বরফে মোড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা,কুলকুল করে বয়ে চলা নদী,হোমস্টে-র গরম মোমো-পকোড়া ! কালিম্পং-এর এই অফবিট গ্রামে নির্জনতা যেন কথা বলে…!

বরফে মোড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা,কুলকুল করে বয়ে চলা নদী,হোমস্টে-র গরম মোমো-পকোড়া ! কালিম্পং-এর এই অফবিট গ্রামে নির্জনতা যেন কথা বলে…!

বরফে মোড়া কাঞ্চনজঙ্ঘা,কুলকুল করে বয়ে চলা নদী,হোমস্টে-র গরম মোমো-পকোড়া ! কালিম্পং-এর এই অফবিট গ্রামে নির্জনতা যেন কথা বলে…!

দার্জিলিং, ঋত্বিক ভট্টাচার্য : পুজোর কাউন্টডাউন শুরু হয়ে গিয়েছে। শহরের ব্যস্ততা, প্যান্ডেল হপিং আর চেনা পর্যটনকেন্দ্রের ভিড় থেকে কয়েকটা দিন দূরে গিয়ে যদি পাহাড়ের কোলে নিঃশব্দে সময় কাটাতে চান, তাহলে এবারের পুজোয় গন্তব্য হতে পারে কালিম্পংয়ের বেন্দা। উত্তরবঙ্গের এই ছোট্ট পাহাড়ি গ্রাম এখনও পর্যটকদের কাছে খুব একটা পরিচিত নয়। পাহাড়, নদী, সবুজ আর নির্জনতার মেলবন্ধনে পুজোর ছুটিতে দু-তিন দিন নিরিবিলিতে কাটানোর সেরা ঠিকানা বেন্দা।

কালিম্পং শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার এবং শিলিগুড়ি থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার দূরে পাহাড়ের কোলে গড়ে উঠেছে ছোট্ট গ্রাম বেন্দা। এখনও পর্যটকদের ভিড় তেমন নেই এই এলাকায়। সরু পাহাড়ি রাস্তা, ছোট ছোট কটেজের হোমস্টে, চারপাশে সবুজের হাতছানি,বাড়ির উঠোনে ফুটে থাকা নানা রঙের ফুল…সব মিলিয়ে পুজোর ছুটিতে নিরিবিলি সময় কাটানোর আদর্শ ঠিকানা বেন্দা। এনজেপি থেকে শেয়ার গাড়িতে কালিম্পং পৌঁছে সেখান থেকে গাড়ি করে সহজেই পৌঁছে যাওয়া যায় এই অফবিট গ্রামে।

বেন্দার অন্যতম আকর্ষণ ঋষিখোলা নদী। গ্রামের কাছেই পাহাড়ি নদীর পাড়ে বসে কাটিয়ে দেওয়া যায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। কুলকুল শব্দে বয়ে চলা নদী, পাশে ছোট্ট মন্দির আর চারপাশের সবুজে তৈরি হয় মনকেমন-করা পরিবেশ। চাইলে আশপাশে ঘুরে দেখতে পারেন,ছোটখাটো ট্রেকিংও করা যায়। গ্রামের রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে চোখে পড়বে পাহাড়ি ঝোড়া, ফুলের গাছ আর স্থানীয় জীবনযাত্রার ছবি। শহুরে কোলাহল থেকে দূরে গিয়ে পুজোর কয়েকটা দিন নির্ভেজাল প্রকৃতির মধ্যে কাটাতে চাইলে বেন্দা পারফেক্ট।

আকাশ পরিষ্কার থাকলে বেন্দার পুজোর ছুটি আরও সুন্দর হয়ে উঠতে পারে কাঞ্চনজঙ্ঘার সৌন্দর্যে। ভোরের ঝকঝকে রোদে চায়ের কাপে চুমুক দিতে দিতে দূরে দেখা মিলতে পারে বরফে মোড়া কাঞ্চনজঙ্ঘার। গ্রামের বিভিন্ন জায়গা থেকেও পাহাড়ের এই রূপ চোখে পড়ে। সামনেই সিকিমের পাহাড়, রাত নামলে দূরের পাহাড়ে জ্বলে ওঠে অসংখ্য আলো। কয়েক মাস পর ফের পরিষ্কার আকাশে কাঞ্চনজঙ্ঘার দেখা মিলছে পাহাড়ে—পুজোর মরশুমে সেই আবহে বেন্দার মতো অফবিট গ্রামে ছুটি কাটানোর আকর্ষণও আরও বাড়ছে।

দিনের শেষে বেন্দার সৌন্দর্য আরও অন্যরকম হয়ে ওঠে। সন্ধ্যা নামতেই ঠান্ডা পাহাড়ি হাওয়ার মধ্যে আগুন জ্বালিয়ে আড্ডা, সঙ্গে গরম মোমো, স্যুপ কিংবা চিকেন পকোরা—জমে উঠতে পারে পুজোর সন্ধ্যা। গ্রামের ছেলেদের ফুটবল খেলা, পাহাড়ি মানুষের সরল জীবন আর চারপাশের নিস্তব্ধতা মিলিয়ে বেন্দা যেন ব্যস্ত পর্যটনকেন্দ্রের একেবারে বিপরীত ছবি। তাই এবারের পুজোয় চেনা পাহাড়ের বদলে নির্জনতা ও প্রকৃতির স্বাদ নিতে চাইলে বেন্দা হতে পারে অন্যরকম ছুটির ঠিকানা।

(Feed Source: news18.com)