
কলকাতা: সরকার বদল হওয়ার পর এবার পাঠ্যপুস্তক থেকে বাদ পড়তে চলেছে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা। বিশ্বকবির ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি বাদ দেওয়া হচ্ছে সিলেবাস থেকে। এবিপি আনন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান জানিয়ে দিয়েছেন যে সনাতনী পরম্পরার কথা মাথায় রেখে সিলেবাসে ‘শিবাজী উৎসব’ কবিতা ঢোকানো হচ্ছে। তার জন্যই ‘আফ্রিকা’ কবিতাটি বাদ দেওয়া হচ্ছে। এই বিষয়ে সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্য়ান দেবাশিস চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, ‘রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কবিতা আফ্রিকার ওপর। সেখানে ইউরোপের সভ্যতার ওপরে ও তার যে নিদর্শন সম্পর্কে লিখেছিলেন, তা পরিবর্তন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তার পরিবর্তে আমরা সনাতনী পরম্পরার কথা মাথায় রেখে সিলেবাসে ‘শিবাজী উৎসব’ কবিতাটি রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
এছাড়া দেশাত্মবোধের ধারণা থেকে সিলেবাসে ‘মেবার পতন’ নাটকটি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সিলেবাসে এল দ্বিজেন্দ্রলাল রায়ের ‘মেবার পতন’ নাটক। স্কুলের সিলেবাস থেকে বাদ পড়ল ‘সিরাজদৌল্লা’ নাটক। পাঠ্য সূচি থেকে বাদ পড়ছে তৃণমূল জমানার ‘কন্যাশ্রী’ প্রকল্প। ‘কাটছাঁট’ মোঘল সাম্রাজ্যে, গুরুত্ব জাতীয়তাবাদি আন্দোলনে। এছাড়াও জানানো হয়েছে, ইতিহাসে আর বড় করে দেখানো হবে না কমিউনিজমকে। সিলেবাস থেকে বাদ পানি, আব্বা, আম্মুর মতো শব্দ।
২০১১ সালে রাজ্যে ক্ষমতায় আসে তৃণমূল কংগ্রেস। মুখ্যমন্ত্রী হয়েছিলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর ক্ষমতায় আসার পেছনে সিঙ্গুর আন্দোলনের বিরাট ভূমিকা ছিল। টাটার জমি অধিগ্রহণ ইস্যুতে কৃষকদের সঙ্গে নিয়ে এক বৃহত্তর আন্দোলন করেছিলেন ২০০৬ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পরে জমি অধিগ্রহণকে সম্পূর্ণ বেআইনি হিসেবে ঘোষণা করেছিল সুপ্রিম কোর্ট ২০১৬ সালে। চাষীদের জমিও ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল সেই সময়। সরকারের এই আন্দোলন আইনিভাবে জয়লাভ করায় তা ঐতিহাসিক সাফল্য হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। নতুন সরকার আসার পর শিক্ষা ব্যবস্থায় পাঠ্যসূচি পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখনই এই সিঙ্গুর আন্দোলনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয় পাঠ্যসূচির। এবার সেই সিঙ্গুর আন্দোলনকেই পাঠ্যপুস্তক থেকে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিল নতুন সরকার। এবিপি আনন্দকে জানালেন সিলেবাস কমিটির চেয়ারম্যান। পরবর্তীতে ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষে পশ্চিমবঙ্গ মধ্যশিক্ষা পর্ষদের অষ্টম শ্রেণির ইতিহাস বইয়ে ‘সিঙ্গুর আন্দোলন’ স্থান করে নিয়েছিল। যা বাদ পড়তে চলেছে। উল্লেখ্য, আগামী বছরের জানুয়ারির ২ তারিখ থেকে নতুন যে পাঠ্যপুস্তক তুলে দেওয়া হবে ছাত্র-ছাত্রীদের হাতে, সেই বইয়ে থাকছে না সিঙ্গুর ও কন্যাশ্রী নিয়ে কোনও ইতিহাস।
(Feed Source: abplive.com)
