Indian Railways : ৯৯.৬% রেলপথ বিদ্যুতচালিত, তবুও ভারতীয় রেল থেকে কেন পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছে না ডিজেল? রয়েছে বড় একটা কারণ

Indian Railways : ৯৯.৬% রেলপথ বিদ্যুতচালিত, তবুও ভারতীয় রেল থেকে কেন পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছে না ডিজেল? রয়েছে বড় একটা কারণ

Indian Rail : ভারতীয় রেল এখনও পর্যন্ত পুরোপুরি বিদ্যুতচালিত হতে পারেনি। ২০৩০ সালের মধ্যে সম্পূর্ণ রেলপথ কি বিদ্যুতচালিত হয়ে যাবে! ইঙ্গিত কিন্তু সেদিকেই।

৯৯.৬% রেলপথ বিদ্যুতচালিত , তবুও কেন পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছে না ডিজেল? এই প্রশ্ন হয়তো অনেকের মনেই জাগছে। একসময় স্টেশনে ট্রেন ঢোকার আগেই দূর থেকে দেখা যেত ধোঁয়ার কুণ্ডলী। প্রথমে বাষ্পচালিত ইঞ্জিন, পরে ডিজেল ইঞ্জিন—ধোঁয়া, শব্দ ও কালো ছাই ছড়িয়ে স্টেশনে ঢুকত। ভারতের রেল ব্যবস্থায় সেই দৃশ্য এখন প্রায় অতীত।

Indian Railways : ৯৯.৬% রেলপথ বিদ্যুতচালিত, তবুও ভারতীয় রেল থেকে কেন পুরোপুরি বিদায় নিচ্ছে না ডিজেল? রয়েছে বড় একটা কারণ

এর প্রধান কারণ, ভারতীয় রেলের ব্রডগেজ নেটওয়ার্কের প্রায় পুরো অংশই এখন বিদ্যুতচালিত হয়ে গিয়েছে। মোট ৭০,১৪২ রুট কিলোমিটারের (RKM) মধ্যে চলতি বছরের মার্চ পর্যন্ত প্রায় ৬৯,৮৭৩ RKM বিদ্যুতচালিত হয়েছে। অর্থাৎ বিদ্যুতায়নের হার ৯৯.৬%-এরও বেশি। সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, এই পরিবর্তন হয়েছে অত্যন্ত দ্রুত। ২০০৯-১০ সালে বিদ্যুতচালিত ছিল ১৮,৯২৭ RKM, ২০১৪ সালের মার্চে তা বেড়ে হয় ২১,৬১৪ RKM, ২০২৬ সালের মার্চে তা পৌঁছেছে ৬৯,৮৭৩ RKM। RKM বলতে কী বোঝায়? RKM বা Route Kilometre বলতে রেলপথের দুটি পয়েন্টের মধ্যে দূরত্বকে বোঝায়। একই জায়গায় পাশাপাশি একাধিক রেললাইন থাকলেও প্রতিটি লাইনের দৈর্ঘ্য আলাদা করে যোগ করা হয় না।

একশো শতাংশ বিদ্যুতায়ন হলেও কি ডিজেল পুরোপুরি বিদায় নেবে? গত সপ্তাহে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ভারতীয় রেলের বিদ্যুতায়নের এই পরিবর্তনকে বড় সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেন। গুজরাতের সবরমতীতে ভারতের প্রথম LNG-চালিত ট্রেনের উদ্বোধন করতে গিয়ে তিনি জানান, ২০১৫-১৬ সালে রেলে ডিজেলের ব্যবহার ছিল ২৯৩ কোটি লিটার। ২০২৪-২৫ সালে তা কমে ১০৮ কোটি লিটারে এসেছে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে তা শূন্যে নামানোর লক্ষ্য রয়েছে। তবে এখানেই রয়েছে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—রেলের ১০০% ব্রডগেজ নেটওয়ার্ক বিদ্যুতায়িত হয়ে গেলেই ডিজেল ইঞ্জিনের সম্পূর্ণ বিদায় নিশ্চিত নয়।

এরই উদাহরণ অমিত শাহের উদ্বোধন করা LNG ট্রেন। ওই ট্রেনে LNG ও ডিজেলের ডুয়াল-ফুয়েল ব্যবস্থা রয়েছে। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, প্রায় পুরো ব্রডগেজ নেটওয়ার্ক বিদ্যুতচালিত হওয়ার পরেও ভারতীয় রেলের ডিজেল লোকোমোটিভ কেন প্রয়োজন? ভারতীয় রেলের বিদ্যুতায়নের ইতিহাস প্রায় ১০০ বছরের। ভারতে বৈদ্যুতিক রেলের ইতিহাস আসলে প্রায় এক শতাব্দী পুরনো। ১৯২৫ সালে বোম্বে ভিক্টোরিয়া টার্মিনাস থেকে কুরলা হারবারের মধ্যে প্রথম বৈদ্যুতিক ট্রেন চলেছিল। তবে এরপর দীর্ঘদিন বিদ্যুতায়নের গতি ছিল ধীর। স্বাধীনতার সময় মাত্র ৩৮৮ রুট কিলোমিটার রেলপথ বিদ্যুতচালিত ছিল।

অন্যদিকে, ৬০-এর দশকে বারাণসীতে Diesel Locomotive Works উৎপাদন শুরু করার পর ডিজেলচালিত ইঞ্জিনের ব্যবহার দ্রুত বাড়তে থাকে। ১৯৮০-এর দশকে ভারতীয় রেল পরিকল্পিতভাবে বাষ্পচালিত ইঞ্জিন সরিয়ে ডিজেল ও বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশনের দিকে এগোতে শুরু করে।

১৯৯৫ সালে জলন্ধর-ফিরোজপুর রুটে শেষ সরকারি ব্রডগেজ বাষ্পচালিত পরিষেবা বন্ধ হয়। যদিও ঐতিহ্যবাহী পর্যটন পরিষেবায় এখনও কিছু বাষ্পচালিত ইঞ্জিন ব্যবহার করা হয়। এরপর ডিজেলের জায়গা নিতে শুরু করে বিদ্যুৎ। ১৯৯০-এর দশকে নিয়মিত পরিষেবায় বাষ্পের জায়গা মূলত দখল করে নেয় ডিজেল। কিন্তু ২০০০-এর দশক থেকে শুরু হয় পরবর্তী বড় পরিবর্তন—ডিজেলের জায়গা নিতে থাকে বিদ্যুৎ। ২০১৪ সালের পর এই পরিবর্তনের গতি আরও দ্রুত হয়। ২০১৪ সালে প্রায় ২১,৮০১ RKM রেলপথ বিদ্যুতচালিত ছিল। ২০১৪ থেকে মার্চ ২০২৬-এর মধ্যে সেই সংখ্যা তিন গুণেরও বেশি বেড়ে ৬৯,৮৭৩ RKM হয়েছে। অর্থাৎ, ধোঁয়া ছড়ানো বাষ্প ইঞ্জিন থেকে ডিজেল এবং সেখান থেকে প্রায় সম্পূর্ণ বিদ্যুতচালিত রেল নেটওয়ার্ক—ভারতীয় রেলের এই যাত্রা শুধু প্রযুক্তির পরিবর্তন নয়, জ্বালানি খরচ, অর্থনীতি ও রেলকর্মীদের কাজের পরিবেশেও বড় পরিবর্তন এনেছে।

(Feed Source: news18.com)