
মালদার আজব স্কুল…! ‘সই’ করে চলে যান শিক্ষিকারা, পড়ুয়া সংখ্যা কত জানেন? চমকাবেন শুনলেই ‘উত্তর’


মালদা, জিএম মোমিন: দেখে, শুনে অবাক লাগলেও, এটাই সত্যি! প্রত্যন্ত গ্রাম বা গ্রামীণ অঞ্চল নয় জনঘনত্বপূর্ণ শহরেই বেহাল অবস্থা শিক্ষার। মালদা শহরের একটি সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলে পড়ুয়ার সংখ্যা মাত্র সাত, অথচ স্কুলে রয়েছেন চারজন শিক্ষিকা। তিনতলা ভবন, ছ’টি শ্রেণিকক্ষ, বিদ্যুৎ ও পানীয় জলের মতো পরিকাঠামোও। কিন্তু পড়ুয়ার অভাবে কার্যত ফাঁকা স্কুল।
পড়ুয়া না আসার কারণে শ্রেণিকক্ষে জমেছে ধুলোবালি। কার্যত একপ্রকার আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে শ্রেণিকক্ষ। শুধু তাই নয় অভিযোগ, শিক্ষিকারা স্কুলে এসে হাজিরা খাতায় সই করে চলে যান। ফলে স্কুল খোলা থেকে বন্ধ। প্রায় সমস্ত দায়িত্বই সামলাতে হচ্ছে প্রধান শিক্ষিকাকে। ইংরেজবাজার শহরের বিএস রোডের সেন্ট্রাল স্কুল ফর গার্লস জুনিয়র হাই স্কুলের এই পরিস্থিতি সামনে এসেছে।
প্রধান শিক্ষিকা মমতাজ বেগমের দাবি, সহ-শিক্ষিকারা স্কুলে এসে হাজিরা দিয়ে চলে যান। পড়ুয়াদের উপস্থিতিও অত্যন্ত কম। ফলে তাঁকেই দীর্ঘ সময় স্কুলে থেকে যাবতীয় কাজ সামলাতে হয়। এমনকি স্কুলের দরজা-জানালা খোলা ও বন্ধ করার দায়িত্বও তাঁকেই পালন করতে হয় বলে অভিযোগ।
উল্লেখ্য, সম্প্রতি রাজ্য শিক্ষা দফতর পড়ুয়াশূন্য ও কম পড়ুয়া থাকা সরকারি সাহায্যপ্রাপ্ত স্কুলগুলির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে জেলা স্তরে কমিটি গঠনের নির্দেশ দিয়েছে। ৩০ দিনের মধ্যে সমীক্ষার রিপোর্ট রাজ্য শিক্ষা দফতরে পাঠানোর কথা।
এই প্রসঙ্গে, মালদা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা সংসদের ডিআই মলয় মণ্ডল জানান, এ বিষয়ে শিক্ষা দফতরের নির্দেশ এসেছে। জেলা স্তরের কমিটি পড়ুয়াশূন্য স্কুলগুলির সংখ্যা ও সম্পত্তির পরিস্থিতি খতিয়ে দেখবে। এই পরিস্থিতিতে প্রশ্ন উঠছে, কম পড়ুয়ার স্কুলগুলিতে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের বদলি করা হবে, নাকি পড়ুয়া ফেরাতে নেওয়া হবে বিকল্প উদ্যোগ? নাকি শেষ পর্যন্ত বন্ধের মুখে পড়বে এই ধরনের স্কুলগুলি। এখন সেই দিকেই নজর সকলের।
(Feed Source: news18.com)