Premananda Maharaj Disciple Mystery Death: সিসিটিভিতে যা দেখা যাচ্ছে তা কিছুই নয়, প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য মৃত্যুতে পরতে পরতে রহস্য, নিউজ ১৮-র বিশেষ তদন্ত

Premananda Maharaj Disciple Mystery Death: সিসিটিভিতে যা দেখা যাচ্ছে তা কিছুই নয়, প্রেমানন্দ মহারাজের শিষ্য মৃত্যুতে পরতে পরতে রহস্য, নিউজ ১৮-র বিশেষ তদন্ত

 

Premananda Maharaj Disciple Mystery Death: প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমের শিষ্যের অসময় মৃত্যু আত্মহত্যা নাকি লুকিয়ে অন্য কোনও কান্ড, মৃতদেহের গোপনাঙ্গে ক্ষতচিহ্ন, রক্তমাখা মিক্সি, নিউজ ১৮-র নিজস্ব রিপোর্ট৷

মথুরা: হঠাৎ করে প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রম শিরোনামে, তবে এবার একেবারে অন্য কারণে৷ বিরাট কোহলি-অনুষ্কা শর্মা তাঁর আশ্রমে যাওয়ার পর থেকে প্রেমানন্দ মহারাজ ও তাঁর আশ্রম নিয়মিত খবরের শিরোনামে আসেন৷ তবে সে সব খবরই আধ্যাত্মবাদের৷ কিন্তু এবার একেবারে অন্যরকমের খবরের জন্য আলোচনায় উঠে এসেছে উত্তরপ্রদেশের মথুরা-বৃন্দাবনে অবস্থিত সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজের ‘কেলি কুঞ্জ’ আশ্রম৷ ‘নিউজ১৮ ইন্ডিয়া’ সরেজমিনে একটি প্রতিবেদন করেছে। প্রতিবেদনে আশ্রমের সেই চারতলা ভবনটি দেখানো হয়েছে, যেখান থেকে পড়ে মহারাজের শিষ্য রসিক দুলারি (যিনি দীপক নামেও পরিচিত) প্রাণ হারিয়েছিলেন।  ভবনটিতে সিসিটিভি ক্যামেরা বসানো রয়েছে এবং বৃন্দাবন পুলিশ সেই ফুটেজ সংগ্রহ করেছে। একটি সিসিটিভি ফুটেজে শিষ্যকে নিচে পড়ে যেতে দেখা গেলেও, সেই সময় ঘটনাস্থলে আর কে কে উপস্থিত ছিলেন, তা নিয়ে পুলিশ তদন্ত চালাচ্ছে।

এরই মধ্যে কৃপালু মহারাজের কয়েকজন শিষ্য সেই চত্বরে প্রবেশ করছিলেন; তাঁদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও কেউই কথা বলতে রাজি হননি। প্রত্যেকেই প্রশ্নগুলি এড়িয়ে যান—কেউ অজ্ঞতার ভান করেন, আবার কেউ জানান যে তাঁরা সেখানে থাকেন না, বরং বাইরে বসবাস করেন। তাঁদের সবার উত্তরই ছিল প্রায় একই রকম। যেখানে ঘটনাটি ঘটেছে, তার ঠিক উল্টো দিকের ভবনে বসবাসকারী এক ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলা হয়েছিল। তিনি জানিয়েছেন,  ‘‘ঘটনাটি সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘটেছিল; আমরা ওই ব্যক্তিকে হাসপাতালে নিয়ে যাইনি—তাঁর নিজের লোকজনই নিয়ে গিয়েছিলেন—তবে ততক্ষণে তিনি মারা গিয়েছিলেন। আমরা এখানে কোনো কিছুই শুনতে পাইনি; এই এলাকায় অনেক মানুষ বসবাস করেন, তাই বিস্তারিত অন্য কোনও তথ্য আমাদের জানা নেই।’’

শুক্রবার সকালে বৃন্দাবনে সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজের ‘গুরু কৃপা কুঞ্জ’ ভবনে সন্দেহজনক পরিস্থিতিতে উপর থেকে পড়ে এক শিষ্যের মৃত্যু হয়েছে। শিক্ষা ও আধ্যাত্মিক দীক্ষা গ্রহণের উদ্দেশ্যে অনেক শিষ্যই এই ভবনে বসবাস করেন। ঘটনাটি ঘটার সময় সেখানে বেশ কয়েকজন শিষ্য উপস্থিত ছিলেন; পড়ে যাওয়ার বিষয়টি জানতে পেরে তাঁরা দ্রুত নিচে ছুটে যান এবং আহত রসিক দুলারিকে হাসপাতালে নিয়ে যান, যেখানে তাঁর মৃত্যু হয়।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে এটিকে আত্মহত্যা বলে সন্দেহ করলেও, বেশ কিছু বিষয় এখন অন্যদিকেও ভাবতে বাধ্য করেছে পুলিশকে৷  অর্থাৎ হত্যাকাণ্ডের সম্ভাবনার দিকে ইঙ্গিত করছে। যে ঘরে রসিক দুলারি থাকতেন সেখানে পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত চালানো হয়েছে এবং ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা প্রয়োজনীয় সব কিছু  সংগ্রহ করেছেন। পুলিশ ওই ঘরে রক্ত মাখা একটি গ্রাইন্ডার খুঁজে পেয়েছে৷ এছাড়া রসিক দুলারির গোপনাঙ্গেও কাটা দাগ ও রক্তের দাগ সহ বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে। এই বিষয়গুলি পুলিশকে তদন্তের ক্ষেত্রে ভিন্ন একটি দিক খতিয়ে দেখতে উদ্বুদ্ধ করেছে—তারা এখন ভাবছে যে এটি আদৌ আত্মহত্যা কি না, নাকি আত্মহত্যা বলে চালানোর জন্য পুরো ঘটনাটি সাজানো হয়েছে।

পুলিশ প্রাথমিকভাবে কেবল নিচে পড়ে যাওয়ার দৃশ্যের  সিসিটিভি ফুটেজটিই হাতে পেয়েছে। আশ্রম-সংশ্লিষ্ট ওই ভবনের ভিতরে কতজন শিষ্য ছিলেন এবং মৃত ব্যক্তি রসিক দুলারির সঙ্গে কারা থাকতেন, তা নিশ্চিত করতে তদন্ত চলছে। এছাড়া, তিনি কতদিন ধরে ওই গ্রাইন্ডারটি নিজের কাছে রেখেছিলেন কিংবা হঠাৎ করেই সেটি চেয়েছিলেন কি না, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।

আত্মহত্যার চরম পদক্ষেপ নেওয়ার আগে শিষ্য রসিক দুলারির গোপনাঙ্গে কীভাবে আঘাত লাগল, তা নিয়ে পুলিশ ধন্দে পড়েছে। গ্রাইন্ডারে আঘাত পাওয়ার পর ওই ব্যক্তি যন্ত্রণায় আর্তনাদ করছিলেন কি না, সে বিষয়েও খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। কোনও সুইসাইড নোট না পাওয়ায় আরও রহস্য ঘনাচ্ছে৷  বৃন্দাবন পুলিশ বেশ কিছু প্রশ্নের উত্তর খুঁজছে৷  বিশেষ করে যদি আত্মহত্যাও হয় তাহলে সেই চেষ্টার পেছনের কারণটির খুঁজছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা সন্দীপ কুমার সিং নিউজ১৮ ইন্ডিয়াকে জানিয়েছেন যে, মথুরার সর্বোদয় হাসপাতালে এক আহত ব্যক্তিকে নিয়ে আসার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে পৌঁছায়। ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে যে, জবলপুরের বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি আশ্রমে অবস্থানরত রসিক দুলারি শরণ ভবনের চার তলা থেকে নিচে পড়ে মারা গেছেন।

(Feed Source: news18.com)