10 batsman Most hundreds in a calendar year in Test: ক্রিকেট ইতিহাসে এক ক্যালেন্ডার বছরে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরি করা যে কোনও ব্যাটারের জন্যই অন্যতম বড় মাইলফলক। ২০০৬ সালে পাকিস্তানের মহম্মদ ইউসুফ এক বছরে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করে ঐতিহাসিক রেকর্ড গড়েছিলেন, যা আজ পর্যন্ত কেউ ভাঙতে পারেননি। তাঁর পাশাপাশি রিকি পন্টিং, ভিভিয়ান রিচার্ডস, সচিন তেন্ডুলকর এবং স্যার গারফিল্ড সোবার্সের মতো মহান ক্রিকেটাররাও তাঁদের ব্যাটের দাপটে বিশ্বের বোলারদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করেছিলেন এবং রেকর্ডের পাহাড় গড়েছিলেন। আসুন, টেস্টের সেই ১০ জন ব্যাটারের সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক, যাঁরা এক বছরে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করেছেন।
টেস্টে এক ক্যালেন্ডার বছরে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি করা ১০ ব্যাটসম্যান (File Photo)
কলকাতা: ক্রিকেটের মাঠে এমন কিছু বছর আসে, যা ইতিহাসের পাতায় চিরস্থায়ী হয়ে যায়। যখন এক ক্যালেন্ডার বছরে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরির কথা আসে, তখন কয়েকজন মহান ব্যাটার এমন সব রেকর্ড তৈরি করেছেন, যা ভাঙা আজও ক্রিকেটপ্রেমীদের কাছে স্বপ্নের মতো মনে হয়। ২০০৬ সাল থেকে শুরু করে বিভিন্ন দশকে কিংবদন্তিরা তাঁদের ব্যাটে রেকর্ডের পাহাড় গড়েছেন। এই তালিকায় পাকিস্তানের মহম্মদ ইউসুফের পাশাপাশি ভারতের মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকরের নামও রয়েছে। আসুন, জেনে নেওয়া যাক সেই ১০ জন কিংবদন্তি ব্যাটসম্যানের সম্পর্কে, যাঁরা এক ক্যালেন্ডার বছরে সবচেয়ে বেশি টেস্ট সেঞ্চুরি করেছেন।
পাকিস্তানের কিংবদন্তি ব্যাটসম্যান মহম্মদ ইউসুফ (Mohammad Yousuf)-এর নাম এই তালিকার একেবারে শীর্ষে রয়েছে। ২০০৬ সালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে তিনি ১১টি ম্যাচের ১৯টি ইনিংসে মোট ৯টি সেঞ্চুরি করেন। এই সময়ে তিনি ১৭৮৮ রান করেন এবং তাঁর গড় ছিল ৯৯.৩৩, যা প্রমাণ করে যে সেই বছর তাঁকে আউট করা বিশ্বের যে কোনও বোলারের জন্যই সবচেয়ে কঠিন কাজ ছিল। তাঁর সঙ্গে একই বছরে অস্ট্রেলিয়ার প্রাক্তন অধিনায়ক রিকি পন্টিংও নিজের নাম উজ্জ্বল করেছিলেন। পন্টিং ২০০৬ সালে ১০টি ম্যাচের ১৮টি ইনিংসে ৭টি সেঞ্চুরি করে ১৩৩৩ রান সংগ্রহ করেন, যেখানে তাঁর গড় ছিল ৬৮.৮৬। পন্টিং তাঁর দুর্দান্ত ফর্মের পরিচয় দিয়ে এর আগে ২০০৩ সালেও ১১টি ম্যাচের ১৮টি ইনিংসে ৬টি সেঞ্চুরি করেছিলেন এবং সেই বছর ১৫০৩ রান করেছিলেন।
ভিভিয়ান রিচার্ডস এবং অরবিন্দ ডি সিলভার দুর্দান্ত পারফরম্যান্স:
ক্রিকেট ইতিহাসের পাতায় চোখ রাখলে ওয়েস্ট ইন্ডিজের মহান ব্যাটার স্যার ভিভ রিচার্ডস (Viv Richards)-এর নামও পিছিয়ে থাকে না। ১৯৭৬ সালে তিনি নিজের ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের মাধ্যমে ১১টি ম্যাচের ১৯টি ইনিংসে ৭টি সেঞ্চুরি করেন এবং মোট ১৭১০ রান নিজের নামে করেন। তাঁর গড় ছিল ৯০.০০, যা সেই সময়ের বোলারদের আতঙ্কের কাহিনি তুলে ধরে। এর পাশাপাশি, শ্রীলঙ্কার স্টাইলিশ ব্যাটার অরবিন্দ ডি সিলভা ১৯৯৭ সালে দুর্দান্ত ব্যাটিংয়ের নজির গড়েছিলেন। তিনি ১১টি ম্যাচের ১৯টি ইনিংসে ৭টি সেঞ্চুরি করেন এবং মোট ১২২০ রান করেন, যেখানে তাঁর গড় ছিল ৭৬.২৫।
সচিন তেন্ডুলকরের দুর্দান্ত ক্লাস এবং ধারাবাহিকতা:
ভারতীয় ক্রিকেটের ‘ঈশ্বর’ বলে পরিচিত সচিন তেন্ডুলকর (Sachin Tendulkar)-ও এই বিশেষ তালিকায় নিজের জায়গা করে নিয়েছেন। ২০১০ সালে তেন্ডুলকর পরিণত ব্যাটিং এবং ক্লাসের দুর্দান্ত উদাহরণ তৈরি করে ১৪টি ম্যাচের ২৩টি ইনিংসে ৭টি সেঞ্চুরি করেন এবং মোট ১৫৬২ রান করেন। তাঁর গড় ছিল ৭৮.১০, যা তাঁর দীর্ঘস্থায়ী এবং ধারাবাহিক ফর্মকে তুলে ধরে।
গারফিল্ড সোবার্স এবং ডেনিস কম্পটনের ঐতিহাসিক রেকর্ড:
ইতিহাসের পাতা উল্টালে দেখা যায়, ওয়েস্ট ইন্ডিজের অলরাউন্ডার গারফিল্ড সোবার্স ১৯৫৮ সালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করেছিলেন। তিনি ৮টি ম্যাচের ১৩টি ইনিংসে ৬টি সেঞ্চুরি করেন এবং ১২৯৯ রান যোগ করেন। তাঁর গড় ছিল ১৪৪.৩৩, যা এই গোটা তালিকার অন্যতম বিস্ময়কর পরিসংখ্যান। একইভাবে, ইংল্যান্ডের ডেনিস কম্পটন ১৯৪৭ সালে ৯টি ম্যাচের ১৫টি ইনিংসে ৬টি সেঞ্চুরি করে ১৫৯২ রান করেন এবং তাঁর গড় ছিল ৮২.৭৮।
ম্যাথিউ হেডেন এবং তিলকরত্নে দিলশানের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং:
অস্ট্রেলিয়ার বিধ্বংসী ওপেনার ম্যাথিউ হেডেন (Mathew Hayden) ২০০২ সালে নিজের আক্রমণাত্মক ব্যাটিং দিয়ে তোলপাড় ফেলে দিয়েছিলেন। তিনি ১১টি ম্যাচের ১৭টি ইনিংসে ৬টি সেঞ্চুরি করেন এবং ১১৬০ রান করেন, যেখানে তাঁর গড় ছিল ৭২.৫০। শ্রীলঙ্কার উইকেটকিপার-ব্যাটসম্যান তিলকরত্নে দিলশানও ২০০৯ সালে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স করে ১১টি ম্যাচের ১৮টি ইনিংসে ৬টি সেঞ্চুরি করেন এবং ১০৯৭ রান সংগ্রহ করেন।
(Feed Source: news18.com)