
স্যাটেলাইটে ধরা পড়ল চাঞ্চল্যকর ছবি
স্যাটেলাইটের মাধ্যমে একাধিক চিত্র ধরা পড়েছে। এছাড়াও চিনের বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, চিন বিতর্কিত সীমান্তগুলোর অধিকার কখনও ছাড়বে না। সেগুলো নিজেদের হেফাজতে নিতে আগেও চিন আগ্রাসী মনোভাবের পরিচয় দিয়েছে। ভবিষ্যতেও তার প্রমাণ পাওয়া যাবে। সেই কারণেই এলএসির কাছাকাছি এবং ভুটানের সঙ্গে বিতর্কিত অঞ্চলের কাছে চিন ম্যানকুইন গ্রাম নির্মাণের পরিকল্পনা করেছে। আম চু ভুটান ও চিনের বিতর্কিত অঞ্চলের অন্তর্গত। এর আশেপাশের গ্রামগুলোতে স্থানীয় বাসিন্দাদের স্থানান্তরণের মতো একাধিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ম্যানকুইন গ্রাম নির্মাণের উদ্দেশ্য
বিতর্কিত অঞ্চলের কাছে চিন সমস্ত গ্রামবাসীদের অন্যত্র স্থানান্তরিত করেছে। সেখানের গ্রামগুলোর পুনর্গঠন করতে শুরু করেছে। গ্রামগুলোর বর্তমান বাসিন্দারা হলেন চিনের সামরিক বাহিনীর প্রাক্তন আধিকারিকরা। ওই গ্রামগুলোকে চিনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং দুর্গে পরিণত করতে চাইছে। সর্বশেষ উপগ্রহ চিত্রের মাধ্যমে দেখা ছবিতে জানা গিয়েছে, গ্রামগুলোয় প্রতিটি বাড়ির সঙ্গে উঠোন দেখা গিয়েছে। বাড়িগুলো সমস্ত এক ধরনের। চিনা প্রশাসন যে পরিকল্পনা করেই এই বাড়িগুলো তৈরি করেছে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। এই ধরনের গ্রামগুলোকে ইউটোপিয়ান গ্রাম বলা হয়। দেখা গিয়েছে, চিন তাদের সমস্ত সীমান্তে এই ধরনের গ্রাম তৈরি করছে। তা সে লাদাখ সীমান্ত হোক বা অরুণাচল সীমান্ত, চিন-জাপান সীমান্ত বা চিন-ভুটান বিতর্কিত সীমান্তে এই ধরনের ইউটোপিয়ান গ্রাম লক্ষ্য করা গিয়েছে।

সীমান্তে চিনের রেল পরিষেবা উন্নত করা
বিভিন্ন সীমান্তে ট্রেন পরিষেবা উন্নত করে চিন নিজেদের আধিপত্য বজায় রাখতে চাইছে। চিন তিব্বতের প্রত্যন্ত অঞ্চলে বৈদ্যুতিন বুলেট ট্রেন চালু করেছে। অরুণাচল সীমান্তের খুব কাছে তিব্বত শহরের নিংচির সঙ্গে তিব্বতের প্রদেশিক রাজধানী লাসাকে যুক্ত করেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, সীমান্তে যোগাযোগ ব্যবস্থা বাড়াতেই রেল পরিষেবার ওপর জিনপিং জোর দিয়েছে। পাশাপাশি চিন জিনজিয়াং প্রদেশেও রেল পরিষেবা আগের থেকে উন্নত করেছে। চিন নিজেদের নিয়ন্ত্রণ মজবুত করতে রেল পরিষেবা উন্নত করে। জিনজিয়াং প্রদেশে সীমন্তের সমস্যা না থাকলেও সেখানকার স্থানীয় উইঘুর সম্প্রদায়ের ওপর নিজেদের আধিপত্য বিস্তার রেল পরিষেবা উন্নত করার অন্য আর একটি কারণ।

চিনা আগ্রাসন বাড়বে
তৃতীয়বারের জন্য চিনা প্রেসিডেন্ট হিসেবে শি জিনপিং নির্বাচিত হয়েছেন। এরপরেই চিনা আগ্রাসন বাড়বে। ভারত আগেই চিনের ভাষার ওপর সেনাবাহিনীতে জোর দিচ্ছে। যার ফলে চিনা সেনাদের সীমান্তে কর্মকাণ্ড সম্পর্কে আন্দাজ করা যাবে। তা সে পূর্ব লাদাখ হোক বা ডোকলাম সীমান্ত। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জিনপিং তাইওয়ানকে পুনরুদ্ধার করার বিষয়ে এবারে আগের থেকে বেশি জোর দেবে। পাশাপাশি বৌদ্ধ তিব্বত ও জিনজিয়াং প্রদেশকে সেনা শক্তির সাহায্যে জোরে একত্রিত করে মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত করার বিষয়ে জিনপিং আরও সচেষ্ট হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
