
২০২৫ সালের জানুয়ারি মাসে দ্বিতীয়বারের জন্য আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্বগ্রহণ করেন ট্রাম্প। প্রেসিডেন্ট হিসেবে তাঁর কার্যকালের মেয়াদ শেষ হতে এখনও সময় রয়েছে। তবে চলতি বছরের নভেম্বর মাসে আমেরিকায় ‘মিডটার্ম ইলেকশন’ বা মধ্যবর্তী নির্বাচন রয়েছে। আমেরিকায় প্রেসিডেন্টের কার্যকালের মেয়াদ চার বছর। তবে প্রথম দু’বছরের মাথায় একটি মধ্যবর্তী নির্বাচন হয়, যাতে রিপাবলিকান্স এবং ডেমোক্র্যাটসদের মধ্যে যে কোনও একটিকে বেছে নেন সাধারণ মানুষ। যে পক্ষ বিজয়ী হয়, তাদের হাতেই নিয়ন্ত্রণ থাকে আমেরিকার কংগ্রেসের। (US Midterm Elections)
আমেরিকায় কংগ্রেসই আইন তৈরি করে এবং তা পাস করায়। সরকারি টাকা কোথায়, কত খরচ হবে, বাজেট কী হওয়া উচিত, তাও ঠিক করে কংগ্রেস। কোনও দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধঘোষণার ক্ষমতাও কংগ্রেসের হাতেই ন্যস্ত। বিচারপতি থেকে মন্ত্রী, দূত নিয়োগও কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া সম্ভব নয়। কংগ্রেসের সিদ্ধান্ত কার্যকর করার দায়িত্ব প্রেসিডেন্টের। তাই কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ থাকার অর্থ, সরকারের যাবতীয় সিদ্ধান্তের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকা। অথচ এই মুহূর্তে ডেমোক্র্যাটসদের সঙ্গে সেভাবে পেরে উঠছে না রিপালিকান্স শিবির। সেই কারণেই ট্রাম্প কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে মরিয়া বলে মত সেদেশের রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞদের।
তবে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হাতে থাকতে যেভাবে খয়রাতির ঘোষণা করেছেন ট্রাম্প, তাতে বিস্মিত আমেরিকার রাজনৈতিক মহল। আমেরিকার রাজনীতিতে এই ধরনের ঘোষণা বেনজির। ডালাসে ‘মিডটার্ম ইলেকশনে’র সম্মেলনে নাগরিকদের টাকা দেওয়ার ঘোষণা করেন তিনি। বলেন, “রিপাবলিকানরা জিতলে আপনাদেরও জয়। ৫০০০ ডলার করে পাবেন, যাকে ট্রাম্প ডিভিডেন্ড বলতে পারেন। মনে করুন ব্যালটে আমি আছি। আমি আছি…আর একটি বার শুধু।” আমেরিকার প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে ৫০০০ ডলার করে দিতে গেলে খরত হবে প্রায় ১ ট্রিলিয়ন ডলার, ভারতীয় মুদ্রায় যা ৯৫ লক্ষ ২৫ হাজার কোটি টাকা। ওই টাকা কোথা থেকে আসবে, তা খোলসা করেননি ট্রাম্প। তবে টাকার কমতি নেই বলে জানান তিনি।
‘মিডটার্ম ইলেকশনে’র আগে সম্প্রতি একটি সমীক্ষায় দেখা যায়, ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন ৩০-এ নেমে গিয়েছে। অর্থাৎ সংখ্য়াগরিষ্ঠের সমর্থন হারিয়েছেন ট্রাম্প। বিশেষ করে মূল্যবৃদ্ধি এবং ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে লিপ্ত হওয়া নিয়ে ক্ষোভ রয়েছে মানুষের মনে। Decision Desk HQ-এর দাবি, ২৩০-২০৫টি আসন পেয়ে হাউসে জয়ী হতে পারে ডেমোক্র্যাটস শিবির। সেনেটে ৫১-৪৯টি আসন পেতে পারে তারা। তাতেই ট্রাম্প খয়রাতির ঘোষণা করেছেন বলে মত প্রতিপক্ষ থেকে বিশেষজ্ঞদের।
তবে ট্রাম্পের দাবি, ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে আমেরিকা সুবিধাজনক জায়গাতেই রয়েছে। তাঁর দাবি, এখন মূল্যবৃদ্ধি সমস্যা তৈরি করলেও, দীর্ঘকালীন সমাধান বেরিয়ে আসবে এই সংঘাত থেকে। ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে আমেরিকাই জয়ী হবে বলে দাবি করেছেন তিনি। পাশাপাশি, আমেরিকার রাজনীতিতে বামপন্থার উত্থান ঘটছে বলেও দাবি করেছেন। তাঁর বক্তব্য, “আপনাদের ভোটই আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ ঠিক করবে। ওরা জিতলে কমিইনিস্ট দেশে পরিণত হবে আমেরিকা।” তবে তাঁর এই ঘোষণা কতটা সুফল দেবে রিপাবলিকান্স শিবিরকে, তা সময়ই বলবে।
