)
বিহারে এই মন্দির ৪০০ বছর পুরনো। এই অলৌকিক রহস্যময় মন্দিরে নেই মূতি বা গর্ভগৃহ! কেন সূর্যাস্তের পর প্রবেশ কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ?
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: বিহারে এমন এক মন্দিরে রয়েছে, যেখানে সূর্যাস্তের পর কারোর প্রবেশের অনুমতি নেই। প্রায় ৪০০ বছরের পুরনো এই মা বন দেবী মন্দিরের প্রথা অনুযায়ী সান্ধ্যকালীন পুজো শেষে পুরোহিত বেরিয়ে যাওয়ার পর মন্দিরের ভিতরে বা এর সংলগ্ন বনাঞ্চলে প্রবেশ কঠোর ভাবে নিষিদ্ধ। এই প্রথার নেপথ্যে রয়েছে মন্দিরকে ঘিরে প্রচলিত এক লোককথা। স্থানীয়দের বিশ্বাস এখানে পূজিতা মা বন দেবী অরণ্যের অধিষ্ঠাত্রী। কথিত আছে যে, রাতের বেলা তিনি মন্দিরের প্রাঙ্গণেই থাকেন এবং সেখানেই বিচরণ করেন। মন্দির লাগোয়া জঙ্গল রহস্যময়, অন্ধকার নামার পর এখানে অশুভ শক্তির বিচরণ করে বলেই মনে করা হয়। এই ধারণা থেকেই এই নিয়ম। সূর্য ডোবার পর মানুষ এখান থেকে দূরে থাকে। শুধু দিনের আলোয় এখানে আসা যায। তবে অতিপ্রাকৃতিক কোনও কার্যকলাপের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই যদিও। এই বিশ্বাসটি মূলত মন্দিরকে ঘিরে থাকা মৌখিক ঐতিহ্য ও ধর্মীয় লোককথারই একটি অংশ।
পবিত্র ‘পিণ্ড’র পুজো
বিহারের পটনা জেলার বিহতার কাছে এই মন্দির। পাটনা শহর থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত মা বন দেবীর মন্দির। যা অন্যান্য প্রথাগত মন্দিরের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। এখানে কোনও নির্দিষ্ট গর্ভগৃহ বা কোনো মূর্তি পুজোও হয় না; বরং ভক্তরা এক পবিত্র ‘পিণ্ড’র পুজো করেন, যা বন দেবীরই এক রূপ বলে মানা হয়। মন্দিরটি এমন এক গ্রামীণ পরিবেশে অবস্থিত, যা স্থানীয় লোককথা অনুযায়ী একসময় ঘন জঙ্গলে ঘেরা ছিল। এই মন্দিরের ইতিহাস রাঘোপুরের বাসিন্দা এক ভক্ত, বিদ্যানন্দ মিশ্রের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। জনশ্রুতি অনুযায়ী, মিশ্র বিন্ধ্যাচলের মা বিন্ধ্যবাসিনীর একনিষ্ঠ ভক্ত ছিলেন। কিন্তু বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বিন্ধ্যাচলে যাওয়া তাঁর পক্ষে ক্রমশ কঠিন হয়ে পড়ে। প্রচলিত কাহিনি অনুসারে, দেবী প্রথমে তাঁর স্বপ্নে আবির্ভূত হয়ে একটি পবিত্র পিণ্ড নিজ গ্রামে নিয়ে আসার নির্দেশ দিয়েছিলেন। বিশ্বাস করা হয় যে, সেই দৈব নির্দেশ মেনে মিশ্র পিণ্ডটি নিয়ে আসেন এবং পরে নিজের বাড়ির কাছেই জঙ্গলের মধ্যে তা স্থাপন করেন। সেই সময় সেখানে কোনও বিশাল মন্দির ছিল না। বরং পবিত্র পিণ্ডটি একটি সাধারণ কুঁড়েঘরে রাখা হয়েছিল। ঘন জঙ্গলের মাঝে অবস্থিত হওয়ার কারণে দেবী ধীরে ধীরে বন দেবী বা অরণ্যের দেবী হিসেবে পরিচিতি পান। এই মন্দিরের ঐতিহ্যের সঙ্গে বিন্ধ্যাচলের মা বিন্ধ্যবাসিনীর যোগসূত্রও রয়েছে।
বন দেবী মন্দিরের ইতিহাস
এই মন্দিরের বয়স ৩৫০ থেকে ৪০০ বছর বলেই মনে করা হয়! কোনও কোনও বর্ণনায় মন্দিরের উৎপত্তিকাল ষোড়শ শতক বলেই উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সুনির্দিষ্ট প্রত্নতাত্ত্বিক নথির মাধ্যমে এর সঠিক বয়স নিশ্চিত ভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়নি। তাই এই সময়কাল মূলত মন্দিরের মৌখিক ইতিহাস ও স্থানীয় লোকপ্রচলনের ওপর ভিত্তি করেই নির্ধারিত। কোনও প্রমাণিত প্রত্নতাত্ত্বিক কালপঞ্জির উপর নয়। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ একটি উপাসনালয় থেকে এক পূর্ণাঙ্গ মন্দিরের রূপ লাভ করে। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী ১৯৫৮ সালে সাধু ভগবান দাস ত্যাগী এর বিকাশের গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে ভূমিকা রেখেছিলেন এবং ১৯৯৭ সালে এর আরেকটি বড় নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল। তা সত্ত্বেও, এর মূল ঐতিহ্যটি অপরিবর্তিত রয়েছে। বন দেবীকে এখানে প্রথাগত কোনও মূর্তির পরিবর্তে একটি পবিত্র ‘পিণ্ড’ বা গোলাকার প্রস্তরখণ্ড হিসেবে পুজো করা হয়।

‘দ্য ভ্যান: ফোর্স অফ দ্য ফরেস্ট’
দীপক কুমার মিশ্র ও অরুণাভ কুমার পরিচালিত ‘দ্য ভ্যান: ফোর্স অফ দ্য ফরেস্ট’ মুক্তি পেয়েছে ২৫ সেপ্টেম্বর! সিদ্ধার্থ মালহোত্রা ও তামান্না ভাটিয়ার এই সিনেমা বিহারের সেই মন্দিরের গল্পই বলেছে। সিনেমায় মা বন দেবী মন্দিরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা লোককাহিনি থেকেই অনুপ্রাণিত। অরুণাভ কুমার জানিয়েছেন যে, তিনি তাঁর মায়ের কাছ থেকে এই মন্দিরের কথা জানতে পারেন এবং পরে নিজে সেখানে গিয়ে মন্দিরটি পরিদর্শন করেন। বন এবং সূর্যাস্তের পর সেখানে প্রচলিত এক অদ্ভুত প্রথাকে ঘিরে থাকা নানা কিংবদন্তি সম্পর্কে জানার জন্য তিনি সেখানকার পুরোহিত, গ্রামবাসী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁর ভাষ্যমতে, সূর্যাস্তের পর বনে প্রবেশ না করার যে দীর্ঘদিনের বিশ্বাস বা প্রথা প্রচলিত রয়েছে, তা-ই মূলত তাঁকে এই গল্পের প্রতি বিশেষ ভাবে আকৃষ্ট করেছিল। এরপর তিনি এই ধারণাটি পরিচালক দীপক কুমার মিশ্রর সাথে ভাগ করে নেন; পরবর্তীতে পরিচালক বিষয়টি প্রযোজক একতা কাপুরের কাছে নিয়ে যান এবং এভাবেই স্থানীয় এক কিংবদন্তি বড় পর্দার চলচ্চিত্রে রূপ নেয়।
(Feed Source: zeenews.com)
