)
CJP Protest in Delhi: দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নিষেধাজ্ঞা জারি করার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং আন্দোলনস্থল সংলগ্ন এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হয়।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে দেশজুড়ে বিরোধী দল, নাগরিক সমাজ ও যুব সংগঠনগুলোর বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে রাজধানী দিল্লি উত্তাল হয়ে উঠেছে। কংগ্রেসের অভিযোগ, নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অনিয়ম এবং ভোটার তালিকায় অসঙ্গতির মাধ্যমে গণতন্ত্রকে দুর্বল করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতির মধ্যেই লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী প্রতিবাদী জনতাকে সমর্থন জানিয়ে দেশজুড়ে গণআন্দোলনগুলোকে এক ছাতার তলায় আনতে ‘সত্যাগ্রহ’ নামের একটি নতুন ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম চালু করেছেন।
বিশেষ নিবিড় ভোটার তালিকা সংশোধন (SIR) এবং নির্বাচন কমিশনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই ক্ষোভ প্রকাশ করছিল কংগ্রেস-সহ বিরোধী শিবির।
গান্ধী জয়ন্তীর দিন থেকে এই অসন্তোষ তীব্র রূপ ধারণ করে। বিরোধীদের দাবি, নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র সংশয় তৈরি হয়েছে এবং সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা রক্ষা করতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে।
দিল্লির যন্তর মন্তর ও প্যাটেল চক ছাড়াও মুম্বইয়ের শিবাজি পার্ক-সহ দেশের একাধিক প্রান্তে শিক্ষার্থী, যুব সমাজ এবং নাগরিক অধিকার কর্মীরা রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন।
পুলিসের সঙ্গে সংঘর্ষ ও ধরপাকড়
দিল্লিতে বিক্ষোভ কর্মসূচি চলাকালে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়। নিষেধাজ্ঞা জারি করার পাশাপাশি বেশ কয়েকটি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং আন্দোলনস্থল সংলগ্ন এলাকায় সাময়িকভাবে ইন্টারনেট পরিষেবা ব্যাহত হয়।
প্রতিবাদ মিছিল যন্তর মন্তরের দিকে এগোতে চাইলে পুলিসের সঙ্গে আন্দোলনকারীদের ধস্তাধস্তি ও তীব্র সংঘাত বাঁধে। যোগেন্দ্র যাদব, অঞ্জলি ভরদ্বাজ, আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ এবং ছাত্র সংগঠনের একাধিক প্রতিনিধি-সহ বহু বিরোধী নেতাকর্মীকে আটক করা হয়। কংগ্রেসের ছাত্র ও যুব শাখা এবং বিরোধী জোটের নেতারা অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের গণতান্ত্রিক অধিকারকে বলপ্রয়োগ করে দমন করছে প্রশাসন।
রাহুল গান্ধীর প্রতিক্রিয়া
বিক্ষোভকারীদের ওপর পুলিসের পদক্ষেপের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাহুল গান্ধী। সমাজমাধ্যমে এক বার্তায় তিনি মহাত্মা গান্ধীর অহিংস আন্দোলনের আদর্শ স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, সাধারণ তরুণ-তরুণীরা অহিংস উপায়ে সংবিধান রক্ষার লড়াই চালাচ্ছেন। তাঁর বক্তব্য, পুলিসি লাঠি দিয়ে ভিড়কে হয়ত ছত্রভঙ্গ করা যায়, কিন্তু ভোটার অধিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতা নিয়ে ওঠা প্রশ্নকে কখনোই থামানো সম্ভব নয়।
একই সঙ্গে তিনি চালু করেন ‘সত্যাগ্রহ’ (Satyagraha) নামের একটি ডিজিটাল পোর্টাল। এই প্ল্যাটফর্মের মূল উদ্দেশ্য হল দেশজুড়ে কৃষক, ছাত্র, শ্রমিক, দলিত এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর যে কোন স্থানীয় বা জাতীয় স্তরের বঞ্চনা ও আন্দোলনের তথ্য এক মানচিত্রে তুলে ধরা। রাহুল গান্ধীর প্রতিশ্রুতি– এই পোর্টালের মাধ্যমে উত্থাপিত জনগণের সমস্যাগুলো তিনি সংসদ থেকে রাজপথ পর্যন্ত সোচ্চারভাবে তুলে ধরবেন।
কমিশনের অবস্থান
বিরোধী দলগুলির এহেন আক্রমণকে রাজনৈতিক চক্রান্ত হিসেবে দেখছে শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। তাদের দাবি, সাংবিধানিক সংস্থাগুলির বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করতে এবং পরিকল্পিতভাবে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতেই বিরোধীরা এমন ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলছে। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকেও জানানো হয়েছে, ভোটার তালিকা সংশোধনের সমস্ত সিদ্ধান্ত নিয়মমাফিক ও যৌথ আলোচনা সাপেক্ষেই নেওয়া হয়েছে।
দিল্লি ও দেশের বিভিন্ন অংশে এই সংঘাত ও প্রতিবাদ বিরোধী রাজনীতির পারদকে এক ধাক্কায় অনেকটাই চড়িয়ে দিয়েছে, যার প্রভাব আসন্ন রাজ্য নির্বাচনগুলোতেও পড়তে চলেছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
(Feed Source: zeenews.com)
