)
বাবা জানান, রাত ২টো নাগাদ তিনি ফের মাকে ফোন করেন। ফোনে তরুণী জানান, তাঁকে বেধড়ক মারধর করা হচ্ছে। তিনি কেঁদে বলেন, ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ এর পরেই হঠাৎ ফোন কেটে যায়। পরিবারের অনুমান, তখনই তাঁর ফোনটি ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছিল। বাবার আরও অভিযোগ, মেয়েকে দড়ি দিয়ে বেঁধে রেখেছিল অভিযুক্তরা। তাঁর শরীরের গভীর ক্ষতচিহ্নই প্রমাণ করে যে মৃত্যুর আগে চরম নির্যাতন চালানো হয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গুয়াহাটির আজারা এলাকার একটি হোমস্টে থেকে উদ্ধার গৌহাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ বছর বয়সী ছাত্রীর দেহ। গত শনিবার ভোরে অচৈতন্য অবস্থায় উদ্ধার করার পর হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। এই ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিস তাঁর প্রেমিক তথা মূল অভিযুক্ত ২৬ বছর বয়সী আসিফ আলিকে গ্রেফতার করেছে। আসিফের দাবি, তরুণী সিলিং ফ্যানে ঝুলে আত্মহত্যা করেছেন। তবে পুলিস এই বয়ান অন্ধের মতো বিশ্বাস করতে নারাজ। মৃত্যুর আসল কারণ খতিয়ে দেখতে ঘটনার সব দিক তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। অন্যদিকে, মৃত ছাত্রীর বাবার বিস্ফোরক অভিযোগ। মেয়ের মৃত্যুকে তিনি নৃশংস ধর্ষণ ও পরিকল্পিত খুন বলে দাবি করেছেন।
পশ্চিম গুয়াহাটির ডিসিপি বলিন দেওরি জানিয়েছেন, ধৃত আসিফ আলিকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চলছে। তাঁর কথায়, ‘অভিযুক্ত আসিফ দাবি করছে যে তরুণী ফ্যানে ফাঁস লাগিয়ে আত্মহত্যা করেছেন। কিন্তু ওর এই কথা সত্যি না মিথ্যা, তা তদন্তেই স্পষ্ট হবে। আমরা কারও কথাই চোখ বন্ধ করে বিশ্বাস করছি না।’ পুরো বিষয়টি উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে স্পষ্ট করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিস।
পুলিস সূত্রে খবর, শনিবার ভোর প্রায় সাড়ে চারটে নাগাদ তরুণীকে অচৈতন্য অবস্থায় প্রথমে গার্ল প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে তাঁকে গৌহাটি মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। তরুণীর দেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তিনি যে হোমস্টেতে গত ২০ সেপ্টেম্বর থেকে থাকছিলেন, সেখানকার সামগ্রী ও অন্যান্য তথ্যপ্রমাণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তরুণী সোশিওলজির ছাত্রী ছিলেন এবং তিনি ধারাপুরের বাসিন্দা।
এদিকে ধৃত আসিফের বাবা আশিক আলির দাবি, তরুণী ও আসিফের মধ্যে প্রায় পাঁচ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। তিনি জানান, ঘটনার দিন আসিফ অসুস্থ ছিল এবং সারা দিন ঘুমিয়েছিল। বিকেলে ওই তরুণীর ফোন পেয়ে সে বাড়ি থেকে বের হয়। তবে সে কোথায় যাচ্ছে, তা পরিবারের কাউকে জানায়নি। পরের দিন পরিবার তরুণীর মৃত্যুর খবর জানতে পারে। আসিফের বাবা আরও জানান, তাঁদের সামাজিক, আর্থিক ও ধর্মীয় পার্থক্যের কারণে তাঁর স্ত্রী আগে এই সম্পর্ক নিয়ে সতর্ক করেছিলেন।
আসিফের মা জানান, তরুণী একবার তাঁদের বাড়িতে ইদের সময় এসে খেয়ে গিয়েছিলেন। তিনি তাঁকে বুঝিয়েছিলেন যে তাঁরা মুসলিম এবং দিনমজুরের দরিদ্র পরিবার, আর তরুণী হিন্দু। আসিফ পেশায় একজন পেইন্টার এবং মাঝে মাঝে র্যাপিডো চালান। তিনি বিএ তৃতীয় সেমিস্টার পর্যন্ত পড়াশোনা করেছেন। তরুণীর পরিবার এই সম্পর্কের কথা জানত কি না, সে বিষয়ে তাঁর কোনও ধারণা নেই। তবে তিনি সাফ জানিয়েছেন, ‘আমার ছেলে যদি দোষী হয়, তবে ওর শাস্তি পাওয়া উচিত। আমি মেয়েটির জন্য সুবিচার চাই।’
পুলিস জানিয়েছে, ওই হোমস্টেতে কেবল দু’জনই ছিলেন। গত শনিবার ভোরে যে দু’জন ব্যক্তি আসিফের সঙ্গে তরুণীকে হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলেন, তাঁরা ওই হোমস্টের কর্মী। পুলিস তরুণী ও আসিফের প্রেমের সম্পর্কের দিকটিও যাচাই করে দেখছে। আসিফের আত্মহত্যার দাবি এখনও সন্দেহজনক, তাই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে তদন্ত জারি রেখেছে পুলিস।
(Feed Source: zeenews.com)
