‘আমিই নোবেলের যোগ্য, ৮টি যুদ্ধ থামিয়েছি’, নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ফের দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

‘আমিই নোবেলের যোগ্য, ৮টি যুদ্ধ থামিয়েছি’, নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে ফের দাবি ডোনাল্ড ট্রাম্পের

 

Washington: নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার দাবি ফের জোরালো করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, গত এক বছরে তিনি আটটি যুদ্ধ বা সংঘাতের অবসান ঘটিয়েছেন। শুধু তাই নয়, আরও একটি সংঘাতের সমাধান খুব শীঘ্রই হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি। তাঁর এই মন্তব্যের সময় ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের প্রসঙ্গও সামনে এসেছে।

হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প বলেন, তিনি এমন কিছু করেছেন যা এর আগে কোনও মার্কিন প্রেসিডেন্ট করেননি। নিজের দাবিকে ‘বড়াই’ নয় বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, আটটি যুদ্ধের নিষ্পত্তিতে তাঁর ভূমিকা রয়েছে।

নোবেল নিয়ে ফের সরব ট্রাম্প

নোবেল শান্তি পুরস্কার পাওয়ার ইচ্ছা ট্রাম্পের কাছে নতুন নয়। দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট হওয়ার পর একাধিকবার নিজের কূটনৈতিক ভূমিকার কথা তুলে ধরে এই পুরস্কারের দাবিদার হিসেবে নিজেকে তুলে ধরেছেন তিনি। এবারও তাঁর যুক্তি, একাধিক আন্তর্জাতিক সংঘাতে হস্তক্ষেপ করে তিনি সংঘর্ষ কমাতে বা থামাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছেন। ট্রাম্পের দাবি, ভারত-পাকিস্তান, ইজরায়েল-ইরান, কম্বোডিয়া-থাইল্যান্ড, সার্বিয়া-কসোভো, রুয়ান্ডা-ডেমোক্র্যাটিক রিপাবলিক অব কঙ্গো, মিশর-ইথিওপিয়া এবং আর্মেনিয়া-আজারবাইজান-সহ একাধিক সংঘাতের ক্ষেত্রে আমেরিকার ভূমিকা ছিল গুরুত্বপূর্ণ। তবে তাঁর এই দাবির সবকটি অংশ নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। একাধিক ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট দেশগুলি সংঘাত থামানোর ক্ষেত্রে আমেরিকার ভূমিকার মাত্রা নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য জানিয়েছে। ভারতও অতীতে স্পষ্ট করেছে যে ভারত-পাকিস্তানের সংঘর্ষ থামানোর ক্ষেত্রে কোনও মার্কিন মধ্যস্থতা ছিল না।

‘চার-পাঁচবার নোবেল পাওয়া উচিত ছিল’

এর আগেও নোবেল শান্তি পুরস্কার নিয়ে নিজের দাবি প্রকাশ্যে জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। ২০২৫ সালে তিনি বলেছিলেন, তাঁর কাজের জন্য ইতিমধ্যেই চার বা পাঁচবার এই পুরস্কার পাওয়া উচিত ছিল। প্রাক্তন মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাকে ২০০৯ সালে নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়ার বিষয়টিও ফের টেনে আনেন ট্রাম্প। তাঁর বক্তব্য, ওবামা পুরস্কার পেলেও তাঁর নিজের কূটনৈতিক সাফল্যের তুলনায় ট্রাম্পের প্রাপ্যতা বেশি।

ট্রাম্পকে কি সত্যিই মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে?

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য ট্রাম্পের নাম নিয়ে প্রকাশ্যে একাধিক দাবি রয়েছে। রিপাবলিকান কংগ্রেসওম্যান ক্লডিয়া টেনি চলতি বছর তৃতীয়বারের মতো ট্রাম্পকে মনোনয়ন দেওয়ার কথা জানিয়েছেন। ইজরায়েল, পাকিস্তান এবং কম্বোডিয়ার নেতারাও ট্রাম্পকে মনোনয়ন দিয়েছেন বলে প্রকাশ্যে দাবি করা হয়েছে। তবে নোবেল কমিটি কোনও নির্দিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়ন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে না। নোবেল শান্তি পুরস্কারের জন্য এ বছর মোট ২৮৭টি মনোনয়ন রয়েছে—এর মধ্যে ২০৮ জন ব্যক্তি এবং ৭৯টি সংগঠন। মনোনয়ন পাওয়া মানেই যে নোবেল কমিটি সংশ্লিষ্ট প্রার্থীকে সমর্থন করছে, এমনটা নয়।

ইরান সংঘাত কি ট্রাম্পের নোবেল দাবিতে বাধা?

ট্রাম্পের নোবেল দাবির সময়ই সামনে এসেছে ইরান প্রসঙ্গ। নিজেকে শান্তির দূত হিসেবে তুলে ধরলেও তাঁর প্রশাসনের সঙ্গে ইরানের সংঘাত এখনও বড় আন্তর্জাতিক ইস্যু। একই সময়ে ইউক্রেন যুদ্ধেরও কোনও স্থায়ী সমাধান হয়নি। ফলে ট্রাম্পের ‘আটটি যুদ্ধ থামানোর’ দাবি নিয়ে যেমন রাজনৈতিক বিতর্ক রয়েছে, তেমনই চলমান সংঘাতগুলির বাস্তব পরিস্থিতিও তাঁর নোবেল দাবিকে আরও জটিল করে তুলছে। এদিকে, ২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার ৯ অক্টোবর ঘোষণা হওয়ার কথা। ফলে তার ঠিক আগে ট্রাম্পের এই মন্তব্য নতুন করে আন্তর্জাতিক মহলে তাঁর নোবেল-দাবি নিয়ে আলোচনা তৈরি করেছে।