হস্তশিল্পকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়ে মহিলাদের আত্মনির্ভর করতে শুরু হল ‘প্রোজেক্ট মাতঙ্গিনী’

হস্তশিল্পকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়ে মহিলাদের আত্মনির্ভর করতে শুরু হল ‘প্রোজেক্ট মাতঙ্গিনী’

হস্তশিল্পকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়ে মহিলাদের আর্থিকভাবে আত্মনির্ভর করে তুলতে শুরু হয়েছে ‘প্রোজেক্ট মাতঙ্গিনী’। এই উদ্যোগে তৈরি হচ্ছে নতুন কাজ ও আয়ের সুযোগ।

হস্তশিল্পকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়ে মহিলাদের আত্মনির্ভর করার উদ্যোগ

তমলুক, সৈকত শী: পূর্ব মেদিনীপুরের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের সূচনা করল জেলা পরিষদ। বীরাঙ্গনা শহিদ মাতঙ্গিনী হাজরার অমর স্মৃতি ও অদম্য লড়াকু মনোভাবকে পাথেয় করে স্বনির্ভরতার নতুন অধ্যায় উন্মোচিত হলো ‘প্রোজেক্ট মাতঙ্গিনী’-র হাত ধরে। জেলার প্রতিটি কোণায় ছড়িয়ে থাকা ঐতিহ্যবাহী হস্তশিল্পকে বাণিজ্যিক রূপ দিয়ে মহিলাদের আত্মনির্ভর করে তোলাই এই বৃহৎ উদ্যোগের মূল চালিকাশক্তি। তমলুকের শহিদ মাতঙ্গিনী ব্লক উন্নয়ন অধিকারিকের (বিডিও) অফিসে আয়োজিত নিবিড় কর্মশালার মধ্য দিয়ে শুরু হল প্রকল্পের প্রথম ধাপের প্রশিক্ষণ, যা চলবে আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত।

জেলা গ্রামোন্নয়ন শাখার (ডিআরডিসি) আওতাধীন প্রায় ৮০ হাজার স্বনির্ভর গোষ্ঠীর আর্থিক ক্ষমতায়নই এই প্রকল্পের কেন্দ্রবিন্দু। তমলুক ও সংলগ্ন অঞ্চলের গয়নাবড়ি, কাঁসা-পিতল, পরচুলা, দোলনা, হস্তশিল্প ও ফুলচাষের মতো নিজস্ব আঞ্চলিক পণ্যকে আধুনিক বাজারের উপযোগী করে তোলাই মূল লক্ষ্য। প্রথম পর্যায়ে ‘জুট কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া’-র সরাসরি সহায়তায় ১০০ জন মহিলাকে আধুনিক ও উন্নত মানের পাটজাত সামগ্রী তৈরির পেশাদার তালিম দেওয়া হচ্ছে। এই পণ্যের গুণগত মান আন্তর্জাতিক স্তরে উন্নীত করতে আইআইটি খড়্গপুর এবং কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কারিগরি ও প্রযুক্তিগত সাহায্য নেওয়া হচ্ছে।

প্রকল্পটির রূপরেখা তৈরি করা হয়েছে অত্যন্ত দূরদর্শী ও সুসংগঠিত মডেলে। বর্তমানে প্রশিক্ষণরত এই ১০০ জন মহিলাই আগামী দিনে ‘মাস্টার ট্রেইনার’ বা প্রশিক্ষক হিসেবে জেলার বিভিন্ন ব্লকে গিয়ে অপরাপর স্বনির্ভর গোষ্ঠীর মহিলাদের তৈরি করবেন। জেলা পরিষদের লক্ষ্য কেবল পণ্য উৎপাদন শেখানোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; প্রস্তুতকৃত সামগ্রীর ব্র্যান্ডিং, ডিজিটাল বিপণন এবং ব্যবসা প্রসারের জন্য সহজ শর্তে ব্যাঙ্ক ঋণের দ্রুত অনুমোদন সুনিশ্চিত করা হচ্ছে। এর ফলে এক বিশাল স্বনির্ভর নেটওয়ার্ক গড়ে উঠবে গোটা জেলা জুড়ে।

প্রশিক্ষণ শিবির পরিদর্শনে এসে জেলা পরিষদের সভাধিপতি বামদেব গুছাইত জানান, নারীদের অর্থনৈতিক স্বাধীনতা ও সামাজিক মর্যাদা বৃদ্ধিই জেলা প্রশাসনের প্রধান উদ্দেশ্য। আগামী ২৯ সেপ্টেম্বর মাতঙ্গিনী হাজরার শহিদ দিবসে প্রশিক্ষণার্থীদের আলিনান গ্রামে অবস্থিত তাঁর স্মৃতিকক্ষে নিয়ে যাওয়া হবে দেশাত্মবোধ ও সামাজিক কাজের অনুপ্রেরণা জুগাতে। অতঃপর ৩০ সেপ্টেম্বর জমকালো অনুষ্ঠানে শংসাপত্র হস্তান্তরের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে এই রূপান্তরের প্রথম মেয়াদের।

(Feed Source: news18.com)