)
Blue Drum Murder Case: পুলিসের দাবি, মাধবদাস সাধু ও তাঁর স্ত্রী উর্মিলা তিন মহিলা আত্মীয়কে খুন করেছিলেন। তাঁদের মধ্যে এক জনের দেহ সিমেন্টভর্তি নীল ড্রামে লুকিয়ে বাড়ির উঠোনে মাটির নীচে পুঁতে রাখা হয়েছিল। স্বামী-স্ত্রীকে গ্রেফতার করেছে আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চ।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: একটি খুনের অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে সামনে এল তিনটি খুনের রহস্য। ২০২২ সালে নিখোঁজ হওয়া ৭০ বছরের এক মহিলার দেহ চার বছর পর উদ্ধার করেছে পুলিস। আহমেদাবাদ ক্রাইম ব্রাঞ্চের তদন্তে ওই মহিলার পাশাপাশি আরও দুই মহিলাকে খুনের অভিযোগ উঠেছে এক দম্পতির বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত দম্পতি হলেন মাধবদাস সাধু এবং তাঁর স্ত্রী উর্মিলা।
পুলিস জানিয়েছে, মাধবদাস নিজেই পুলিসের কাছে গিয়ে অভিযোগ করেছিলেন যে তাঁর স্ত্রী উর্মিলা ও তাঁর এক আত্মীয়, শান্তাবেন বাসভাকে খুন করেছেন। কিন্তু তদন্ত শুরু হতেই মাধবদাসের বক্তব্যে বেশ কিছু অসঙ্গতি ধরা পড়ে। পুলিস ওই আত্মীয়কে জিজ্ঞাসাবাদ করে তাঁর বিরুদ্ধে খুনের সঙ্গে যুক্ত থাকার কোনও প্রমাণ পায়নি।এরপর তদন্তকারীদের সন্দেহ গিয়ে পড়ে অভিযোগকারী মাধবদাসের উপরই। জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিস জানিয়েছে, মাধবদাস শেষ পর্যন্ত তিনটি খুনের ঘটনায় নিজের এবং উর্মিলার ভূমিকার কথা স্বীকার করেন।
নীল ড্রামে লুকিয়ে রাখা হয়েছিল দেহ
তদন্তে জানা যায়, শান্তাবেন বাসভা নামে এক বৃদ্ধাকে ২০২২ সালে খুন করা হয়েছিল। তাঁর দেহ একটি ড্রামের মধ্যে ঢুকিয়ে তার ভিতর সিমেন্ট ভরে দেওয়া হয়। এরপর ড্রামটি বাড়ির উঠোনে গর্ত খুঁড়ে মাটির নীচে পুঁতে দেওয়া হয়। পুলিসের দাবি, ঘটনাটি গোপন রাখতে ড্রামের উপরেও সিমেন্টের পুরু স্তর দেওয়া হয়েছিল। পরে মাধবদাসের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওই জায়গায় খোঁড়াখুঁড়ি শুরু হয়। প্রায় চার-পাঁচ ফুট মাটি খোঁড়ার পর উদ্ধার হয় সিমেন্টভর্তি নীল ড্রাম, যার ভিতর থেকে শান্তাবেনের দেহাবশেষ পাওয়া যায়। দেহাবশেষ ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয়েছে।
আরও দুই মহিলাকে খুনের অভিযোগ
শান্তাবেনের মৃত্যুর তদন্ত করতে গিয়ে পুলিস আরও দুটি খুনের তথ্য পায়। পুলিসের দাবি, মাধবদাসের মা মঞ্জুলাবেন সাধু এবং উর্মিলার বোন ভগবতী বাসভা-কেও ২০২২ সালে খুন করা হয়েছিল। পুলিসের বক্তব্য অনুযায়ী, তিন মহিলাকেই শ্বাসরোধ করে খুন করা হয়েছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে। শান্তাবেনের দেহ ড্রামে লুকিয়ে রাখা হয়, ভগবতীর দেহ অন্য জায়গায় পুঁতে দেওয়া হয় এবং মঞ্জুলাবেনের দেহ দাহ করা হয়েছিল বলে তদন্তকারীদের দাবি।
স্ত্রীকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই সন্দেহের মুখে
পুলিসের দাবি, মাধবদাস এবং উর্মিলা কিছুদিন ধরে আলাদা থাকছিলেন। তাঁদের মধ্যে পারিবারিক বিরোধ ছিল। অভিযোগ, উর্মিলা তাঁদের ছেলেকে নিয়ে আলাদা থাকার পাশাপাশি গয়না ও টাকা নিয়ে চলে যাওয়ায় মাধবদাস ক্ষুব্ধ ছিলেন। পুলিসের অনুমান, সেই বিরোধের জেরেই উর্মিলা ও তাঁর আত্মীয়কে খুনের ঘটনায় জড়িত দেখাতে মাধবদাস পুলিসের কাছে অভিযোগ করেছিলেন। কিন্তু সেই অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়েই উল্টে তাঁর নিজের ভূমিকা সামনে আসে।
২০২২ সালে কোভিড পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে শান্তাবেনের মৃত্যুকেও স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছিল বলে পুলিসের দাবি। আত্মীয়দের জানানো হয়েছিল, তাঁকে হাসপাতাল থেকে সরাসরি শ্মশানে নিয়ে গিয়ে শেষকৃত্য করা হয়েছে। চার বছর পর সেই ঘটনার তদন্তে সামনে এল তিন মহিলার মৃত্যুর রহস্য। অভিযুক্ত দম্পতির বিরুদ্ধে তদন্ত ও আইনি প্রক্রিয়া এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে পুলিস।
(Feed Source: zeenews.com)
