)
IND vs BRA: ব্রাজিল এল, দেখল, জয় করল! তবে সীমার মধ্যে থেকেও অসীমকে ছুঁল ভারত! যা দেখল ঐতিহাসিক প্রীতি লড়াই….
শুভপম সাহা: যুবভারতীর সবুজ ঘাস, ইতিহাসের সুবাস; আন্তর্জাতিক ফ্রেন্ডলিতে ভারত-ব্রাজিল! যা লিখতে গেলেও হয়তো ব্যাকস্পেস দিয়ে উড়িয়ে দিতে হত! যা ভাবাও ছিল একেবারে দিবাস্বপ্নের মতো, ঠিক সেটাই নাকি হয়ে গেল সল্টলেকে! ৩/১০/২০২৬, শনিবার, ‘রেড-লেটার ডে’| এই খেলার স্কোরলাইন কী হবে, তা নিয়ে বিন্দুমাত্র ভাবিত ছিলেন না কেউই! শুধু বাংলার ফুটবলপাগল মানুষগুলোই তো নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ কলকাতামুখী হয়েছিলেন শুধু ব্রাজিলকে ভালোবেসে! তাঁরা সবাই ভারতীয় ফুটবলের সবচেয়ে বড় মেগা শো দেখতেই এসেছিলেন |কারোর পরনে নীল তো কারোর হলুদ| তবে তাঁরা মনে মনে একসঙ্গে দুই দেশের নাগরিকই|
খেলা শুরুর তিন সাড়ে তিন ঘণ্টা আগেই এদিন মাঠে ঢোকার লম্বা লাইন পড়ে গিয়েছিল! তবে ম্যাচে তার প্রতিফলন দেখা গেল না! যুবভারতী হাউজফুল ছিল না| দর্শক এসেছিলেন মোট ৫১ হাজার ৪২০ জন| এই মাঠে ইস্টবেঙ্গল-মোহনবাগান খেললে এর চেয়ে বেশি দর্শক হয়! এত বড় ম্যাচের টিকিটের দাম যেমন একটা ফ্যাক্টর হয়ে গেল, তেমনই মাথায় রাখতে হবে সেভাবে ব্র্যান্ডিংও হয়নি! সীমাবদ্ধতা ছিল প্রচারেও!
খেলার প্রথম মিনিট কুড়ি কিন্তু ভারত মোহিত করল| খালিদ জামিলের শিষ্যরা যে কার্লো আনসেলোত্তির টিমের বিরুদ্ধে খেলছে তা মনেই হল না| ভারত চোখে চোখ রেখেই খেলল! মিনমিনে ফুটবল নয়! স্পেস ক্রিয়েট করল, ওয়ান টু খেলল, প্লেসিং করল, ব্রাজিলের অর্ধে ঢুকে ফসল ফালানোর চেষ্টাও করল| মোটের উপর বেশ সাহসি ফুটবল| তবে দলটা যে ব্রাজিল| ফিফা ক্ৰমতালিকায় পাঁচে| আর ভারত সেখানে ১৩৮!
ভারতকে মেপে নিয়েই ব্রাজিল বিরতির আগে দু’গোল করে দিল! খেলার বয়স তখন ২৮ মিনিট| এস্তেভাওয়ের গোলে ব্রাজিল এগিয়ে যায় ! যে গোলের রিপ্লে হয়তো কখনও দেখতে চাইবেন না গুরপ্রীত সিং সান্ধু| ডান প্রান্ত ধরে বল নিয়ে এগিয়ে বক্সের প্রান্তে চলে যান এস্তেভাও। সেখান থেকে বাঁ পায়ে জোরালো শট নেন চেলসির ফরোয়ার্ড। যথাস্থানে ছিলেন গুরপ্রীত! তবে গোলার মতো শটের গতি এতটাই বেশি ছিল যে, গুরপ্রীতের হাতে লেগে বল চলে যায় জালে। ৪২ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন পেড্রো| ফ্লামেঙ্গোর স্ট্রাইকাররে গোলের কারিগর সেই এস্তেভাও| বক্সের মধ্যে পেড্রোর উদ্দেশে নিখুঁত থ্রু বাড়ান তিনি। বল পেয়ে শট নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পান পেড্রো। গুরপ্রীত বলটি আটকানোর চেষ্টা করলেও ফের ব্যর্থ হন। তাঁর ডান হাতের গ্লাভসে লেগে বল চলে যায় জালে। দেশের জার্সিতে ৯০ তম এবং কেরিয়ারের সবচেয়ে ঐতিহাসিক ম্যাচ শুধু গুরপ্রীতই নন, দর্শকরাও ভুলে যেতে চাইবেন|
বিরতির পর খালিদ তাঁর প্রথম একাদশ বদলে ফেলেন| গুরপ্রীত, আকাশ মিশ্র এবং আশিক কুরুনিয়ানের পরিবর্তে তিনি মাঠে নামান প্রভসুখন গিল, সনন এবং জয় গুপ্তাকে| ওদিকে ব্রাজিল কোচ মারকুইনহোস, ডগলাস স্যান্টোস, ভিনি জুনিয়র, গ্যাব্রিয়েল বনটেম্পো এবং ম্যাথিউজিনহোকে তুলে নেন| পরিবর্তে নামান ভ্যান্ডারসন, ব্রুনো গুইমারায়েস, স্যামুয়েল লিনো, ডগলাস লুইজ এবং গ্যাব্রিয়েলকে।
তবে ব্রাজিল গোল পায়েই ফিরল! ৫৮ মিনিটে ভিনির পরিবর্তে নামা লিনো স্কোরলাইন ৩-০ করল| পিছন থেকে পাস বাড়িয়ে আক্রমণ গড়ার চেষ্টা করছিল ভারত। সেই সময় বিজয়ের কাছ থেকে বলের দখল ছিনিয়ে নেন লিনো। সুযোগ পেয়ে একেবারেই তাড়াহুড়ো করেননি তিনি। একদম সময় নিয়ে বাঁকানো শটে বল জালে জড়িয়ে দেন তিনি| ঝাঁপিয়েও বলের নাগাল পাননি গিল। এখানেই ম্যাচের স্কোরলাইন লেখা হয়ে গিয়েছিল| তবে ম্যাচের যোগ করা সময়ের একদম শেষ লগ্নে তিনি আরেকটি গোল করে স্কোরলাইন ৪-০ করেন| একটা দল পাঁচবারের বিশ্বজয়ী| আরেকটা দল বিশকাপে খেলার স্বপ্ন দেখে| সুতরাং ফারাক তো সবদিক থেকেই থাকবে| তবুও এই ভারতের হার না মানা মানসিকতা আর লড়ার অদম্য ইচ্ছাই হয়তো আগামী দিনের অক্সিজেন হবে| ভারত সীমার মধ্যে থেকেও অসীমকে ছোঁয়ার চেষ্টা চোখে লেগে থাকবে| বলতেই হয় ‘ওয়েল প্লেড ইন্ডিয়া’….
ভারত প্রথম একাদশ: গুরপ্রীত সিং সান্ধু, অভিষেক সিং টেকচাম, আনোয়ার আলি, বিজয় ভার্গিস, আকাশ মিশ্র, অনিরুদ্ধ থাপা, আপুইয়া, মনবীর সিং, রায়ান উইলিয়ামস, সাহাল আবদুল সামাদ, আশিক কুরুনিয়ান
ব্রাজিল প্রথম একাদশ: মার্কুইনহোস, ডানিলো, ডগলাস স্যান্টোস, ভিনি জুনিয়র, এস্তেভাও, ম্যাথিউজিনহো, আর্থার ডিয়াস, পেড্রো, আন্দ্রে স্যান্টোস, পেড্রো মরিসকো, গ্যাব্রিয়েল বনটেম্পো
(Feed Source: zeenews.com)
