)
Flydubai attacker identified: দুবাই থেকে তেল আভিভগামী ফ্লাইদুবাই FZ1073 বিমানে ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে ছুরিকাঘাতের অভিযোগ ওঠা ওমানি কো-পাইলটকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর আগে ওমানে তাঁকে উড়ান থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা ‘র্যাডিক্যালাইজেশন’-এর অভিযোগের সঠিক প্রকৃতি এখনও তদন্তাধীন।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মাঝআকাশে ভয়াবহ ঘটনা। ফ্লাইদুবাইয়ের একটি যাত্রীবাহী বিমানের ককপিটে ভারতীয় ক্যাপ্টেনকে ছুরিকাঘাত করার অভিযোগ ওঠা ওমানি কো-পাইলটের পরিচয় প্রকাশ্যে এসেছে। সৌদি সংবাদমাধ্যম সূত্রের দাবি অনুযায়ী, ওই কো-পাইলটের নাম হামাম আল-হামামি। ঘটনাটি ঘিরে সংযুক্ত আরব আমিরশাহী ও অন্যান্য দেশের কর্তৃপক্ষের তদন্ত চলছে।
কে এই কো-পাইলট?
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, হামাম আল-হামামি ওমানের নাগরিক। বিভিন্ন রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, ফ্লাইদুবাইতে যোগ দেওয়ার আগে ওমানে তাঁর বিমান চালানোর ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা ছিল। Oman Air-এ কাজ করার সময় তাঁকে নিরাপত্তাজনিত ঝুঁকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে তাঁর বিরুদ্ধে ‘চরমপন্থী মতাদর্শ’-এর অভিযোগ যদিও স্পষ্ট নয়। ওমানের পক্ষ থেকে কোনও উদ্বেগ অন্য দেশ বা বিমান সংস্থাকে জানানো হয়েছিল কি না, সেটিও তদন্তের বিষয় বলে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে।
মাঝআকাশে কী হয়েছিল?
ঘটনাটি ঘটে ৩০ সেপ্টেম্বর ফ্লাইদুবাই-এর FZ1073 বিমানে। বিমানটি দুবাই থেকে তেল আভিভের দিকে যাচ্ছিল। মাঝআকাশে কো-পাইলট ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছারকে আক্রমণ করেন এবং ছুরিকাঘাত করেন বলে অভিযোগ। এরপর বিমানটি আচমকা দ্রুত নীচে নামতে শুরু করে। ফ্লাইট ট্র্যাকিং তথ্য অনুযায়ী, বিমানটি কয়েক হাজার ফুট দ্রুত নীচে নেমে যায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। আহত অবস্থাতেও ক্যাপ্টেন মাচ্ছার ককপিটের দরজা খোলার ব্যবস্থা করেন। এরপর যাত্রী ও বিমানে থাকা অন্য প্রশিক্ষিত পাইলটরা ককপিটে ঢুকে হামলাকারীকে নিয়ন্ত্রণে আনতে সাহায্য করেন।
শেষ পর্যন্ত কোথায় নামল বিমান?
জরুরি পরিস্থিতির মধ্যে বিমানটির গন্তব্য পরিবর্তন করা হয়। শেষপর্যন্ত সৌদি আরবের তাবুক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করে বিমানটি। যাত্রীদের নিরাপদে বিমান থেকে নামানো হয় এবং আহত দুই পাইলটকেও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। ভারতীয় ক্যাপ্টেন স্মিত মাচ্ছার বর্তমানে চিকিৎসাধীন। ঘটনার সময় তাঁর ভূমিকা নিয়ে প্রশংসা করেছেন বিভিন্ন মহলের মানুষ। আহত অবস্থাতেও ককপিটের নিয়ন্ত্রণ ফেরানোর জন্য তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন বলে বিভিন্ন রিপোর্টে উঠে এসেছে।
হামলার উদ্দেশ্য কী?
ঘটনার পিছনে ঠিক কী উদ্দেশ্য ছিল, তা এখনও তদন্তাধীন। ইজরায়েলি কর্তৃপক্ষ ঘটনাটিকে সম্ভাব্য সন্ত্রাসবাদী হামলা হিসেবে তদন্ত করছে। অন্যদিকে, কো-পাইলট তদন্তকারীদের কাছে বিমানটি ইজরায়েলে ভেঙে ফেলার ইচ্ছা প্রকাশ করেছিলেন বলে কিছু রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে। তবে তাঁর উদ্দেশ্য এবং কোনও সংগঠনের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ ছিল কি না, তা এখনও চূড়ান্তভাবে প্রতিষ্ঠিত হয়নি। এই ঘটনায় বিমান নিরাপত্তা, পাইলটদের ব্যাকগ্রাউন্ড যাচাই এবং বিমান সংস্থার নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। হামাম আল-হামামির অতীতের তথ্য কীভাবে যাচাই করা হয়েছিল এবং তাঁর বিরুদ্ধে থাকা কোনও সতর্কবার্তা ফ্লাইদুবাইয়ের কাছে পৌঁছেছিল কি না, সেটিও তদন্তের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।
(Feed Source: zeenews.com)
