)
2nd October Ban on Non veg food: নির্দেশ অনুযায়ী, শহরের কোথাও গরু, ছাগল বা ভেড়া জবাই করা যাবে না এবং কোনও দোকানে মাংস বিক্রিও করা যাবে না।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ২ অক্টোবর শুক্রবার জাতির জনক মহাত্মা গান্ধীর জন্মজয়ন্তী উপলক্ষ্যে দেশের একাধিক বড় শহরে মাংস ও মাছ বিক্রির উপর কড়া নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে রাজ্যের পুরপ্রশাসন। অহিংসার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া মহাত্মা গান্ধীর জন্মদিনে পশুহত্যা ও আমিষ বিক্রি বন্ধ রাখার এই ঐতিহ্য বেশ কয়েক বছর ধরেই বিভিন্ন রাজ্যে পালিত হয়ে আসছে। এই বছরও হায়দরাবাদ, রায়পুর, রাজকোট এবং বেঙ্গালুরুর মতো একাধিক গুরুত্বপূর্ণ শহরে কসাইখানা ও মাংসের দোকান বন্ধ রাখার সুস্পষ্ট নির্দেশিকা জারি করা হয়েছে।
তেলেঙ্গানার গ্রেটার হায়দরাবাদ মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (GHMC) এলাকার সমস্ত কসাইখানা ও মাংসের দোকান ২ অক্টোবর বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। GHMC কমিশনার আরভি কার্নান ১৯৫৫ সালের GHMC আইনের ধারা ৫৩৩(বি) অনুযায়ী এই নির্দেশিকা প্রকাশ করেছেন। নির্দেশ অনুযায়ী, শহরের কোথাও গরু, ছাগল বা ভেড়া জবাই করা যাবে না এবং কোনও দোকানে মাংস বিক্রিও করা যাবে না। নির্দেশ অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হায়দরাবাদ পুলিসের সক্রিয় সহযোগিতাও চেয়েছে পুরসভা।
রায়পুরে হোটেলে মাংস পরিবেশনেও কড়া নজরদারি
ছত্তীসগঢ়ের রায়পুর মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন এলাকায় গান্ধী জয়ন্তীতে সব ধরনের মাংস ও মাটন বিক্রির উপর সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা চাপানো হয়েছে। শুধু খুচরো দোকান বা জবাইখানাই নয়, পুরসভার নির্দেশিকায় স্পষ্ট বলা হয়েছে যে কোনও হোটেল বা রেস্তোরাঁতেও মাংসের পদ বিক্রি বা পরিবেশন করা যাবে না। নিয়ম ভাঙলে মাংস বাজেয়াপ্ত করা হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে কড়া আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
রাজকোটে মাছ ও মুরগির মাংস বিক্রিতেও রাশ
গুজরাটের রাজকোট মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন (RMC) গান্ধী জয়ন্তী উপলক্ষ্যে আরও কঠোর বিধিনিষেধ জারি করেছে। পুর কমিশনার তুষার সুমেরা এক বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছেন, ২ অক্টোবর গোটা শহরে সমস্ত কসাইখানা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকবে। এর পাশাপাশি সাধারণ মাংস, মাটন ছাড়াও মাছ এবং মুরগির মাংস (চিকেন) বিক্রিও পুরোপুরি নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।
বেঙ্গালুরুতেও জারি হয়েছে নির্দেশিকা
কর্ণাটকের বেঙ্গালুরুতেও এই বছর কড়া নিয়ম বলবৎ করা হয়েছে। গ্রেটার বেঙ্গালুরু অথরিটি (GBA)-এর আওতাধীন এলাকায় গান্ধী জয়ন্তীতে যে কোনো ধরনের পশু জবাই এবং মাংস বিক্রি সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ রাখা হয়েছে। নির্দেশ অমান্য করে কেউ গোপনে মাংস বিক্রির চেষ্টা করলে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।
রাজ্যভেদে ভিন্ন নিয়ম
ভারতে এই ধরনের খাদ্য বা দোকান সংক্রান্ত বিধিনিষেধ কোনো জাতীয় একক নির্দেশে চলে না; বরং এটি রাজ্য সরকার এবং স্থানীয় পুর কর্তৃপক্ষের এক্তিয়ারভুক্ত। তাই হায়দরাবাদ, ছত্তিশগড়, গুজরাট বা কর্ণাটকের নির্দিষ্ট কিছু পুর এলাকায় এমন কড়া নির্দেশিকা জারি হলেও দেশের সব রাজ্যে এই নিয়ম প্রযোজ্য নয়। উদাহরণস্বরূপ, পশ্চিমবঙ্গ বা কেরলের মতো রাজ্যে গান্ধী জয়ন্তীতে সাধারণত মাংস বা মাছের দোকান বন্ধ রাখার কোনো সরকারি বাধ্যবাধকতা থাকে না।
ফলে ২ অক্টোবর যেসব শহরে এই নির্দেশিকা কার্যকর হচ্ছে, সেখানকার বাসিন্দারা কোনও আমিষ রান্নার পরিকল্পনা থাকলে তাঁদের আগেই বিকল্প ব্যবস্থা সেরে রাখতে হবে।
(Feed Source: zeenews.com)
