)
H1B Visa Ban in USA: সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট ভাষায় জানান, এইচ-১বি ভিসা মূলত বিশ্বমানের মেধা বা প্রতিভাবানদের আমেরিকায় আনার উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও, বাস্তবে কর্পোরেট সংস্থাগুলো এই ভিসায় সস্তায় বিদেশি শ্রমিকদের খাটিয়ে খরচ বাঁচানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষ পেশাদারদের জন্য চালু থাকা এইচ-১বি (H-1B) ভিসা ব্যবস্থা নিয়ে চরম বিতর্ক। কড়া সিদ্ধান্ত জানালেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। গোটা ভিসা প্রক্রিয়ার তীব্র সমালোচনা করে তিনি জানিয়েছেন, এই ব্যবস্থাটি এখন ‘সম্পূর্ণরূপে ভেঙে পড়েছে’ (completely broken)। আমেরিকান নাগরিকদের কর্মসংস্থান বাঁচাতে করতে প্রয়োজনে এইচ-১বি ভিসা প্রোগ্রামটি পুরোপুরি বন্ধ বা বাতিল করে দেওয়ার পক্ষেও তাঁর দৃঢ় সমর্থন রয়েছে বলে জানিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্যের পরেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কর্মরত এবং সে দেশে চাকরি করতে যাওয়ার স্বপ্ন দেখা লক্ষ লক্ষ ভারতীয় তথ্যপ্রযুক্তি (IT) কর্মী ও পেশাদারদের মধ্যে আবার নতুন করে চিন্তা শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে জেডি ভ্যান্স স্পষ্ট ভাষায় জানান, এইচ-১বি ভিসা মূলত বিশ্বমানের মেধা বা প্রতিভাবানদের আমেরিকায় আনার উদ্দেশ্যে তৈরি হলেও, বাস্তবে কর্পোরেট সংস্থাগুলো এই ভিসায় সস্তায় বিদেশি শ্রমিকদের খাটিয়ে খরচ বাঁচানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
বিষয়টি ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ভ্যান্স একটি উদাহরণ তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘যদি কোনও সংস্থা ৬০,০০০ ডলার বার্ষিক বেতনের একজন আমেরিকান অ্যাকাউন্ট্যান্টকে সরিয়ে বিদেশ থেকে মাত্র ৪৫,০০০ ডলারে অন্য কাউকে নিয়ে এসে নিয়োগ করে, তবে সেটা কোনও আন্তর্জাতিক প্রতিভাকে আনার প্রমাণ নয়। এর অর্থ হল, ওই সংস্থা সরাসরি আমেরিকানদের চাকরি কেড়ে নিচ্ছে এবং আমেরিকান নাগরিকদের সঙ্গে প্রতারণা করছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘আমার মতে, এইচ-১বি ব্যবস্থা পুরোপুরি ব্যর্থ। তাই এই ভিসার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ বাতিল করে দিলে আমি সানন্দে সমর্থন করব। তবে যতদিন এই নিয়ম চালু থাকছে, ততদিন পর্যন্ত মার্কিন কর্মীদের চাকরি ও অধিকার সুরক্ষিত রাখাই প্রশাসনের মূল দায়িত্ব হওয়া উচিত।’
আইটি আউটসোর্সিং ও ১ লক্ষ ডলারের ফি বিতর্ক
মার্কিন প্রশাসনের দাবি অনুযায়ী, কম বেতনে বিদেশি কর্মী এনে আমেরিকানদের ছাঁটাই করার প্রবণতা রুখতেই কড়াকড়ি শুরু হয়েছে। ট্রাম্প-ভ্যান্স প্রশাসনের আগের সিদ্ধান্তের ফলে শীর্ষস্থানীয় আউটসোর্সিং সংস্থাগুলোর এইচ-১বি ভিসা দেওয়ার সংখ্যা প্রায় ৯২ শতাংশ কমে গিয়েছিল।
এর পাশাপাশি, সংস্থাগুলোকে বিদেশি কর্মী আনার বদলে দেশীয় কর্মীদের বেশি বেতনে চাকরিতে অগ্রাধিকার দিতে বাধ্য করতে ভিসার জন্য ১ লক্ষ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত ফি ধার্য করার প্রস্তাব আনা হয়েছিল। তবে এই বিশাল অঙ্কের ফি আরোপ নিয়ে আমেরিকায় তীব্র আইনি লড়াই চলছে।
১ অক্টোবর এক মার্কিন ফেডারেল আদালত এই ফি কার্যকরের ওপর স্থগিতাদেশ জারি করেছে। আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, বাধ্যতামূলক প্রশাসনিক নিয়মবিধি সঠিকভাবে না মেনে এই অতিরিক্ত আর্থিক বোঝা চাপানো হয়েছিল। এই রায়ের পরই জেডি ভ্যান্স নতুন করে এই আক্রমণাত্মক কথা বললেন।
ভারতীয় পেশাদারদের ওপর কী প্রভাব পড়তে পারে?
মার্কিন সরকারের এইচ-১বি ভিসার সিংহভাগ প্রাপকই হলেন ভারতীয় ইঞ্জিনিয়ার ও সফটওয়্যার পেশাদাররা। ইনফোসিস, টিসিএস, উইপ্রোর মতো শীর্ষস্থানীয় সংস্থাগুলি থেকে শুরু করে মার্কিন টেক জায়ান্ট গুগল, মেটা ও অ্যামাজনে কর্মরত বহু ভারতীয় এই ভিসার উপর নির্ভরশীল।
যদি মার্কিন প্রশাসন এই কর্মসূচি বাতিল বা আরও সীমিত করে দেয়, তবে ভারতের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প বড় ধরনের ধাক্কা খাবে এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে পড়ার পর চাকরির স্বপ্ন দেখা ভারতীয় শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যৎ চূড়ান্ত অনিশ্চয়তার মুখে পড়বে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আসন্ন দিনগুলিতে মার্কিন রাজনীতিতে ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং কর্মসংস্থান রক্ষার চাপ যত বাড়বে, এইচ-১বি ভিসা সংস্কারের দাবিতে প্রশাসন তত বেশি আগ্রাসী পদক্ষেপ নিতে পারে।
(Feed Source: zeenews.com)
