)
Cancer vaccine: এই টিকা প্রয়োগ করলে ক্যান্সার ফিরে আসা বা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে।কম্বিনেশন থেরাপি ক্যান্সার ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিচ্ছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ক্যান্সার চিকিৎসায় বড় সাফল্য। মাইলস্টোন অ্যাচিভমেন্টের সামনে দাঁড়িয়ে ফার্মাসিউটিক্যাল জায়ান্ট ‘মডার্না’। ‘মডার্না’ এবং ‘মার্ক’-এর যৌথ উদ্যোগে তৈরি পার্সোনালাইজড এমআরএনএ (mRNA) ক্যান্সার ভ্যাকসিনের চূড়ান্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে মিলেছে অভূতপূর্ব সাফল্য। দেখা গিয়েছে, ত্বকের ক্যান্সারের সবচেয়ে মারাত্মক রূপ ‘মেলানোমা’-তে আক্রান্ত রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর এই টিকা প্রয়োগ করলে ক্যান্সার ফিরে আসা বা শরীরের অন্যান্য অংশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পাচ্ছে।
ইনটিসনেরান’ নামের এই এমআরএনএ ভ্যাকসিনটি মার্কিন ফার্মাসিউটিক্যাল সংস্থা মার্ক-এর জনপ্রিয় ইমিউনোথেরাপি ওষুধ ‘কিস্রুডা’-র সাথে যৌথভাবে প্রয়োগ করা হয়। ফেজ-৩ ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে মোট ১,১৩৭ জন মেলানোমার রোগীর শরীরে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করা হয় অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে টিউমার অপসারণের পর। দেখা গেছে, শুধুমাত্র কিস্রুডা ওষুধ ব্যবহারের থেকে কিস্রুডাকে এমআরএনএ ভ্যাকসিন ‘ইনটিসনেরান’-এর সঙ্গে যৌথভাবে প্রয়োগে ক্যানসার পুনরায় ফিরে আসা ও অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি অনেকটাই হ্রাস পেয়েছে। কম্বিনেশন থেরাপি ক্যান্সার ফিরে আসা বা মৃত্যুর ঝুঁকি প্রায় ৪৯ শতাংশ পর্যন্ত কমিয়ে দিচ্ছে।
কীভাবে কাজ করে এই পার্সোনালাইজড ভ্যাকসিন?
সংক্রামক ব্যাধির সাধারণ ভ্যাকসিনের মতো এই ক্যান্সার টিকা রোগ প্রতিরোধের জন্য আগে থেকে দেওয়া হয় না। এটি প্রতিটি ক্যান্সার রোগীর জিনগত বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে সম্পূর্ণ পার্সোনালাইজড ভাবে তৈরি করা হয়। অস্ত্রোপচারের পর রোগীর টিউমারের কোষ সংগ্রহ করে তার বিশেষ জিনগত মিউটেশন বিশ্লেষণ করা হয়। তারপর এমআরএনএ প্রযুক্তির মাধ্যমে রোগীর শরীরের ইমিউনো সিস্টেমকে সুনির্দিষ্ট মিউটেশনযুক্ত ক্যান্সার কোষগুলোকে চেনার নির্দেশাবলী দেওয়া হয়। এর ফলে শরীর সহজেই ক্যান্সার কোষগুলোকে শনাক্ত করতে পারে। সেইসঙ্গে শরীরে বেঁচে থাকা অবশিষ্ট ক্যান্সার কোষগুলিকে ধ্বংস করে ক্যান্সারের ফিরে আসা আটকায়।
মডার্নার প্রেসিডেন্ট স্টিফেন হোগ জানিয়েন, চূড়ান্ত ক্লিনিক্যাল ট্রায়ালে ইতিবাচক ফলাফলের পর তাঁরা ইতিমধ্যেই নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছেন। ‘ব্রেক-থ্রু থেরাপি’ হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ায় আগামী বছরের মধ্যেই এই কম্বিনেশন থেরাপি চিকিৎসার জন্য উপলব্ধ হতে পারে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সাফল্য কেবল মেলানোমার চিকিৎসাতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না। গবেষকরা ইতিমধ্যেই ফুসফুস, স্তন ও অগ্ন্যাশয়ের ক্যান্সারের চিকিৎসায় এই পার্সোনালাইজড এমআরএনএ প্রযুক্তির ব্যবহার নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন। ফলে আগামী দিনে ক্যান্সার চিকিৎসায় আরও যুগান্তকারী পরিবর্তন আসা শুধু সময়ের অপেক্ষা।
(Feed Source: zeenews.com)
