)
Persistent Mullerian Duct Syndrome: এক অত্যন্ত বিরল জন্মগত শারীরিক অবস্থান। চিকিৎসা-সংক্রান্ত নথিতে এখনও পর্যন্ত এই রোগের ৩০০টিরও কম উল্লেখ রয়েছে! আর এবার ২৬ বছরের যুবকের শরীরে জরায়ু! পেটের মধ্যে জোড়া অণ্ডকোষও!
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২৬ বছর বয়সী এক যুবকের শরীরে ‘পারসিস্টেন্ট মুলারিয়ান ডাক্ট সিনড্রোম’ (পিএমডিএস) ধরা পড়ল। এখন প্রশ্ন পিএমডিএস কী? এটি এক অত্যন্ত বিরল জন্মগত অবস্থা। স্বাভাবিক পুরুষ ক্রোমোজোম ও শারীরিক গঠন থাকা সত্ত্বেও যখন জৈবিক ভাবে পুরুষের শরীরে জরায়ু ও ফ্যালোপিয়ান টিউব বা যোনির মতো নারী প্রজনন অঙ্গের বিকাশ ঘটে, তখন এই অবস্থার সৃষ্টি হয়! বোঝাই যাচ্ছে কী বিরল অবস্থা। দেখতে গেলে সাধারণত শৈশবেই এই রোগ ধরা পড়ে। তবে প্রাপ্তবয়স্ক কারোর বন্ধ্যাত্ব পরীক্ষার সময় প্রথমবারের মতো বিরল জন্মগত ও জিনগত রোগ ধরা পড়া বেশ অস্বাভাবিক ঘটনা। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, পরীক্ষার সময় দেখা যায় যে ওই ব্যক্তির দু’টি অণ্ডকোষই শরীরের ভিতরে রয়ে গিয়েছিল (অর্থাৎ তা নীচে নেমে আসেনি) এবং একটিতে ক্যানসার-পূর্ববর্তী পরিবর্তনও দেখা গিয়েছিল। এর আগে তিনি প্রাথমিক বন্ধ্যাত্বের চিকিৎসা করতে গিয়ে জানতে পারেন তাঁর ‘অ্যাজোস্পার্মিয়া’রয়েছে। যার অর্থই হল তাঁর বীর্যে কোনও শুক্রাণু নেই। যেহেতু অণ্ডকোষ দু’টি নীচে নামেনি, তাই এর মূল কারণ নির্ণয়ের জন্য চিকিৎসকরা আরও কিছু ইমেজিং ও জেনেটিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা করেন। বিস্তারিত পর্যালোচনার পর, অস্বাভাবিক প্রজনন অঙ্গ এবং মারাত্মক ভাবে ক্ষতিগ্রস্ত অণ্ডকোষ দুটি অপসারণের জন্য ওই ব্যক্তির ল্যাপারোস্কোপিক অস্ত্রোপচার করা হয়।
কীভাবে বুঝলেন ডাক্তাররা, কেনই বা অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত!
২৬ বছর বয়সী ওই রোগীর এমআরআই স্ক্যান করা হয়। এতে পেলভিস বা শ্রোণি অঞ্চলে জরায়ুর মতো এক গঠন এবং ফ্যালোপিয়ান টিউবের মতো কিছু কাঠামোর উপস্থিতি ধরা পড়ে। এছাড়া জেনেটিক পরীক্ষায় ৪৬ এক্সওয়াই ক্রোমোজোম বিন্যাস পাওয়া যায়, স্বাভাবিক পুরুষ ক্রোমোজোম বিন্যাস বা ক্যারিওটাইপ। এর ফলেই চিকিৎসকরা পিএমডিএসের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখার সিদ্ধান্ত নেন। রাজৌরি গার্ডেনের আরজি হাসপাতালে ওই রোগীর চিকিৎসা হয়েছে। চিকিৎসকরা ল্যাপারোস্কোপিক পদ্ধতির মাধ্যমে পরীক্ষা চালিয়ে নিশ্চিত হন যে, রোগীর পেটের ভিতরে থাকা অণ্ডকোষ দু’টির সাথে নলাকার মুলারিয়ান গঠন এবং একটি ছোট ও অপরিপক্ব জরায়ু বিদ্যমান। রোগীর বয়স এবং দীর্ঘ সময় ধরে অণ্ডকোষের নীচে নেমে না আসা, অণ্ডকোষের মারাত্মক ক্ষতি এবং ক্যানসারের উচ্চ ঝুঁকির বিষয়টি বিবেচনা করেই শল্যচিকিৎসকের দল ল্যাপারোস্কোপিক সার্জারির মাধ্যমে মুলারিয়ান গঠন ও অণ্ডকোষ দুটি অপসারণ করে। হাসপাতালের প্রধান ইউরোলজিস্ট ডা. সুশীল খারবান্দা এই অস্ত্রোপচার করেছেন। তিনি বলেন, “এটি অত্যন্ত অস্বাভাবিক ঘটনা ছিল। কারণ রোগী আমাদের কাছে এসেছিলেন বন্ধ্যাত্বের সমস্যা নিয়ে, অথচ তাঁর মূল শারীরিক সমস্যাটি প্রাপ্তবয়স্ক হওয়া পর্যন্ত শনাক্তই হয়নি। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে যে, তাঁর পেটের ভিতরে অণ্ডকোষ দু’টির পাশাপাশি স্থায়ী মুলারিয়ান গঠনও বিদ্যমান ছিল। অণ্ডকোষ দু’টি মারাত্মকভাবে সংকুচিত বা অকার্যকর হয়ে গিয়েছিল, যা ছিল বড় উদ্বেগের বিষয়; কারণ অণ্ডকোষ নীচে নেমে না এলে তাতে ক্যানসারের ঝুঁকি বেশি থাকে। তাই অস্বাভাবিক শারীরিক গঠন এবং দীর্ঘমেয়াদী স্বাস্থ্যঝুঁকি, দুই বিবেচনা করে আমাদের অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে অস্ত্রোপচারের সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল।’
পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ যা চমকে দিয়েছে ডাক্তারদের
অস্ত্রোপচারের পর অণুবীক্ষণ যন্ত্রের নীচে টিস্যু বা কলা পরীক্ষার সময় সবচেয়ে অপ্রত্যাশিত বিষয়টি ধরা পড়ে। অণ্ডকোষ দু’টি মারাত্মকভাবে সংকুচিত হয়ে গিয়েছিল, তবে বাঁ অণ্ডকোষটিতে ‘জার্ম সেল নিওপ্লাসিয়া ইন সিটু’ (জিসিএনআইএস) পাওয়া যায়। এটি ক্যান্সারের পূর্ববর্তী একটি পরিবর্তন যা পরবর্তীতে অণ্ডকোষের ক্যান্সারে রূপ নিতে পারে। ডান অণ্ডকোষে মারাত্মক সংকোচন দেখা গেলেও, সেখানে জিসিএনআইএসের কোনও লক্ষণ পাওয়া যায়নি। তবে সাধারণ টেস্টিকুলার টিউমার মার্কারের জন্য করা রোগীর রক্ত পরীক্ষায় স্বাভাবিক ফলাফলই পাওয়া গিয়েছিল। এটি প্রমাণ করে যে, টিউমার মার্কারের মাত্রা স্বাভাবিক থাকলেও অণ্ডকোষে প্রাথমিক বা ক্যানসার-পূর্ববর্তী পরিবর্তন থাকার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যায় না, বিশেষ করে দীর্ঘ সময় ধরে অণ্ডকোষ নীচে নেমে না আসা রোগীদের ক্ষেত্রে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে জীবনের শুরুর দিকেই পিএমডিএস ধরা পড়ে। প্রায়শই অণ্ডকোষ নীচে নেমে না আসার সমস্যার জন্য কোনও শিশুর পরীক্ষা-নিরীক্ষা বা চিকিৎসার সময় এটি ধরা পড়ে। প্রাপ্তবয়স্ক অবস্থায় বন্ধ্যাত্বের কারণ অনুসন্ধানের সময় প্রথম বারের মতো এই অবস্থাটি শনাক্ত হওয়া বিরল। প্রাথমিকভাবে পুরুষজনিত বন্ধ্যাত্ব বলে মনে হলেও, পরে চিকিৎসকরা একটি বিরল জন্মগত সমস্যা এবং ক্যানসারের অপ্রত্যাশিত ঝুঁকির বিষয়টি উদঘাটন করতে সক্ষম হন। এছাড়া উভয় পাশের অণ্ডকোষ নীচে নেমে না আসার সমস্যার পাশাপাশি কোনও কারণ ছাড়াই বন্ধ্যাত্ব দেখা দিলে তার যথাযথ অনুসন্ধানের গুরুত্বও এই ঘটনাটি তুলে ধরে। ইমেজিং, জেনেটিক পরীক্ষা, ল্যাপারোস্কোপিক পরীক্ষা এবং টিস্যুর বিশদ বিশ্লেষণের সমন্বিত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে চিকিৎসকরা এই শারীরিক অবস্থা এবং ক্যানসার পূর্ববর্তী পরিবর্তনটি শনাক্ত করতে সক্ষম হন।
(Feed Source: zeenews.com)
