)
বলিউডে আচমকাই নেমে এল গভীর শোকের ছায়া! ৫৬ বছরে প্রয়াত অত্যন্ত জনপ্রিয় অভিনেতা। বিশ্বাস হচ্ছে না কারও… ক্য়ানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ে হেরে গেলেন তিনি।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বলিউডে আচমকাই গভীর শোকের ছায়া! প্রয়াত হিন্দি সিনেমার অত্যন্ত জনপ্রিয় বর্ষীয়ান অভিনেতা মুশতাক খান। ফুসফুসের ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের পর অবশেষে হার মারলেন স্মরণীয় সব পার্শ্ব ও হাস্যরসাত্মক চরিত্রে অভিনয়ে করা মুশতাক। মৃত্য়ুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। অভিনেতার বিজনেস পার্টনার শিবম এক সর্বভারতীয় মিডিয়ায় মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে তিনি মারা যান। তাঁর ফুসফুসের ক্যানসার ধরা পড়েছিল এবং তিনি সুস্থও হয়ে উঠেছিলেন। তবে আট দিন আগে এই মারণ রোগ ফিরে আসায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল। আর এটিই ছিল ক্যানসারের শেষ পর্যায়।’ মুশতাকের কাজ সিনেমার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না। টেলিভিশনেও নিজের ছাপ রেখেছেন। যেখানে তিনি ‘কুছ রং পেয়ার কে অ্যায়সে ভি’ র মতো শোয়ে ছিলেন। অক্ষয় কুমার এবং ক্যাটরিনা কাইফের সঙ্গে ‘ওয়েলকাম’ (২০০৭) সিনেমায় তাঁর অভিনয় নিয়ে আজও চর্চা হয়। সিনেমায় ডন উদয় শেট্টির (নানা পাটেকর) একজন ঘনিষ্ঠ সহযোগী তথা গ্যাংস্টার সদস্য হিসেবে এই আইকনিক ‘বল্লু’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। ছবিতে তাঁর বলা জনপ্রিয় মোনোলগ ‘মেরি এক টাঙ্গ নকলি হ্যায়, ম্যাঁয় হকি কা বহুত বড়া খিলাড়ি থা। এক দিন উদয় ভাই…’ আজ আইকনিক হয়ে গিয়েছে।
মুশতাক খান কে ছিলেন?
১৯৮০ সালে ‘অ্যালবার্ট পিন্টো কো গুসসা কিঁউ আতা হ্যায়’ দিয়ে অভিনয়ে আত্মপ্রকাশ মুশকতাকের। তার চার দশকের বেশি সময়ের বিস্তৃত কেরিয়ারে অভিনেতা একাধিক ব্লকবাস্টারে অভিনয় করেছেন এবং স্মরণীয় সব কমিক চরিত্র উপহার দিয়েছেন। রয়েছে ‘আশিকি (১৯৯০), ‘দিল হ্যায় কি মানতা নেহি’ (১৯৯১), ‘হাম হ্যায় রাহি পেয়ার কে’ (১৯৯৩), ‘হেরা ফেরি’ (২০০০), ‘মুঝসে শাদি করোগি’ (২০০৭), ‘ওয়েলকাম’ (২০০৭), ‘ওয়ান্টেড’ (২০০৯), ‘ওহ মাই গড’ (২০১২), স্ত্রী (২০১৮), গদর টু (২০২৩) এবং স্ত্রী টু (২০২৪)। এছাড়াও ‘ভারত এক খোঁজ’ (১৯৮৮), ‘জাবান সম্ভাল কে’ (১৯৯৩), ‘আদালত’ (২০১০) এবং ‘টিভিএফ ট্রিপলিং’ (২০১৯) ওয়েব সিরিজের একটি পর্বের মতো বেশ কয়েকটি হিট শোতেও ছিলেন। ‘ভাবিজি ঘর পর হ্যায়’ এবং সানি দেওল-অভিনীত ‘জট’ খানের মুশতাকের শেষ কয়েকটি কাজের মধ্যে ছিল।
অসামান্য কর্মজীবন
কয়েক দশকের অসামান্য কর্মজীবনে অভিনেতা বহু চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন অনুষ্ঠানে অভিনয় করেছেন। এমনকী বড় কোনও তারকা-সমাবেশের অংশ হয়েও তিনি প্রায়শই নিজের অভিনয়ের ছাপ রেখেছেন। দীর্ঘ সময় ধরে মুশতাক হিন্দি সিনেমায় তাঁর যাত্রাপথ এবং অভিনেতা হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার ক্ষেত্রে যেসব চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছিলেন, সে সম্পর্কে কথা বলেছেন। কমেডি, ড্রামা এবং বাণিজ্যিক হিন্দি সিনেমা—সব ধরনের কাজেই তাঁর উপস্থিতি একজন চরিত্রাভিনেতা হিসেবে তাঁর বহুমুখী প্রতিভার পরিচয় দেয়। তাঁর প্রয়াণে এমন একজন প্রতিভাবান অভিনেতাকে ইন্ডাস্ট্রি হারাল, যিনি বলিউডের বিভিন্ন প্রজন্মের সঙ্গে সক্রিয় ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং আগামী দিনগুলিতেও দর্শকদের স্মৃতিতে অম্লান হয়ে থাকবেন তিনি।
(Feed Source: zeenews.com)
