)
ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে ২০২৫ সালের সামরিক সংঘাত থামানোর জন্য মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছে শাহবাজ শরিফ। রাষ্ট্রপুঞ্জের মঞ্চে আমেরিকার প্রশংসা-সহ পাকিস্তানের মিথ্যাচার ও সন্ত্রাসবাদ নিয়ে শাহবাজ দ্বিচারিতা করেছেন! যাবতীয় ইস্যু ধরেই আন্তর্ডাতিক মঞ্চে ভারত ধুয়ে দিল পাকিস্তানকে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাষ্ট্রপুঞ্জে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের বক্তব্যের কড়া জবাব দিয়েছে ভারত। ‘উত্তর দেওয়ার অধিকার’ (রাইট টু রিপ্লাই) প্রয়োগ করেছে ভারত। রাষ্ট্রপুঞ্জে ভারতের পার্মানেন্ট মিশনের ফার্স্ট সেক্রেটারি পেটাল গেহলট ইসলামাবাদকে ধুয়ে দিয়ছে। সন্ত্রাসবাদকে প্রশ্রয় দেওয়ার পাশাপাশি দ্বিমুখী নীতি অবলম্বনের দায়ে শত্রুদেশকে অভিযুক্ত করেছেন পেটাল। সাফ বলেছেন বারবার মিথ্যা বললেই তা সত্যি হয়ে যায় না। সন্ত্রাসবাদের বিষয়ে পাকিস্তানের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে পেটাল জানান যে, ৯/১১ হামলার মূলচক্রী ওসামা বিন লাদেনকে পাকিস্তানের অ্যাবোটাবাদেই পাওয়া গিয়েছিল। জম্মু-কাশ্মীরের প্রসঙ্গ তুলে পেটাল বলেছেন, ভূ-স্বর্গ ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ। তিনি পাকিস্তান-অধিকৃত জম্মু ও কাশ্মীরের পরিস্থিতি এবং সেখানকার জনগণের অধিকারের বিষয়টি নিয়েও সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। ভারতের এই কূটনীতিক জানান, পাকিস্তানের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের নীতি অব্যাহত থাকলে ভারত আত্মরক্ষার অধিকার প্রয়োগ করবেই। পেটাল সোজা বলে দিয়েছেন যে, সন্ত্রাসবাদ, প্রতারণা এবং দ্বিমুখী নীতি—কোনওটাই পাকিস্তান বা বিশ্বের স্বার্থের অনুকূল নয়।
ফর্ম ৪৭’-এর সরকার পাকিস্তান
‘রাষ্ট্রপুঞ্জের সাধারণ পরিষদে পাকিস্তানের প্রতিনিধি অত্যন্ত অদ্ভুত কিছু কথা বলেছেন। এমন এক সময়ে এই বক্তব্য এল, যখন মাত্র দু’সপ্তাহ আগেই নিউইয়র্ক ও পুরো বিশ্ব ভয়াবহ ৯/১১ সন্ত্রাসী হামলার ২৫তম বার্ষিকী পালন করেছে। এই প্রেক্ষাপটে আমাদের মনে রাখা জরুরি, ৯/১১ হামলার মূলচক্রী ওসামা বিন লাদেন পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর প্রধান অ্যাকাডেমির ঠিক পাশেই বাস করতেন। আর আজ, পাকিস্তানের প্রতিনিধি সেই সেনাবাহিনীরই ভূয়সী প্রশংসা করলেন। তবে পাকিস্তানে এমনটা হওয়া মোটেও আশ্চর্যজনক নয়। পাকিস্তানেই এই সরকারকে ফর্ম ৪৭-এর সরকার বলা হয়। গণতান্ত্রিক অধিকার ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আমরা এমন এক সরকারের কাছ থেকে বয়ান শুনছি, যাদের রাজধানী বর্তমানে খোদ নিজেদের জনগণের হাত থেকে রক্ষার জন্য কড়া নিরাপত্তা বলয়ে রাখা হয়েছে। এর কারণ হলো, সেনাবাহিনীর সরকার, সেনাবাহিনীর দ্বারা গঠিত এবং সেনাবাহিনীর জন্যই পরিচালিত।’ সরকারে হয়তো মুখের পরিবর্তন ঘটে, কিন্তু প্রকৃত সিদ্ধান্ত কারা নেয়, তা নিয়ে কোনও বিভ্রান্তি থাকা উচিত নয়।’ পাকিস্তানের সংবিধানের ২৭তম সংশোধনী এবং দেশটির প্রকৃত শাসককে দেওয়া আজীবন আইনি সুরক্ষা বা দায়মুক্তি থেকেও পাকিস্তানের এই বাস্তবতা ফুটে ওঠে।
দিনে নিরাপদ আর রাতে সন্ত্রাসবাদ
পেটাল আরও বলেন যে, আমরা যেসব মতামত শুনেছি তা এমন সব মানুষের কাছ থেকে এসেছে যাদের ধর্মান্ধতা ও বিদ্বেষ ছড়ানোর দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। তারা দিনের বেলায় নিরাপত্তার কথা বলে, অথচ রাতের বেলা সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপ চালায়। আজ এই সভাতেই ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা নিয়ে বক্তব্য রাখা হলো, অথচ পাকিস্তানের শাসনব্যবস্থায় ধর্ম অবমাননা সংক্রান্ত আইনের (ব্লাসফেমি আইন) বড় ভূমিকা রয়েছে। পাকিস্তানে সংখ্যালঘুদের সঙ্গে কেমন আচরণ করা হয়, তা বিশ্ব জানে। মিষ্টি ও লোক দেখানো কথা বলে বিশ্বকে বিভ্রান্ত করা যাবে না। ‘পাকিস্তানের প্রতিনিধি ভারতের কেন্দ্রশাসিত অঞ্চল জম্মু ও কাশ্মীরের প্রসঙ্গ তুলেছেন। আমি স্পষ্ট করে বলতে চাই যে, জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অবিচ্ছেদ্য ও অবিভাজ্য অংশ এবং চিরকাল তাই থাকবে। তবে কাশ্মীর নিয়ে যদি কথা বলতেই হয়, তবে পাকিস্তানের দখলে থাকা জম্মু ও কাশ্মীরের কথাও বলতে হবে। রাওয়ালকোটের মানুষদের জিজ্ঞাসা করে দেখুন, দীর্ঘ সময় ধরে তারা কী ধরনের হত্যাকাণ্ড, সহিংসতা এবং মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চনার শিকার হয়ে আসছেন।’
সন্ত্রাসবাদ থেকে সুরক্ষা ভারতের অধিকার
পেটাল বলেন, ‘এই পুরো বিষয়র মূলে রয়েছে পাকিস্তানের দীর্ঘদিনের আন্তঃসীমান্ত সন্ত্রাসবাদের নীতি। আমরা গত বছরই প্রমাণ করেছি যে, সন্ত্রাসীদের জন্য কোনও নিরাপ আশ্রয় বা লুকানোর জায়গা থাকবে না। সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নিজেদের রক্ষা করার অধিকার আমাদের রয়েছে এবং আমরা সেই অধিকার প্রয়োগ করব। পাকিস্তানে য সন্ত্রাসবাদ অব্যাহত থাকে, তবে তার পরিণাম ভোগ করতে হবে। এর প্রভাব বন্ধুত্ব ও সদিচ্ছার ওপর গড়ে ওঠা সম্পর্কের ওপরও পড়বে। আমরা নিশ্চিত যে, এই সাধারণ পরিষদ পাকিস্তান ও তার নীতিগুলোকে তাদের প্রকৃত রূপেই দেখবে—পাকিস্তানের প্রতিনিধি সেগুলোকে যেভাবে তুলে ধরার চেষ্টা করেন, সেভাবে নয়। প্রতি বছর মিথ্যা কথা পুনরাবৃত্তি করলেই তা সত্য হয়ে যায় না। পাকিস্তানের সন্ত্রাসবাদ, প্রতারণা ও দ্বিমুখী আচরণ—কোনোটাই তার নিজের বা বিশ্বের জন্য কল্যাণকর নয়।’ পেটাল আরও একবার তাঁর জাত চিনিয়ে দিলেন…
