)
ট্যাকলের পর মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন অন্যতম প্রতিভাবান তারকা! হাসপাতালে নিয়ে গেলেও হল না শেষরক্ষা! শোকের ছায়া ফুটবলমহলে
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: জীবন যে কী ভীষণ অনিশ্চিত, তা আবারও প্রমাণিত! বাংলার পড়শি রাজ্য় থেকে এল এক মর্মান্তিক খবর। ঝাড়খণ্ডের বোকারো জেলায় এক ফুটবল ম্যাচ চলাকালীন মাঠেই লুটিয়ে পড়লেন ৩৭ বছর বয়সি ফুটবলার। কাজরা মুর্মুর আকস্মিক প্রয়াণে শুধু টুর্নামেন্টেই নয়, পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ফুটবলারের মৃত্যুতে পরিবার ও স্থানীয় বাসিন্দারাও শোকস্তব্ধ। ঘটনার খবর পেয়ে ফুটবলারের শোকার্ত পরিবারের সদস্যরা দ্রুত হাসপাতালে ছুটে যান। তাঁরা তাঁর মৃত্যুর ঘটনায় বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানান। স্থানীয় এজেএসইউ নেতা রাজেশ বিশ্বকর্মাও মুর্মুর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন। তাঁকে এই অঞ্চলের অন্যতম প্রতিভাবান ফুটবল খেলোয়াড় হিসেবে উল্লেখ করে বিশ্বকর্মা ঘটনাটিকে মর্মান্তিক বলেই অভিহিত করেন। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলেই জানা যাবে ফুটবলারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ।
ঠিক কী হয়েছিল
তিন দিনব্যাপী দিন-রাতের ফুটবল টুর্নামেন্ট চলাকালীন এই ঘটনাটি ঘটেছিল। ফুটবলারের মৃত্যুর আগের মুহূর্তের ভিডিও প্রকাশ্যে এসেছে। যেখানে তাঁর সংঘর্ষের মুহূর্তটি ধরা পড়েছে। ভিডিয়োতে দেখা গিয়েছে যে, কাজরা বল নিয়ে দৌড়নোর সময় প্রতিপক্ষের এক খেলোয়াড় তাঁকে স্লাইডিং ট্যাকল করেন,আর এরপরেই তিনি মাটিতে পড়ে যান। ট্যাকলটি প্রাথমিক ভাবে তেমন গুরুতর মনে না হলেও, ফুটবলার মুহূর্তে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। অন্য খেলোয়াড়রা দ্রুত তাঁর কাছে ছুটে আসেন এবং ম্যাচ সাময়িক ভাবে বন্ধ হয়ে যায়। কাজরার শারীরিক অবস্থা আশঙ্কাজনক মনে হওয়ায় তাঁকে ডিভিসি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসকরা তাঁর চিকিৎসা শুরু করেন। তবে চিকিৎসায় কোনও সাড়া না মেলায় ওই রাতেই তাঁকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
কী বলছে হাসপাতাল
ডিভিসি হাসপাতালের চিকিৎসক অরবিন্দ কুমার জানিয়েছেন যে, কাজরার শরীরে কোনও বাহ্যিক আঘাতের চিহ্ন ছিল না। তিনি আরও বলেন, মৃত্যুর কারণ হিসেবে কোনও অভ্যন্তরীণ আঘাত রয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে ময়নাতদন্তের প্রয়োজন। অরবিন্দ কুমার জানান, ব্যক্তি এক রোগীকে নিয়ে এসেছিলেন। পরীক্ষার পর দেখা যায় যে, তাঁকে মৃত অবস্থায় আনা হয়েছে। তাঁর পরিচয় পাওয়া গিয়েছে। তিনি খামভরা বস্তির বাসিন্দা কাজরা মুর্মু। সেখানে আয়োজিত এক টুর্নামেন্টে তিনি ফুটবল খেলছিলেন। খেলার সময় হঠাৎ তিনি মাঠেই লুটিয়ে পড়েন এবং সঙ্গে সঙ্গে জ্ঞান হারান। তাঁকে যখন এখানে আনা হয়, ততক্ষণে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল। বাইরে থেকে কোনও আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়নি। তবে কোনও অভ্যন্তরীণ আঘাত আছে কি না, তা ময়নাতদন্তের মাধ্যমেই জানা যাবে।’ খেলতে গিয়ে না ফেরার দেশে চলে যাওয়ার ঘটনা এখন আকছার শোনা যায়। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই জানা যায় হৃদরোগই মৃত্যুর কারণ।
