)
Shankarsinh Vaghela’s big update: দীর্ঘ ৯ বছর পর আবারও কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন করতে চলেছেন গুজরাটের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী তথা বর্ষীয়ান নেতা শঙ্করসিন বাঘেলা (‘বাপু’)। গুজরাট প্রদেশ কংগ্রেসের সবুজ সংকেতের পর এবার রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকের পরই চূড়ান্ত ঘোষণা হতে পারে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: গুজরাটের রাজ্য রাজনীতিতে ফের বিরাট পটপরিবর্তন। প্রায় এক দশক পর আবারও জাতীয় কংগ্রেসের হাত ধরতে চলেছেন রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী, বর্ষীয়ান নেতা শঙ্করসিন বাঘেলা। রাজনৈতিক মহলে ‘বাপু’ নামে পরিচিত ৮৬ বছর বয়সি এই নেতার ‘ঘর ওয়াপসি’ নিয়ে প্রদেশ কংগ্রেস ও সর্বভারতীয় স্তরে জোর তৎপরতা শুরু হয়ে গিয়েছে। সূত্রের খবর অনুযায়ী, গুজরাট প্রদেশ কংগ্রেস কমিটি বাঘেলার দলে ফেরার প্রস্তাবে ইতোমধ্যেই নীতিগত সম্মতি বা সবুজ সংকেত দিয়ে দিয়েছে। এই মুহূর্তে বিষয়টি কংগ্রেস হাইকম্যান্ডের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পরেই শঙ্করসিন বাঘেলার কংগ্রেসে ফেরা চূড়ান্ত রূপ নেবে বলেই জানা গিয়েছে।
বিজেপিকে উৎখাত করাই মূল লক্ষ্য
কংগ্রেসে প্রত্যাবর্তন প্রসঙ্গে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে বাঘেলা জানিয়েছেন, গুজরাটে বিজেপি সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার লক্ষ্যেই তিনি সব রাজনৈতিক শক্তিকে একত্রিত করতে চান এবং সেই তাগিদ থেকেই তাঁর এই সিদ্ধান্ত।
বিজেপির বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই গড়ে তুলতে তিনি নিঃশর্তভাবে কাজ করতে প্রস্তুত। কংগ্রেস নেতৃত্বের একাংশ মনে করছেন, আসন্ন গান্ধীনগর পুরসভা নির্বাচন এবং পরবর্তী বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাঘেলার মতো অভিজ্ঞ নেতার কংগ্রেসে যোগদান দলকে বড় সাংগঠনিক শক্তি জোগাবে। বিশেষ করে রাজ্য স্তরে বিজেপির বিরুদ্ধে লড়তে তাঁর রাজনৈতিক প্রভাব এবং ‘স্টার ক্যাম্পেইনার’ ভাবমূর্তিকে কাজে লাগাতে চাইছে হাত শিবির।
বর্ণময় রাজনৈতিক পথচলা
শঙ্করসিন বাঘেলার রাজনৈতিক ইতিহাস অত্যন্ত ঘটনাবহুল ও দীর্ঘ। একসময় গুজরাটে ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) সাংগঠনিক ভিত শক্ত করতে নরেন্দ্র মোদী ও কেশুভাই প্যাটেলের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি। কিন্তু নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে মতবিরোধের জেরে তিনি বিদ্রোহ ঘোষণা করেন এবং বিজেপি ত্যাগ করে গঠন করেন ‘রাষ্ট্রীয় জনতা পার্টি’।
পরবর্তীকালে, ১৯৯৬ থেকে ১৯৯৭ সাল পর্যন্ত কংগ্রেসের সমর্থনে গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব সামলান বাঘেলা। ১৯৯৮ সালে তিনি তাঁর দলকে আনুষ্ঠানিকভাবে কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত করেন।
এরপর ইউপিএ-১ সরকারের আমলে প্রধানমন্ত্রী ড. মনমোহন সিংয়ের মন্ত্রিসভায় কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রীর গুরুদায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি গুজরাট বিধানসভায় বিরোধী দলনেতার ভূমিকাও সামলেছেন তিনি।
২০১৭ সালে দলত্যাগ ও বর্তমান প্রেক্ষাপট
দীর্ঘদিন কংগ্রেসে থাকার পর ২০১৭ সালের গুজরাট বিধানসভা নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে শীর্ষ নেতৃত্বের সঙ্গে দূরত্বের কারণে তিনি কংগ্রেস ছাড়েন। পরবর্তী সময়ে ‘জনবিকল্প মোর্চা’, এনসিপি (NCP) হয়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্মে সক্রিয় থাকলেও কোনও স্থায়ী জায়গা তৈরি করতে পারেননি।
বর্তমানে গুজরাটে প্রধান বিরোধী দল হিসেবে কংগ্রেস কিছুটা সাংগঠনিক সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। ১৮২ আসনের বিধানসভায় দলের শক্তি নেমে এসেছে মাত্র ১২টিতে।
এহেন পরিস্থিতিতে রাজ্যস্তরে একজন বলিষ্ঠ ও সর্বজনগ্রাহ্য রাজনৈতিক মুখের তীব্র অভাব অনুভব করছিল কংগ্রেস।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শঙ্করসিন বাঘেলাকে ফিরিয়ে আনলে দল যেমন রাজনৈতিক কৌশল নির্ধারণে এক পোড়খাওয়া নেতার অভিজ্ঞতা পাবে, তেমনই গুজরাটে বিরোধী শিবিরের শক্তিও বহুলাংশে বৃদ্ধি পাবে। হাইকম্যান্ডের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার পরেই স্পষ্ট হবে দলে বাঘেলার দায়িত্ব ঠিক কী হতে চলেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
