
UP Most Luxurious Farmer House Noida : গ্রামে খেতের মাঝে তৈরি বাড়ি আপনারা অনেকবারই দেখে থাকবেন। আবার অনেক সময় গ্রামের মধ্যে তৈরি রাজকীয় বাড়ি দেখে চোখ কপালে উঠে যায়। উত্তরপ্রদেশের এক কৃষক ৬৩ বিঘা জমির উপর এমন একটি বাড়ি তৈরি করেছেন, যা দূর থেকে একেবারে প্রাসাদের মতো দেখতে। বাড়িটির জাঁকজমকের আন্দাজ এই তথ্য থেকেই করা যায় যে, এতে প্রায় ১০০টি জানালা ও দরজা রয়েছে। বাড়ির ঠিক মাঝখানে রয়েছে একটি বড় পার্ক। কৃষক অমরজিৎ সিংয়ের কাছে রয়েছে ১৫টি গাড়ি এবং ১০টি ট্রাক্টর। সব গাড়ি ও ট্রাক্টরের নম্বর একই। বাড়িটির প্রতিটি কোণায় আভিজাত্যের ছাপ স্পষ্ট লক্ষ্য করা যায়। উত্তরপ্রদেশের কোন জেলায় এই বাড়িটি তৈরি হয়েছে, আসুন জেনে নেওয়া যাক ৷
উত্তরপ্রদেশের সবচেয়ে জনপ্রিয় এবং আধুনিক শহর নয়ডা তার ঝাঁ-চকচকে পরিবেশের জন্য পরিচিত। এখানে বহু বহুজাতিক (MNC) সংস্থার অফিস রয়েছে। নয়ডারই সেক্টর ১৪৮-এ রয়েছে শৈফিপুর নামে একটি গ্রাম। শৈফিপুরের কৃষক অমরজিৎ সিংয়ের প্রাসাদোপম বাড়ি দেখতে দূরদূরান্ত থেকে মানুষ আসেন। বাড়িটি প্রায় ৬৩ বিঘা জমির উপর তৈরি। বাড়ির মাঝখানে রয়েছে একটি পার্ক। রয়েছে কয়েক ডজন ঘর। প্রতিটি ঘরেই এসি লাগানো রয়েছে।
কৃষক অমরজিৎ যৌথ পরিবারে থাকেন। বাড়ির মধ্যেই রয়েছে একটি মন্দির। বাড়িতে রয়েছে ১৫টি গাড়ি এবং ১০টি ট্রাক্টর। পরিবারের স্বচ্ছলতার আন্দাজ এই তথ্য থেকেই করা যায় যে, এই পরিবারে ১০ জন ডাক্তার এবং ৯ জন পাইলটও রয়েছেন। অমরজিৎ জানান, তাঁর এই বিলাসবহুল বাড়িটি ৬৩ বিঘা জমির উপর তৈরি। বাড়িতে ১৯৫৯ সাল থেকে শুরু করে এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ের সর্বশেষ মডেলের ১০টি ট্রাক্টর রয়েছে। বাড়িতেই ৮৩ কেভিএ-র জেনারেটর লাগানো রয়েছে। কৃষক অমরজিতের বাড়িতে আরও একটি ম্যাসি চ্যাম্পিয়ন ট্রাক্টর রয়েছে, যা ঘণ্টায় ৯২ কিলোমিটার গতিতে ছুটতে পারে। এছাড়াও রয়েছে ৭৫ এইচপি-র চার সিলিন্ডারের প্রীত ট্রাক্টর। বাড়িতেই রয়েছে একটি রাইস মিল। বাড়িতে ২০০৩ মডেলের সামে ট্রাক্টরও রয়েছে। এর গতি ঘণ্টায় ৪৫ কিলোমিটার।
বাড়িতে রয়েছে ৯০ এইচপি-র করতার ট্রাক্টর (Kartar Tractor)। কৃষক অমরজিতের বাড়িতে ১৫টি গাড়ি রয়েছে। সব গাড়ির নম্বর ২৩০১। এই নম্বরের পিছনের গল্পটিও বেশ আকর্ষণীয়। অমরজিৎ জানান, তাঁর দাদার ট্রাক্টরের নম্বর ছিল ২৩০১। তাই তিনি বেশিরভাগ সময় এই নম্বরের গাড়িই কেনেন।
অমরজিৎ জানান, তাঁরা ৭ ভাই। পরিবারে এখন ১৭ জন ছেলে এবং ৯ মেয়ে রয়েছেন। মোট ৩৫ জনের যৌথ পরিবার। গোটা পরিবার হোলি-দীপাবলি, তিজ এবং অন্যান্য উৎসব-অনুষ্ঠানে একসঙ্গে জড়ো হয়। অমরজিৎ জানান, তাঁদের কাছে ৫টি বৈদ্যুতিক গাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে তিনটি হ্যারিয়ার, একটি নেক্সন এবং একটি কার্ভ। অমরজিতের মতে, বাড়িতে মোট ১০টি ট্রাক্টর রয়েছে। মহিন্দ্রা-ম্যাসি, স্বরাজ ছাড়াও রয়েছে দুটি করতার এবং একটি হল্যান্ড। তাঁরা নিজেরাই চাষাবাদ করেন। অমরজিৎ বলেন, তিনি তাঁর পরিবারের ঐতিহ্য ও মূল্যবোধকে ধরে রেখেছেন। বাড়ির বাইরে একটি বৈঠকখানা তৈরি করা হয়েছে। বাড়ির ভিতরেই রয়েছে বড় একটি পার্ক। বিয়ে ও অন্যান্য অনুষ্ঠানের সময়ও এই পার্ক ব্যবহার করা হয়।
অমরজিৎ বলেন, তিনি শুধুই একজন কৃষক। যৌথ পরিবারে থাকার কারণ ব্যাখ্যা করে অমরজিৎ বলেন, ‘‘যখনই সবাই সমান আচরণ করবে, তখনই পরিবারে ঐক্য থাকবে। পরিবার যত বড়ই হোক, কোনও সমস্যা হবে না। স্বচ্ছতা জরুরি। যখন সবাই সমানভাবে কাজ করছে, সমান অধিকার রয়েছে, তখন স্বচ্ছতা জরুরি।’’
বাড়িতেই আম, পেয়ারা এবং লিচুর গাছ রয়েছে। তাঁরা বাজার থেকে আম কেনেন না। বাড়িতেই সবজির খামার রয়েছে। আবার বাড়িতে জাগুয়ার এবং বিএমডব্লিউ-র মতো বিলাবহুল গাড়িও রয়েছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি রিচার্জ করার জন্য চার্জিং পয়েন্টও তৈরি করে রাখা হয়েছে। অমরজিৎ বলেন, ‘‘সময়ের সঙ্গে মানুষেরও বদলানো উচিত। আমরা আমাদের সন্তানদের পড়াশোনা করাই। এটা বিজ্ঞানের যুগ। যে পড়াশোনা করবে না, সে পিছিয়ে পড়বে। পরিবারকে একসঙ্গে রাখুন। সত্যের পথে জীবনযাপন করুন।’’
(Feed Source: news18.com)
