রযুক্তির সুবিধাকে কেবল উচ্চশিক্ষা বা গবেষণাগারের চার দেওয়ালে আটকে না রেখে স্কুলের স্তরে পৌঁছে দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। শ্রেণিকক্ষে পড়ুয়াদের শেখার আগ্রহ বাড়ানো এবং ফলাফলকে অর্থবহ করে তুলতে এই ধরনের প্রযুক্তি বড় হাতিয়ার হতে পারে। প্রথাগত মুখস্থবিদ্যার বদলে প্রকল্পভিত্তিক ও অভিজ্ঞতাভিত্তিক শিক্ষার মেলবন্ধন ঘটিয়ে শিক্ষার্থীরা যাতে জটিল বিষয়গুলিও সহজে আত্মস্থ করতে পারে, সেই উপযোগিতার দিকটিই এই কর্মসূচির কেন্দ্রে উঠে এসেছে।
শিক্ষাদানের ক্ষেত্রে পুঁথিগত জ্ঞানের পাশাপাশি হাতে-কলমে শেখার গুরুত্ব অপরিসীম। সেই উদ্দেশ্যেই শিক্ষক-শিক্ষিকাদের আইআইটি খড়গপুরের ভার্চুয়াল রিয়্যালিটি ল্যাবরেটরি এবং নেহরু মিউজিয়াম অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি প্রত্যক্ষ করানোর ব্যবস্থা করা হয়। ইন্টারনেটের আধুনিক প্রযুক্তি বা পরীক্ষাগারভিত্তিক কাজকে ব্যবহার করে শ্রেণিকক্ষের শিক্ষাদানকে কতটা আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, তা খতিয়ে দেখা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানের অধিকর্তা অধ্যাপক সুমন চক্রবর্তীও তাঁর বক্তব্যে পড়ুয়াদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ও ভবিষ্যৎমুখী শিক্ষার পরিবেশ গড়ে তোলার কার্যকর পদ্ধতির কথা তুলে ধরেন।
শিক্ষাব্যবস্থার প্রকৃত পরিবর্তন শুধু সিলেবাস বদলের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না। শিক্ষক ক্লাসে প্রযুক্তিকে ঠিক কী ভাবে প্রয়োগ করছেন এবং শিক্ষার্থীদের চিন্তাভাবনাকে কতটা শাণিত করছেন, তার ওপরেই নির্ভর করে শিক্ষার অগ্রগতি। জাতীয় শিক্ষানীতির উদ্দেশ্য অনুযায়ী শিক্ষার্থীদের মধ্যে সৃজনশীলতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা তৈরি করতে গেলে শিক্ষকদের প্রযুক্তিবান্ধব হওয়া প্রয়োজন। স্কুলস্তরে আধুনিক প্রযুক্তির এমন সুপরিকল্পিত ব্যবহার আগামী দিনে শিক্ষার সামগ্রিক পরিকাঠামোয় ইতিবাচক রূপান্তর ঘটাবে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।
(Feed Source: news18.com)
