)
Gold Price Massive Fall: আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪,৩৪৫.৯৯ ডলারে নেমে আসে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রেখে ডিসেম্বরের ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচার্স ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪,৩৮২.৭০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ বাজারে সোনা এবং রুপোর দামে বুধবার বড় পতন। মার্কিন ডলারের শক্ত অবস্থান এবং বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর দীর্ঘ সময় ধরে উচ্চ সুদের হার বজায় রাখায় বাজারে এই দরপতন। বিশ্ববাজারে স্পট গোল্ড ও রুপোর পাশাপাশি প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দামও কমে গিয়েছে।
আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম প্রায় ০.২ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৪,৩৪৫.৯৯ ডলারে নেমে আসে। তবে দীর্ঘমেয়াদি ক্ষেত্রে ইতিবাচক প্রবণতা বজায় রেখে ডিসেম্বরের ডেলিভারির জন্য মার্কিন গোল্ড ফিউচার্স ০.২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্সে ৪,৩৮২.৭০ ডলারে লেনদেন হয়েছে।
শুধু সোনাই নয়, চাপের মুখে পড়েছে অন্যান্য মূল্যবান ধাতুও। বিশ্ববাজারে স্পট সিলভার বা রুপোর দাম ০.৪ শতাংশ কমে প্রতি আউন্সে ৬৬.৭৮ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
একই সঙ্গে প্ল্যাটিনামের দাম ০.৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ১,৮১৮.২১ ডলার এবং প্যালাডিয়ামের দর ০.৪ শতাংশ কমে ১,৩০২.৬১ ডলারে নেমে এসেছে।
দাম কমার প্রধান কারণ কী কী?
বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, সোনা ও রুপোর দামে এই সাময়িক পতনের পিছনে একাধিক আন্তর্জাতিক কারণ কাজ করছে:
১. সুদের হারের চাপ: মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভ ইঙ্গিত দিয়েছে যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বছরের শেষ নাগাদ সুদের হার আরও বাড়ানো হতে পারে। ইউরোপীয় সেন্ট্রাল ব্যাংক এবং ব্যাংক অব জাপানও মুদ্রানীতি কঠোর রাখায় ধাতু বাজারে চাপ তৈরি হয়েছে। সাধারণত সুদের হার বাড়লে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে সোনার আকর্ষণ কিছুটা কমে যায়।
২. শক্তিশালী মার্কিন ডলার: বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের সূচক দুই মাসের সর্বোচ্চ স্তরের কাছাকাছি অবস্থান করায় আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের জন্য ডলারে মূল্যায়িত সোনা কেনা কিছুটা ব্যয়বহুল হয়ে পড়েছে।
৩. শেয়ার বাজারের চাঙ্গা ভাব: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (AI) প্রযুক্তির প্রতি বিনিয়োগকারীদের উৎসাহ বৃদ্ধির ফলে এশীয় শেয়ার বাজার টানা বেশ কিছুদিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী। ঝুঁকিপূর্ণ সম্পদে বিনিয়োগ বাড়ায় নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনায় চাপ পড়েছে।
ভবিষ্যতের পূর্বাভাস
স্বল্পমেয়াদে দাম কিছুটা কমলেও মূল্যবান ধাতুর দীর্ঘমেয়াদি সম্ভাবনা যথেষ্ট ইতিবাচক রয়েছে।
গবেষণা সংস্থা বিএমআই (BMI) ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং বিশ্বজুড়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর সোনা কেনার ধারাবাহিক চাহিদার কারণে গড়ে সোনার পূর্বাভাস ইতিবাচক রেখেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এবং বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিয়মিত সঞ্চয় সোনার দামকে শক্ত ভিতের ওপর টিকিয়ে রাখবে।
সার্বিকভাবে, ভারতীয় বাজারে আন্তর্জাতিক দরের প্রভাব পড়ায় খুচরো দোকানে সোনা ও রুপোর গয়না ক্রেতা এবং নতুন বিনিয়োগকারীদের জন্য এই মূল্যহ্রাসকে একটি ভালো সুযোগ হিসেবে দেখছেন বাজার পর্যবেক্ষকেরা।
(Feed Source: zeenews.com)
