)
Powerful El Nino Effects: বিশ্ব জুড়ে ২৪ হাজারে হাজারের বেশি অঞ্চলের স্থানীয় তাপমাত্রার পরিমাপ এবং তা মানুষের মৃত্যুতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এল নিনো এক প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত হয়ে থাকা পৃথিবীতে চলতি বছরের অস্বাভাবিক শক্তিশালী এল নিনো এফেক্ট বিপদ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: এ বছরের শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাবে বিশ্ব জুড়ে রেকর্ড দাবদাহ, খরা, দাবানল ও জলসংকট দেখা দিয়েছে। এর প্রভাবে আগামী পাঁচ মাসে বিশ্ব জুড়ে অতিরিক্ত প্রায় সাড়ে চার লাখ মানুষের প্রাণহানি ঘটতে পারে বলে খবর। গতকাল বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে এই আশঙ্কার কথা জানানো হয়েছে।
ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাবের ভয়াবহ এই পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, অন্যান্য স্বাভাবিক বছরের তুলনায় এ বছরের জুন থেকে আগামী বছরের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত এল নিনোর প্রভাবে ৪ লাখ ৫১ হাজার মানুষের তাপমাত্রাজনিত মৃত্যু ঘটতে পারে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে দরিদ্র দেশগুলিতে। যেসব দেশ ইতিমধ্যেই জলবায়ু পরিবর্তন ও ইরান যুদ্ধের প্রভাবে খাদ্যসংকট এবং জ্বালানির অতিরিক্ত মূল্যের সঙ্গে লড়াই করছে বিপদ তাদেরই বেশি। এই গবেষণার সহ-লেখক মাইকেল গ্রিনস্টোন বলেছেন, ফেব্রুয়ারি নাগাদ এই এল নিনোর প্রভাব শেষ হওয়ার কথা থাকলেও গরমের বিপদটা ফেব্রুয়ারির পরও থাকতে পারে। আবহাওয়ার এই চরম পরিবর্তনের প্রভাব আগামী বছরের গ্রীষ্মকাল পর্যন্ত অনুভূত হতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।
স্থলভাগের তাপমাত্রা বৃদ্ধি
গবেষণায় বিশ্ব জুড়ে ২৪ হাজারে হাজারের বেশি অঞ্চলের স্থানীয় তাপমাত্রার পরিমাপ এবং তা মানুষের মৃত্যুতে কী ধরনের প্রভাব ফেলবে, সে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। এল নিনো মূলত এক প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র। মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ইতিমধ্যে উত্তপ্ত হয়ে থাকা এ পৃথিবীতে চলতি বছরের অস্বাভাবিক শক্তিশালী এল নিনো এফেক্ট যুক্ত হয়ে চরম তাপমাত্রার বিপদ বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। ক্লাইমেট ইমপ্যাক্ট ল্যাব বলেছে, এল নিনোর সময়ে বিশ্বের স্থলভাগের তাপমাত্রা সাধারণ বছরের চেয়ে প্রায় ১.২ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে, যা স্বাভাবিক বছরের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি চরম দাবদাহের দিন তৈরি করবে। এ বছরের তাপমাত্রা বৃদ্ধির ছবিতে বোঝা যাচ্ছে, আজ থেকে প্রায় ২০ বছর পরে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পৃথিবীর স্বাভাবিক আবহাওয়া কেমন হতে পারে।
২০২৬ সালের জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি
গবেষকরা গত তিন দশকের গড় তাপমাত্রার মৃত্যুর হারের সঙ্গে চলতি বছরের (২০২৬ সাল) জুন থেকে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত পুরো এল নিনো পর্বের সম্ভাব্য মৃত্যুর হারের তুলনা করে এই অতিরিক্ত প্রাণহানির হিসাব বের করেছেন। তাতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া এবং লাতিন আমেরিকার বিভিন্ন অঞ্চলকে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। গবেষকরা বলেছেন, ফিলিপাইন্স, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া মিলিয়ে প্রায় ১৯ হাজার ৪০০ জন; ইন্দোনেশিয়ায় ১৯ হাজার ৩০০, ভারতে ১৫ হাজার ৮০০ এবং ব্রাজিলে ১৩ হাজার ৩০০ জন মানুষের অতিরিক্ত মৃত্যু হতে পারে।
(Feed Source: zeenews.com)
