
Indian Railway: বিবিএমবি দ্বারা পরিচালিত ১৩ কিলোমিটার রুটের এই ঐতিহাসিক ট্রেনটি কয়েক দশক ধরে যাত্রীদের টিকিট ছাড়াই মনোরম ভ্রমণের সুযোগ দিয়ে আসছে। জানেন কোন রুটে চলে এই ট্রেন?
যে দেশে ট্রেনে ওঠার আগে সাধারণত টিকিট কেনা আবশ্যক, সেখানে এমন একটি ঐতিহাসিক ট্রেন পরিষেবা রয়েছে যেখানে যাত্রীরা একটি টাকাও খরচ না করে ভ্রমণ করতে পারেন।
ট্রেনটি পঞ্জাবের নাঙ্গাল এবং হিমাচল প্রদেশের ভাকরার মধ্যে প্রায় ১৩ কিলোমিটার দূরত্ব অতিক্রম করে। এই যাত্রায় প্রায় ৪০ মিনিট সময় লাগে এবং এটি মনোরম শিবালিক পাহাড় ও শতদ্রু নদীর পাশ দিয়ে যায়। এই সংক্ষিপ্ত রুটে তিনটি টানেল এবং ছয়টি ছোট রেলওয়ে স্টেশন রয়েছে এবং পরিষেবাটি সকাল ও সন্ধ্যায় চালু থাকে।
এই রেল পরিষেবাটি শুরু হয়েছিল প্রায় ১৯৪৮ সালে, যখন ঐতিহাসিক ভাকরা-নাঙ্গাল বাঁধ নির্মাণের সময় এটি চালু করা হয়। ট্রেনটি মূলত শ্রমিক, প্রকৌশলী, ভারী যন্ত্রপাতি এবং নির্মাণ সরঞ্জাম প্রকল্পস্থলে পরিবহনের জন্য তৈরি করা হয়েছিল। বাঁধের নির্মাণকাজ শেষ হওয়ার পরেও এই পরিষেবা চালু ছিল এবং ধীরে ধীরে এটি আশেপাশের এলাকার মানুষের জন্য পরিবহনের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হয়ে ওঠে। ট্রেনটিকে আরও ব্যতিক্রমী করে তুলেছে এই বিষয়টি যে, এটি ভারতীয় রেল দ্বারা পরিচালিত হয় না। পরিবর্তে, ভাকরা বিয়াস ম্যানেজমেন্ট বোর্ড (বিবিএমবি) এর কার্যক্রম তত্ত্বাবধান করে।
যেহেতু ট্রেনে ভ্রমণের জন্য যাত্রীদের কাছ থেকে কোনও ভাড়া নেওয়া হয় না, তাই ডিজেলের খরচ-সহ এই পরিষেবা পরিচালনার সমস্ত ব্যয় বিবিএমবি বহন করে। ফলে ট্রেনটি একটি বাণিজ্যিক যাত্রী পরিষেবা হিসেবে নয়, বরং এই অঞ্চলের ঐতিহাসিক ঐতিহ্যের অংশ হিসেবে চালু রয়েছে। ট্রেনটির বগিগুলোরও একটি আকর্ষণীয় ইতিহাস রয়েছে। জানা যায়, কাঠের এই বগিগুলো ১৯২৩ সালে করাচিতে তৈরি হয়েছিল, যখন শহরটি অবিভক্ত ভারতের অংশ ছিল। এই পরিষেবাতে শুরুতে একটি কয়লাচালিত বাষ্পীয় লোকোমোটিভ ব্যবহার করা হতো, যা পরে একটি ডিজেল ইঞ্জিন দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়।
আজও ট্রেনটি তার পুরোনো দিনের আকর্ষণ ধরে রেখেছে, যার অংশ হিসেবে তিনটি পুরোনো ধাঁচের কাঠের কোচ রয়েছে। এর স্বতন্ত্র চেহারা এবং টিকিটবিহীন এই অভিনব যাত্রাপথ এটিকে দর্শনার্থীদের কাছেও একটি আকর্ষণে পরিণত করেছে।
তবে, পরিষেবাটি চালু রাখা সবসময় সহজ ছিল না। পরিচালন ব্যয় বাড়তে থাকায়, বিবিএমবি ২০১১ সালে বিনামূল্যে ভ্রমণ বন্ধ করে টিকিট ব্যবস্থা চালুর কথা বিবেচনা করেছিল। অবশেষে, কর্মকর্তারা এই পরিষেবাটিকে বাণিজ্যিক আয়ের উৎসে পরিণত না করার সিদ্ধান্ত নেন।
পরিবর্তে, ভাকরা-নাঙ্গাল বাঁধ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত ঐতিহ্যের প্রতীক হিসেবে বিনামূল্যের ট্রেনটিকে রেখে দেওয়া হয়েছিল। আজও স্থানীয় গ্রামবাসী, ছাত্রছাত্রী এবং পর্যটকেরা এই পরিষেবাটি ব্যবহার করে চলেছেন, যা শত শত যাত্রীকে ভারতে এক বিরল ট্রেন যাত্রার অভিজ্ঞতা লাভের সুযোগ করে দেয়, যেখানে কোনও ভাড়া বা টিকিটের প্রয়োজন হয় না।
(Feed Source: news18.com)
