)
Bangladesh: বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় পরপর দুটি হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘিরে রাজনৈতিক চাপ তৈরি হয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকারের উপর। মিরপুরের রাড্ডা MCH-FP সেন্টারে হামলা ও ভাঙচুরের কয়েক দিন পর ECB চত্বরের কাছে ইউটিউবার সলমন মুকতাদিরের ব্রাউন ফিস স্টু়ডিয়োতেও হামলা হয়। দুই ঘটনায়ই বিএনপি-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠেছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পরপর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বাংলাদেশের রাজধানীতে শুরু হয়েছে নতুন করে রাজনৈতিক চাপানউতোর। মিরপুরের রাড্ডা MCH-FP সেন্টার এবং জনপ্রিয় কনটেন্ট ক্রিয়েটর সালমান মুকতাদিরের ব্রাউন ফিস স্টু়ডিয়ো-তে হামলার ঘটনায় অভিযোগের আঙুল উঠেছে ক্ষমতাসীন বিএনপির স্থানীয় নেতা-কর্মীদের একাংশের দিকে। তবে অভিযোগগুলি তদন্তাধীন এবং সব ঘটনায় রাজনৈতিক যোগসূত্র এখনও চূড়ান্তভাবে প্রমাণিত হয়নি। ঘটনার সূত্রপাত, ২৪-২৫ সেপ্টেম্বর রাতে। ঢাকার মিরপুর-১ এলাকায় রাড্ডা MCH-FP সেন্টারে ২০০-র বেশি মানুষ হামলা চালায় বলে অভিযোগ। হাতুড়ি, লাঠি এবং একটি এক্সক্যাভেটর ব্যবহার করে চিকিৎসাকেন্দ্রের একাংশ ভেঙে দেওয়া হয় বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
ওই কেন্দ্রটি দীর্ঘদিন ধরে দরিদ্র ও প্রান্তিক পরিবারের জন্য মাতৃ ও শিশু স্বাস্থ্য পরিষেবা, পরিবার পরিকল্পনা এবং টিকাকরণের কাজ করে আসছিল। হামলার সময় ওষুধ, টিকা, চিকিৎসা সরঞ্জাম, নথিপত্র এবং নগদ টাকা লুটের অভিযোগও উঠেছে। এই ঘটনায় স্থানীয় বিএনপি-ঘনিষ্ঠ কয়েকজনের নাম উঠে এসেছে বলে বাংলাদেশের সংবাদমাধ্যমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে। অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিএনপি সাংসদ ফেরদৌসি আহমেদ মিষ্টিকে পদত্যাগ করতে বলা হয় এবং তিনি ১ অক্টোবর সংসদ থেকে পদত্যাগ করেছেন। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের তদন্ত এখনও গুরুত্বপূর্ণ। এবার নিশানায় ইউটিউবারের স্টুডিয়ো। এর ঠিক পরের রাতেই, ২৬ সেপ্টেম্বর, ঢাকার ECB চত্বরের কাছে নিউ জিনি প্রপার্টিজের একটি কম্পাউন্ডে হামলা হয়। প্রায় ২০০-২৫০ জন সেখানে ঢুকে বিভিন্ন জায়গায় ভাঙচুর চালায় বলে রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে।
ওই কম্পাউন্ডের মধ্যেই ছিল জনপ্রিয় বাংলাদেশি ইউটিউবার সলমন মুকতাদিরের ব্রাউন ফিস স্টু়ডিয়ো। হামলাকারীরা স্টুডিয়োতে ঢুকে সরঞ্জাম, মোবাইল ফোন ও নগদ টাকা লুট করে এবং CCTV ক্যামেরা ভেঙে দেয় বলে অভিযোগ। সলমন মুকতাদির পরে সোশ্যাল মিডিয়ায় দাবি করেন, এই হামলার পিছনে স্থানীয় বিএনপি কর্মীদের ভূমিকা থাকতে পারে। তাঁর অভিযোগ ছিল, জমির মালিকের কাছ থেকে চাঁদা আদায়ের দাবিকে কেন্দ্র করেই হামলা হয়েছে। তবে তিনি নিজে দাবি করেছেন, তাঁর কাছে ব্যক্তিগতভাবে কেউ চাঁদা দাবি করেনি।
পুলিসের তদন্তে উঠে এসেছে জমি বিবাদ
অন্যদিকে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, প্রাথমিক তদন্তে স্টুডিও হামলার সঙ্গে প্রায় ৩৫ কাঠা জমির মালিকানা ও দখল নিয়ে বিরোধের যোগসূত্র পাওয়া যাচ্ছে। একদিকে ছিল নিউ জিনি প্রপার্টিজ, অন্যদিকে এক অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তার সঙ্গে যুক্ত পক্ষ। পুলিসও প্রাথমিকভাবে জমি সংক্রান্ত বিরোধকেই হামলার কারণ হিসেবে দেখেছে। এই ঘটনায় ইতিমধ্যে একাধিক ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হয়েছে এবং আইনি প্রক্রিয়া চলছে।
রাজনৈতিক চাপ বাড়ছে
দুটি ঘটনার পরই সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দল এবং নাগরিক সমাজের একাংশ। বাংলাদেশ সরকারের তথ্য উপদেষ্টা জাহেদুর রহমান জানিয়েছেন, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং সলমন মুকতাদিরের স্টুডিয়োতে হামলার ঘটনায় সরকার দুঃখিত এবং তদন্তে যাঁরা জড়িত প্রমাণিত হবেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ফলে একদিকে বিএনপি-ঘনিষ্ঠদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ, অন্যদিকে পুলিসের প্রাথমিক তদন্তে জমি বিবাদের তথ্য, দুই দিকই এখন তদন্তের আওতায়। এই ঘটনার পূর্ণ সত্য সামনে আসতে তদন্তের ফলাফলের দিকেই নজর রয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
