বারমুডা থেকে ওড়ার পর নিখোঁজ বিমান, ঝড়ের মুখে পড়ে জরুরি বার্তা পাইলটের, মিলল ধ্বংসাবশেষ

বারমুডা থেকে ওড়ার পর নিখোঁজ বিমান, ঝড়ের মুখে পড়ে জরুরি বার্তা পাইলটের, মিলল ধ্বংসাবশেষ

 

নয়াদিল্লি: বারমুডা থেকে বস্টন যাওয়ার পথে নিখোঁজ বিমান। সেটি একটি মেডিক্যাল বিমান এয়ার অ্যাম্বুল্যান্স ছিল। বিমানে সওয়ার ছিলেন ছয় জন। আকাশে ওড়ার পর হঠাৎই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। বেশ কয়েক ঘণ্টা পর আটলান্টিক মহাসাগরের সঙ্গে যুক্ত, কেপ কড উপকূলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়ে। (Bermuda to Boston Plane Missing)

আমেরিকার ফেডারেল এভিয়েশন অ্যাডমিনিস্ট্রেশন জানিয়েছে, Latitude Air Ambulanceটির রেজিস্ট্রেশন কানাডায়। দুই যাত্রী এবং চার বিমানকর্মীকে নিয়ে রাত ১২টা বেজে ৪১ মিনিটে আকাশে উড়েছিল বারমুডার LF Wade International Airport থেকে। রাতভর আকাশে ওড়ার পর সকালে নামার কথা ছিল আমেরিকার বস্টনে। (Plane Accident)

জানা গিয়েছে, প্রায় ২৪০০০ ফুট উচ্চতা দিয়ে উড়ছিল বিমানটি। হঠাৎই বিমানটি নেমে আসে ১৩০০০ ফুট উচ্চতায়। মাত্র দু’মিনিটের মধ্যে অত নীচে নেমে আসে বিমানটি। স্থানীয় সময় অনুযায়ী, ভোরবেলা বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। শেষ মুহূর্তে বিমানের পাইলটের সঙ্গে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলসের কথোপকথনের অডিও রেকর্ডিং সামনে এনেছে LiveATC.net, যেতে ঠিক কী ঘটেছিল, তার আঁচ পাওয়া যাচ্ছে।

ওই অডিও কথোপকথনে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলারকে বলতে শোনা যায়, ‘রজার, কিছু দেখতে পাচ্ছেন না বলছেন। এটাই বললেন তো?’ জবাবে পাইলট কী বলেন, তা অস্পষ্ট। তবে এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলার জানিয়েছেন, জরুরি পরিস্থিতি ঘোষণা করেন পাইলট। ঝড়ের কবলে পড়ে যায় বিমানটি। কিছু দেখতে পাচ্ছিলেন না পাইলট। আর তার পরই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। 

সংবাদ সংস্থা AP জানিয়েছে, বিমানে বৈদ্যুতিক সমস্যা দেখা দেয়। তার দরুণই জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন পাইলট। ঝড়ের মুখে পড়ে বিমানটি দিশা হারিয়ে ফেলে, পাইলট নিয়ন্ত্রণ হারান বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরাও। তবে তদন্তের রিপোর্ট হাতে পাওয়া গেলেই আসল কারণ জানা যাবে।

কানাডার পরিবহণ মন্ত্রী স্টিভেন ম্যাকিনন জানিয়েছেন, বিমানে সওয়ার চার জন যাত্রী কানাডার নাগরিক। অন্য দু’জন বারমুডার নাগরিক বলে জানা গিয়েছে। ম্যাসাচুসেটসের নানটাকট উপকূলে বিমানটির ধ্বংসাবশেষ চোখে পড়ে। উদ্ধারকার্য শুরু হয়েছে। ছ’জন যাত্রীর কোনও খোঁজ মেলেনি। তাঁদের খোঁজে ডুবুরি নামানো হবে জলে। রাতভর তল্লাশি চলবে।