)
Nifty Crash: মার্কিন ১০-বছরের ট্রেজারি বন্ড ইল্ড বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে আন্তর্জাতিক লগ্নিকারীরা শেয়ার বাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র থেকে টাকা তুলে মার্কিন সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করছেন। এর পাশাপাশি ডলার শক্তিশালী হওয়ায় ভারতীয় টাকার মানেও বিরাট পতন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মধ্যপ্রাচ্যে ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা, বিশ্ববাজারে সুদের হারের চাপ এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের লাগাতার শেয়ার বিক্রির জেরে ভারতীয় শেয়ার বাজারে তীব্র ধস। বৃহস্পতিবার শেয়ারে লেনদেন চলাকালীনই বম্বে স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক সেনসেক্স প্রায় ১,০০০ পয়েন্ট এবং ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের নিফটি-৫০ সূচক ৩০০ পয়েন্টেরও বেশি নেমে যায়। বাজারের এই বিরাট পতনে মাত্র এক ঘণ্টায় সামগ্রিক বাজার মূলধন প্রায় ৯.৫ লক্ষ কোটি টাকা কমে গিয়েছে।
১. বিদেশি বিনিয়োগকারীদের (FII) লাগাতার বিক্রি:
ভারতীয় বাজার থেকে বিদেশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগকারীরা ব্যাপক হারে তহবিল প্রত্যাহার করছেন। গত দুই লেনদেনেই তাঁরা ২০ হাজার কোটি টাকার বেশি মূল্যের শেয়ার বিক্রি করেছেন। শুধু সেপ্টেম্বর মাসেই এক্সচেঞ্জের মাধ্যমে প্রায় ৪৫,৫৩৬ কোটি টাকার ইকুইটি বিক্রি করেছে বিদেশি সংস্থাগুলো।
২. আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা:
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের যুদ্ধের কারণে বিশ্বের লগ্নিকারীদের মধ্যে ঝুঁকি এড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে অপরিশোধিত তেল (ব্রেন্ট ক্রুড)-এর দাম আন্তর্জাতিক বাজারে এখনও চড়া রয়েছে।
৩. বন্ড ইল্ড বৃদ্ধি ও ডলারের চাঙ্গাভাব:
মার্কিন ১০-বছরের ট্রেজারি বন্ড ইল্ড বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৫.৩ শতাংশে পৌঁছেছে। ফলে আন্তর্জাতিক লগ্নিকারীরা শেয়ার বাজারের মতো ঝুঁকিপূর্ণ ক্ষেত্র থেকে টাকা তুলে মার্কিন সরকারি বন্ডে বিনিয়োগ করছেন। এর পাশাপাশি ডলার শক্তিশালী হওয়ায় ভারতীয় টাকার মানেও বিরাট পতন।
৪. লম্বা ছুটির আগের সতর্কতা:
শুক্রবার বাজার বন্ধ থাকার কারণে দীর্ঘ ছুটির মুখে দাঁড়িয়ে ট্রেডাররা নতুন করে কোনও বড় ঝুঁকি নিতে চাইছেন না, যা বিক্রির চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বাজারের সার্বিক চিত্র ও ক্ষয়ক্ষতি:
লেনদেন চলাকালীন সেনসেক্স নেমে আসে প্রায় ৭১,৫২৭ পয়েন্টে এবং নিফটি নেমে দাঁড়ায় ২২,৩০১ পয়েন্টের ঘরে। শুধু লার্জ-ক্যাপ নয়, মিডক্যাপ ও স্মলক্যাপ শেয়ারগুলির মধ্যেও তীব্র রক্তক্ষরণ দেখা গিয়েছে। সেক্টরভিত্তিক হিসেবে অটোমোবাইল, মেটাল, মিডিয়া ও সিমেন্ট খাতের শেয়ারগুলিতে সবচেয়ে বেশি পতন ঘটেছে।
রিলায়েন্স, মাহিন্দ্রা অ্যান্ড মাহিন্দ্রা এবং লার্সেন অ্যান্ড টুবরো (L&T)-র মতো হেভিওয়েট শেয়ারগুলি সূচককে টেনে নিচে নামিয়েছে। ফলে বাজারের অস্থিরতা মাপার সূচক ‘ইন্ডিয়া ভিক্স’ (India VIX) এক লাফে ১০ শতাংশের বেশি বেড়ে গিয়েছে। কেবল আইটি (IT) সেক্টর কিছুটা ইতিবাচক অবস্থানে থেকে পতন ঠেকানোর চেষ্টা করেছে।
রেকর্ড পতনের মুখে নিফটি:
বাজার বিশ্লেষকদের মতে, নিফটি টানা আট সপ্তাহ ধরে পতনের মুখে রয়েছে। ২০০১ সালের পর প্রথম এমন বড় ক্ষতি। দীর্ঘ ২৫ বছরের মধ্যে ভারতীয় বাজারে এমন ধারা দেখা যায়নি।
তবে বাজার বিশেষজ্ঞদের মতে, এই পতন সাময়িক। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল হলে পরিস্থিতি দ্রুত বদলাতে পারে। অতীতে দেখা গিয়েছে, এই ধরনের দীর্ঘ পতনের পর বাজার সাধারণত জোরালোভাবে ঘুরে দাঁড়ায়।
তাই দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগকারীদের জন্য এই শেয়ার পতন ভালো মানের লার্জ-ক্যাপ শেয়ার কেনার সুযোগ হিসেবেও দেখছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
(Feed Source: zeenews.com)
