)
প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে খুন মেকআপ আর্টিস্ট ও এলজিবিটিকিউ+ ইনফ্লুয়েন্সার ম্যাড সান্ধুকে। পঞ্জাবের সংস্কৃতি নষ্ট করার অভিযোগ তুলে সোশ্যাল মিডিয়ায় এই খুনের দায় স্বীকার করা হয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে গত বছর খুন হওয়া আর এক ইনফ্লুয়েন্সার কমল কউরের ঘটনার মিল পাওয়া যাচ্ছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: প্রকাশ্য রাস্তায় গুলি করে ঝাঁঝরা মেকআপ আর্টিস্ট ও LGBTQ ইনফ্লুয়েন্সরকে। নিহত ব্যক্তির নাম মধুসূদন ওরফে ম্যাড সান্ধুকে। গত শনিবার সন্ধ্যে ৬টা নাগাদ অমৃতসরের প্রকাশ্যে রাস্তায় বাইকে চড়ে আসে দুই আততায়ী গুলি চালায়। ঘটনাস্থলে রক্তাক্ত অবস্থায় লুটিয়ে পড়েন ম্যাড। তাঁকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পথেই তাঁর মৃত্যু হয়। এলাকা জুড়ে ব্যাপক শোরগোল পড়ে যায়। ঘটনার তদন্তে অমৃতসর পুলিস। ইতোমধ্যেই আততায়ীদের খোঁজে জোরকদমে তদন্ত চলছে।
অতিরিক্ত ডেপুটি পুলিস কমিশনার সিরিভেনেলা জানিয়েছেন, গত শনিবার সন্ধ্যায় অজ্ঞাতপরিচয় দুই বন্দুকবাজ সান্ধুকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এই ঘটনার কিছুক্ষণের মধ্যেই ‘গোল্ডি ধিলোঁ’ নামের একটি ফেসবুক হ্যান্ডেল থেকে খুনের দায় স্বীকার করে পোস্ট করা হয়। সেখানে দাবি করা হয়, তিনি নাকি পঞ্জাবের সংস্কৃতি নষ্ট করছিলেন। পুলিস জানিয়েছে, খুনের সঙ্গে ওই সোশ্যাল মিডিয়া পোস্টটির সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা তদন্তের আওতায় আনা হয়েছে।
ম্যাড সান্ধু ছিলেন পঞ্জাবের LGBTQ+ আন্দোলনের অন্যতম পরিচিত মুখ। তিনি নিজের সমকামী পরিচয় কখনও গোপন করেননি। ইনস্টাগ্রাম রিল এবং বিভিন্ন পডকাস্টে এসে তিনি মেকআপ, ফ্যাশন ও লিঙ্গভিত্তিক অধিকার নিয়ে খোলাখুলি কথা বলতেন। প্রায়ই সোশ্যাল মিডিয়ায় সমকাম-বিরোধী ট্রোলের মুখে পড়লেও তিনি বলতেন, ‘ঈশ্বর আমাকে যেমন বানিয়েছেন আমি তেমনই।’
পরিবার সম্পর্কে বিশেষ তথ্য না মিললেও, পঞ্জাব ও মুম্বইয়ের বিনোদন দুনিয়ায় ফ্যাশন স্টাইলিস্ট ও সহকারী পোশাক পরিকল্পক হিসেবে কাজ শুরু করেছিলেন সান্ধু। পরে ‘ওয়ে ভোলে ওয়ে’ ফ্র্যাঞ্চাইজির মতো কিছু পঞ্জাবি ছবিতেও তিনি অভিনয় করেন। বিলাসবহুল জীবনযাপন, ফ্যাশন টিপস ও প্রগতিশীল চিন্তাভাবনার জোরে তাঁর লক্ষাধিক অনুগামী তৈরি হয়েছিল।
উল্লেখ্য, এই হত্যাকাণ্ডের স্মৃতি উসকে দিচ্ছে গত বছরের আর এক ইনফ্লুয়েন্সার কাঞ্চন কুমারী ওরফে ‘কমল কউর ভাবি’ খুনের ঘটনাকে। ২০২৫ সালের জুন মাসে লুধিয়ানা থেকে পেইড প্রমোশনের নাম করে ডেকে নিয়ে গিয়ে ভাতিন্ডায় তাঁকে খুন করে অমৃতপাল সিং মেরোঁ নামের এক কট্টরপন্থী নিহঙ্গ শিখ ও তার দলবল। তাঁদের অভিযোগ ছিল, কাঞ্চনের ভিডিয়ো অশ্লীল এবং তাঁর পদবী থেকে ‘কউর’ সরাতে হবে। খুনের দায় স্বীকার করে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে পালিয়ে যাওয়া মেরোঁকে ২০২৬ সালের ১০ এপ্রিল দিল্লি বিমানবন্দর থেকে গ্রেফতার করে পুলিস। সম্প্রতি ভাতিন্ডা আদালত তার বিরুদ্ধে খুনের চার্জ গঠন করেছে।
এদিকে সান্ধুর খুনের মাত্র কয়েক ঘণ্টা আগেই শুক্রবার রাতে লুধিয়ানার মুল্লানপুরে আরও একটি প্রাণঘাতী হামলার ঘটনা ঘটে। খানজরওয়াল গ্রাম থেকে মাজরির দিকে যাওয়া একটি সাদা হুন্ডাই আই-২০ গাড়িকে ধাওয়া করে হুন্ডাই ভার্না গাড়ি চড়ে আসা দুষ্কৃতীরা। গাড়িটিকে লক্ষ্য করে এলোপাথাড়ি গুলি চালানো হয়।
এই হামলায় একাধিক গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান চালক লাডি খান। গাড়িতে থাকা তাঁর সঙ্গী রোহিত ওরফে বিল্লা কোনওরকমে পালিয়ে প্রাণে বাঁচেন। ঠিক কী কারণে এই হামলা, তা স্পষ্ট নয়। পুরনো শত্রুতা, ব্যক্তিগত বিবাদ নাকি গ্যাংস্টারদের সংঘাত—সব দিক খতিয়ে দেখছে পুলিস।
(Feed Source: zeenews.com)
