)
US-Iran tensions: ইরান কি আমেরিকার কোনও সাবমেরিন দখলে নিয়েছে? আন্ডারওয়াটার ভেহিকল বা ড্রোন সাবমেরিন নিয়ে কী জানা যাচ্ছে? চলে এল রক্তগরম ভিডিয়ো
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ইরান-আমেরিকার মধ্যে উত্তেজনার পারদ প্রতিদিন একটু করে চড়ছে। আঘাত-প্রত্যাঘাতের যুদ্ধ চলছেই। ৫টি তেলবাহী ইরানিয়ান ট্যাঙ্কারে হামলার পর ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) চাঞ্চল্যকর দাবি করেছে। তারা জানিয়েছে হরমুজ প্রণালীর কাছে তাদের নৌবাহিনী আমেরিকার একটি চালকহীন সাবমেরিন কবজা করেছে। পারস্য উপসাগর ও আরব সাগরকে সংযোগকারী এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের উপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তেহরান ও ওয়াশিংটন একে অপরের জাহাজে হামলা, পাল্টা হামলা চালিয়েই যাচ্ছে। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এই জলযানটিকে ডাইভ-এলডি (Dive-LD) হিসেবে শনাক্ত করেছে। এটি ক্যালিফোর্নিয়া-ভিত্তিক প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম প্রস্তুতকারক প্রতিষ্ঠান অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের তৈরি এটি স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান। প্রায় ২০ ফুট দীর্ঘ এই যানটি নজরদারি, সমুদ্রতলদেশের মানচিত্র তৈরি এবং মাইন শনাক্তকরণের মতো দীর্ঘমেয়াদী অভিযানের উপযোগী করে তৈরি করা হয়েছে।
মার্কিন সামরিক বাহিনী গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জানিয়েছে যে, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে মার্কিন নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজে ইরানের হামলার জবাবে তারা পাঁচটি ইরানি অপরিশোধিত তেলবাহী রণতরী ধ্বংস করেছে। পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে ইরান বলেছে, তারা দুটি মার্কিন জাহাজ ও আটটি তেল ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে। তাহলে, আমরা ডাইভ-এলডি সম্পর্কে কী জানি এবং এটি আটক হওয়ার ঘটনাটি ইরানের জন্য কী অর্থ বহন করে? আইআরজিসি-র ঘোষণার পর, মার্কিন সামরিক বাহিনীও একটি বিবৃতি প্রকাশ করে জানায় যে, একদিন আগে আঞ্চলিক জলসীমায় জরিপ চালানোর সময় তাদের একটি ডুবোড্রোনে ‘এক দিন আগেই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা গিয়েছিল।’ ড্রোনটিই ইরানের জব্দ করা ড্রোন কি না, সে বিষয়ে বিবৃতিতে কিছু উল্লেখ করা হয়নি। পেন্টাগনের একজন মুখপাত্র বলেন, ‘চলতি অভিযানে এটি আঞ্চলিক জলসীমায় জরিপ চালাচ্ছিল। ত্রুটিপূর্ণ ড্রোনটি একটি পুরনো মডেলের ছিল, যা কোনও সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহ করেনি বা কোনো গোপনীয় সোনার বা রাডার সরঞ্জাম বহন করেনি।’ মার্কিন সামরিক বাহিনী ডুবো ও জলযান-সহ মনুষ্যবিহীন নৌ ব্যবস্থায় ব্যাপক ভাবে বিনিয়োগ করছে, কারণ তারা নাবিকদের ঝুঁকিতে না ফেলে সমুদ্রের বিশাল এলাকা পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ এবং শত্রুপক্ষের জাহাজ ও সাবমেরিন ট্র্যাক করার জন্য সস্তা উপায় খুঁজছে।
ইরানের দখল করা ডাইভ-এলডি কী?
ডাইভ-এলডি একটি বড় আকারের, চালকবিহীন ও স্বয়ংক্রিয় ডুবোযান এবং একটি পুনর্ব্যবহারযোগ্য প্ল্যাটফর্ম। যা বিভিন্ন ধরনের সেন্সর ও মিশন-সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম বহন করার উপযোগী। এই অ্যান্ডুরিল ইন্ডাস্ট্রিজের তথ্যমতে, এটি সর্বোধিক ১৯৭০০ ফুট গভীরতা পর্যন্ত যেতে সক্ষম এবং একটানা ১০ দিন কাজ করতে পারে। মার্কিন গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এর দাম প্রায় ২৫ লাখ ডলার (ভারতীয় মুদ্রায় ২৩ কোটি টাকার উপরেই)। ২০২৩ সালের জুন মাসে টাইটানিক জাহাজের ধ্বংসাবশেষের কাছে প্রায় ১১০০০ ফুট গভীরতায় ওসেনগেট টাইটান ডুবোযানটি অন্তর্মুখী বিস্ফোরণের শিকার হয়ে ধ্বংস হয়েছিল, যা ডাইভ-এলডির সক্ষমতা অনুযায়ী উল্লিখিত গভীরতার প্রায় অর্ধেক। অ্যান্ডুরিল তাদের এক ডুবোযান হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করলেও ঘটনাটিকে খুব একটা গুরুত্ব দেয়নি। বুধবার কোম্পানির এক মুখপাত্র বলেন, ‘ডাইভ-এলডি এমন একটি স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা যা প্রয়োজনে হারিয়ে যাওয়ার ঝুঁকি মেনে নিয়েই কাজ করার উপযোগী করে তৈরি। অর্থাৎ, শুরু থেকেই এটিকে এমন বিপজ্জনক পরিবেশে পরিচালনার জন্য এর নকশা। যেখানে যানটি হারিয়ে যাওয়া বা ধ্বংস হয়ে যাওয়া একটি প্রত্যাশিত সম্ভাবনা।’ আমেরিকার কাছে মোট কতগুলি ডাইভ-এলডি বা আন্ডারওয়াটার ভেহিকল বা ড্রোন সাবমেরিন সক্রিয় রয়েছে, তার সঠিক ও সুনির্দিষ্ট সংখ্যাটি প্রকাশ করা হয়নি। এটি এখনও অস্পষ্ট।
(Feed Source: zeenews.com)
