)
Premananda Ji Maharaj Vrindavan Ashram disciple missing: ছেলের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার খবরে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন অনুজের বাবা-মা। তাঁর বাবা কান্নায় ভেঙে পড়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, অনুজ অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের এবং কোনোদিন বাড়ি ছেড়ে কোথাও যায়নি। সে স্বেচ্ছায় কোথাও চলে গিয়েছে, নাকি ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কোনো অঘটন ঘটেছে– তা নিয়ে গভীর আশঙ্কায় রয়েছেন পরিজনেরা।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: উত্তরপ্রদেশের বৃন্দাবনে বিখ্যাত সেলিব্রিটি সন্ন্যাসী প্রেমানন্দ জি মহারাজের আশ্রম ঘিরে আরও রহস্য বাড়ছে। এক শিষ্যের ৪ তলা থেকে ঝাঁপ দিয়ে রহস্যমৃত্যুর তদন্তের মধ্যেই উঠে এল আরও বড় রহস্য। আর এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই সারা ভারতের প্রেমানন্দজি মহারাজের তামাম ভক্তকূলের মধ্যে তুমুল আলেড়ন। শোনা যাচ্ছে তিনমাস আগে মহারাজের কাছে দীক্ষা নেওয়ার পর রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে গিয়েছে ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর। নিখোঁজ কিশোরের নাম অনুজ চৌধুরী। সে রাজস্থানের ভরতপুর জেলার ভাটপলি গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও ছেলের কোনও হদিস না পেয়ে চরম উদ্বেগ ও কান্নায় ভেঙে পড়েছে তার পরিবার। দীর্ঘদিন ধরে নিখোঁজ থাকা কিশোরের পরিবারের পক্ষ থেকে এবার আশ্রম কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক সব অভিযোগ তোলা হয়েছে। শুধু তথ্য গোপন করাই নয়, আশ্রমে ঘটে যাওয়া রহস্যজনক মৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে এনে পরিবারের সদস্যরা আশঙ্কাপ্রকাশ করেছেন যে তাঁদের ছেলের সঙ্গেও কোনো চরম অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটানো হয়ে থাকতে পারে। বৃন্দাবনের ধর্মীয় মহল এবং স্থানীয় প্রশাসনের মধ্যে তীব্র চাঞ্চল্য।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, অনুজ চৌধুরী তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে বৃন্দাবনে সন্ত প্রেমানন্দ মহারাজের দর্শনে এসেছিল। সেখানে পৌঁছে নিয়মমাফিক আচার পালন করে সে মহারাজের কাছ থেকে আধ্যাত্মিক দীক্ষা ও নাম-উপদেশ গ্রহণ করে। দীক্ষা গ্রহণের পর আশ্রম থেকে সে উত্তরপ্রদেশের হাথরসে নিজের বাড়ি ফ্রে আসে। সেখানে কিছুদিন থাকার পরই হঠাতৎ সে বাড়িতে জানায় যে, মহারাজ প্রেমানন্দজিকে দেখতে আবার আশ্রমে যাবেন। এই বলে বাড়ি থেকে বেরিয়ে আর বাড়ি ফেরেননি ওই ১৬র যুবক।
তার বড় ভাই, বাবা ও আত্মীয়রা একাধিকবার আশ্রম চত্বর এবং সংলগ্ন এলাকা তন্নতন্ন করে খোঁজাখুঁজি করেন। কিন্তু দীর্ঘ অনুসন্ধানের পরও তার কোনও সন্ধান মেলেনি। এরপরই বিষয়টি বুঝতে পেরে স্থানীয় পুলিসের দ্বারস্থ হন তাঁরা।
মোবাইল লোকেশন
পুলিসে অভিযোগ জানানোর পর অনুজের ফোনের সূত্র ধরে তদন্ত শুরু হয়। প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, নিখোঁজ হওয়ার সময় অনুজের মোবাইল ফোনের শেষ লোকেশন চিহ্নিত হয়েছিল যমুনার তীরে দেবরাহা বাবার আশ্রম সংলগ্ন এলাকায়। তবে সেই এলাকায় খোঁজাখুঁজি চালিয়েও কিশোরের কোনও সন্ধান মেলেনি এবং তারপর থেকেই তার ফোনটি সম্পূর্ণ সুইচড অফ রয়েছে।
ছেলের নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার খবরে চরম উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন অনুজের বাবা-মা। তাঁর বাবা কান্নায় ভেঙে পড়ে স্থানীয় প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছেন। পরিবারের দাবি, অনুজ অত্যন্ত শান্ত স্বভাবের এবং কোনোদিন বাড়ি ছেড়ে কোথাও যায়নি। সে স্বেচ্ছায় কোথাও চলে গিয়েছে, নাকি ভিড়ের সুযোগ নিয়ে কোনও অঘটন ঘটেছে– তা নিয়ে গভীর আশঙ্কায় রয়েছেন পরিজনেরা।
প্রেমানন্দের আশ্রমের সামনে তারা সপরিবারে ধর্নায় বসেছে। পুলিস নিয়ে আসলেও তাঁদের মন্দির চত্বরে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। তাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেই এলারার ডিএম, এসডিএম- সবাই ওই আশ্রমে দীক্ষিত তাই পুলিস বিশেষ কোনও স্টেপ নিতে পারে না।
পুলিসের তদন্ত ও অনুসন্ধান
ঘটনার গুরুত্ব বিবেচনা করে বৃন্দাবন থানার পুলিস একটি নিখোঁজ ডায়েরি দায়ের করেছে। আশ্রম এবং সংলগ্ন এলাকার সিসিটিভি (CCTV) ফুটেজ খতিয়ে দেখা হচ্ছে। রেলস্টেশন, বাসস্ট্যান্ড এবং যমুনার ঘাটগুলিতে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পুলিস আধিকারিকরা জানিয়েছেন, কিশোরের ছবি সমস্ত থানায় পাঠানো হয়েছে এবং স্থানীয় ডুবুরি ও টহলদার বাহিনীকেও সতর্ক রাখা হয়েছে।
প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে প্রতিদিন দেশ-বিদেশ থেকে হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। সেই জনসমুদ্রের মধ্যে ১৬ বছরের এক কিশোর এভাবে হঠাৎ নিখোঁজ হয়ে যাওয়ায় তীর্থযাত্রীদের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। পুলিশ আশ্বস্ত করেছে যে খুব শীঘ্রই অনুজকে উদ্ধার করে পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হবে বলে শোনা যাচ্ছিল।
আশ্রমের দিকে অভিযোগের আঙুল
অবশেষে তিন মাস পর নাটকীয়ভাবে অনুজের সন্ধান মেলে। তবে ছেলেকে অক্ষত ফিরে পাওয়ার পরই আশ্রম কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়েছে পরিবার। তাঁদের সরাসরি অভিযোগ– অনুজ যে আশ্রমেই আশ্রিত ছিল বা তাদের পরিচালনাধীন কোনো স্থানে অবস্থান করছিল, তা কর্তৃপক্ষ প্রথম থেকেই জানত। তবুও দিনের পর দিন পরিবারকে অন্ধকারে রেখে মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে এবং পরিবারকে মানসিক যন্ত্রণার মধ্যে ফেলে রাখা হয়েছে। পরিবারের অনুমতি ছাড়া ১৮ বছরের এক তরুণকে এভাবে এতদিন লুকিয়ে রাখা হলো কেন, তা নিয়ে আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন পরিজনেরা।
বৃন্দাবনের প্রেমানন্দ মহারাজের আশ্রমে প্রতিদিন হাজার হাজার ভক্তের সমাগম ঘটে। তবে ইতিপূর্বে আশ্রমে ঘটে যাওয়া অন্যান্য বিতর্কিত ঘটনার পর এবার তিন মাস ধরে নিখোঁজ থাকা তরুণের আকস্মিক উদ্ধার আশ্রমের অভ্যন্তরীণ নিয়মকানুন ও পরিচালনা ব্যবস্থা নিয়ে নতুন করে প্রশাসনের সামনে বড় প্রশ্ন তুলে দিল। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, পুরো ঘটনার প্রেক্ষাপট খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় তদন্ত চালানো হচ্ছে।
(Feed Source: zeenews.com)
