
Bangla News: পঞ্চম শ্রেণি থেকেই শিক্ষকতা, ৬০ বছর ধরে নিঃস্বার্থে পড়াচ্ছেন কাত্যায়নী পণ্ডা।
৬০ বছর ধরে নিঃস্বার্থে পড়াচ্ছেন কাত্যায়নী পণ্ডা
কেশিয়াড়ি, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: বয়স ৭২ ছুঁয়েছে, পরনে অতি সাধারণ শাড়ি, চোখে মোটা ফ্রেমের চশমা আর রোগা ছিপছিপে এক চেহারা। কিন্তু এই সামান্য চেহারার আড়ালেই লুকিয়ে আছে এক অসামান্য লড়াইয়ের ইতিহাস। পশ্চিম মেদিনীপুরের কেশিয়াড়ির অলিনগরের বাসিন্দা কাত্যায়নী পণ্ডা আজ কোনও পরিচয় বা প্রচারের মুখাপেক্ষী নন, তিনি নিজেই এক জীবন্ত প্রতিষ্ঠান।
যখন নিজে পঞ্চম শ্রেণীতে পড়তেন, তখন চরম আর্থিক অসচ্ছলতা আর মায়ের অসুস্থতার সঙ্গে লড়াই করতে করতে এক খুদেকে বর্ণপরিচয় শেখানো শুরু করেছিলেন। সংসারের টানে নিজে নবম শ্রেণীর গণ্ডি পেরোতে পারেননি, কিন্তু সেই যে শিক্ষকতার হাতখড়ি হয়েছিল, আজ প্রায় ৬০ বছর ধরে তিনি নিঃস্বার্থভাবে জ্বালিয়ে চলেছেন সেই শিক্ষার আলো।
শান্তিনিকেতনের আদলে তৈরি গাছপালা ঘেরা তাঁর ছোট্ট কুঁড়েঘরটিই এখন শিশুদের ভবিষ্যৎ গড়ার পাঠশালা। সোমবার থেকে শনিবার, সকাল ও বিকেল– দু’বেলাতেই সেখানে বসে খুদেদের ভিড়। অসীম ধৈর্য আর পরম মমতায় ছোটদের হাত ধরে শেখান বর্ণপরিচয়, নামতা-ধারাপাত ও ইংরেজির প্রাথমিক পাঠ। জীবনের একটাই লক্ষ্য, আগামী প্রজন্ম যেন মজবুত ভিত নিয়ে বড় হয়।
মাস শেষে যেটুকু নামমাত্র দক্ষিণা জোটে, তাতেই সাদামাটাভাবে দিন চলে যায় তাঁর। অর্থের লোভ কোনোদিন স্পর্শ করেনি, শিশুদের মুখে শিক্ষার আলো ফোটানোই তাঁর মানসিক প্রশান্তি। তাঁর কাছে হাতেখড়ি হওয়া কত শত ছেলেমেয়ে আজ সমাজের প্রতিষ্ঠিত চিকিৎসক, শিক্ষক, নার্স কিংবা বিভিন্ন কর্মক্ষেত্রে সুপ্রতিষ্ঠিত। আজও প্রিয় ‘দিদি’কে সামনে পেলে সশ্রদ্ধায় মাথা নত করে প্রণাম জানান সেই প্রাক্তন ছাত্রছাত্রীরা। দুর্গাপুজোর প্রাক্কালে মাটির প্রতিমার পাশাপাশি কুঁড়েঘরের এই রক্তমাংসের সমাজ-দুর্গাকে আমাদের সকলের অন্তরের কুর্নিশ ও স্যালুট।
(Feed Source: news18.com)
