
CNN-News18
ইসলামাবাদ: পাকিস্তান বরাবরই ভারতকে নিয়ে নানা অভিযোগ ও দাবি করে এসেছে। কখনও ভারতকে হুমকি, কখনও আবার আন্তর্জাতিক মহলে সহানুভূতি আদায়ের চেষ্টা—দুই পথেই এগিয়েছে ইসলামাবাদ। নিজের দেশ হোক বা আন্তর্জাতিক মঞ্চ, পাকিস্তানের অভিযোগের তালিকায় বারবার উঠে এসেছে ভারত, জলবণ্টন এবং কাশ্মীর প্রসঙ্গ। এ বার UNGA অর্থাৎ রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের বক্তব্যে ফের সেই একই সুর শোনা গেল। পাশাপাশি ভারতকে হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। নিউইয়র্কে রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ সভায় (UNGA) বক্তব্য রাখতে গিয়ে সিন্ধু জল চুক্তি নিয়ে ভারতকে সরাসরি হুমকি দেন শাহবাজ শরিফ।
শেহবাজ শরিফ প্রথমে সিন্ধুর জল নিয়ে অভিযোগ করেন। তাঁর দাবি, ভারত পাকিস্তানকে জল দিচ্ছে না। এরপরই তাঁর সুর আরও কঠোর হয়। তিনি বলেন, পাকিস্তানের অংশের জল আটকে দেওয়া বা তার গতিপথ পরিবর্তনের যে কোনও প্রচেষ্টাকে ‘অ্যাক্ট অফ ওয়ার’ অর্থাৎ যুদ্ধের পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। শেহবাজ শরিফ সাম্প্রতিক সামরিক সংঘর্ষকে বহিরাগত আগ্রাসন হিসেবে উল্লেখ করে তাঁর সরকারের নিরাপত্তা নীতির পক্ষে রাষ্ট্রপুঞ্জের সনদের ৫১ নম্বর ধারার উল্লেখ করেন। শুধু তাই নয়, পাক সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল অসীম মুনির এবং পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীরও প্রশংসা করেন তিনি। ‘অপারেশন সিঁদুর’ নিয়ে শরিফ দাবি করেন, মুনিরের নেতৃত্বাধীন পাক সেনা ভারতীয় সামরিক অভিযান প্রতিহত করেছে।
পাকিস্তানের ট্রাম্প প্রশংসা:
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পেরও ভূয়সী প্রশংসা করেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ। তিনি বলেন, গত বছর ট্রাম্প একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে হস্তক্ষেপ করে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করতে সাহায্য করেছিলেন। এর ফলে দুই পরমাণু শক্তিধর প্রতিবেশী দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা বড় সংঘাতে পরিণত হওয়া থেকে বিরত রাখা সম্ভব হয়েছিল।
শেহবাজ শরিফ এ দিন ফের কাশ্মীর প্রসঙ্গও তোলেন। আঞ্চলিক বিরোধ নিয়ে পাকিস্তানের অবস্থান স্পষ্ট করে তিনি জম্মু-কাশ্মীরের মানুষকে নৈতিক, কূটনৈতিক এবং রাজনৈতিক সমর্থন দিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। এই সমস্যার সমাধানে রাষ্ট্রপুঞ্জের তত্ত্বাবধানে গণভোট আয়োজনের দাবিও ফের জানান তিনি।
পাকিস্তানের দাবির জবাব ভারতের :
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের এই দাবিগুলির জবাব দিয়েছে ভারত সরকার। সূত্রের খবর, ভারতীয় আধিকারিকরা শাহবাজ শরিফের সামরিক সাফল্যের দাবিকে খারিজ করেছেন। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাকিস্তানের তরফে যে বয়ান তুলে ধরা হচ্ছে, তা নিয়েও কটাক্ষ করেছেন ভারতীয় আধিকারিকরা। তাঁদের বক্তব্য, ধ্বংস হয়ে যাওয়া রানওয়ে এবং পুড়ে যাওয়া হ্যাঙ্গার যদি পাকিস্তানের নেতৃত্বের কাছে সামরিক সাফল্যের প্রতীক হয়ে থাকে, তা হলে তারা সেই সাফল্য উদ্যাপন করতেই পারে।
ভারতের শীর্ষ সূত্রগুলির দাবি, পাকিস্তানের তরফে শুরুতে বড় ধরনের সামরিক হামলার হুমকি দেওয়া হলেও গত বছর পাক সেনার তরফেই আরও ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সরাসরি শত্রুতা বন্ধ করার আবেদন জানানো হয়েছিল। নয়াদিল্লির বক্তব্য, সীমান্তের ওপার থেকে হওয়া উস্কানিমূলক ঘটনার পর ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে জবাবি সামরিক অভিযান চালানো হয়েছিল। ভারত আরও জানিয়েছে, যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দেওয়ার আগেই মাটিতে তাদের ‘অপারেশনাল ডিটারেন্স’ অর্থাৎ সামরিক প্রতিরোধ ক্ষমতা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
(Feed Source: news18.com)
