
Nana Patekar on Smoking & Anger Management: ক্রোধ এবং নানা পাটেকর যেন সমনামী এবং সমার্থক। তিনি নাকি উত্তরাধিকার সূত্রে মায়ের থেকে পেয়েছিলেন তীব্র রাগ। নিজের চরিত্রের কালো দিকগুলি বার বার আতসকাচের নীচে ফেলেছেন অকপট নানা পাটেকর।
নানা পাটেকর (১৯৫১-২০২৬)
স্পষ্টবাদিতা এবং নানা পাটেকর যেন সমার্থক এবং একে অন্যের পরিপূরক৷ পর্দার মতো নিজের জীবন নিয়েও ছিলে অকপট৷ কার্পণ্য করেননি নিজের খারাপ দিকগুলি নিয়েও বলতে৷ একাধিক সাক্ষাৎকারে উঠে এসেছে নানার ক্ষত বিক্ষত জীবনের ঘাত প্রতিঘাত৷ কৈশোরেই হারিয়েছিলেন দাদাকে৷ উঁচু বাড়ি থেকে পড়ে অপমৃত্যু হয়েছিল সেই কিশোরের৷ শোকের থেকেও পরবর্তীতে নানাকে বিস্মিত করেছিল তাঁর মায়ের কাঠিন্য৷ পুত্রশোকে কখনও প্রকাশ্যে ভেঙে পড়েননি, দুঃখও প্রকাশ করেননি তিনি৷ ক্রোধের উত্তরাধিকারও কি তাঁর মায়ের কাছ থেকেই? সেরকমই বিশ্বাস ছিল অভিনেতার৷ শৈশবে মায়ের কাছে নিদারুণ প্রহৃত হতেন৷ নিষ্করুণ সেই সেই মুহূর্তগুলোই হয়তো তিলে তিলে তৈরি করেছিল তাঁর চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য৷

তার পরও নানার সহানুভূতি ছিল নিজেকে নিয়েই৷ স্বীকার করেছেন নিজেই৷ সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমার বড় ছেলে তালুকাটা নিয়ে জন্মেছিল, তার একটি চোখ দিয়ে দেখতেও কষ্ট হত। ওকে এই অবস্থায় দেখে আমার মাথায় প্রথম যে চিন্তাটা আসত তা হল, লোকেরা আমার সম্পর্কে কী ভাববে, যে আমার ছেলে দেখতে এমন! ভাবুন তো আমি কী ভয়ঙ্কর একজন মানুষ। আমার প্রথম চিন্তা ছিল লোকেরা আমার সম্পর্কে কী বলবে, ওর সম্পর্কে নয়।” নিজেকে নিয়ে এই তীক্ষ্ণ স্বীকারোক্তি নানা পাটেকরই পারেন৷ নানা পাটেকরকেই মানায়৷
পুত্রশোক ভুলতে তিনি অনবরত ধূমপান করতেন, যার কারণে লোকজন তাঁকে এড়িয়ে চলত। “সেই সময় আমি দিনে প্রায় ৬০টা সিগারেট খেতাম। এমনকি স্নানের সময়ও ধূমপান করতাম। কিন্তু এটা খুব খারাপ একটা ব্যাপার। দুর্গন্ধের কারণে কেউ আমার গাড়িতে বসত না। আমি খুব বেশি মদ খেতাম না, কিন্তু প্রচুর ধূমপান করতাম,” অভিনেতা বলেন। শোক ভুলতে যে নেশাকে আশ্রয় করেছিলেন, সেটা ছেড়ে দিয়েছিলেন আর এক শোকের কশাঘাতে৷ নানা পাটেকর বলেন যে তিনি তাঁর বোনের কারণেই ধূমপান ছেড়ে দিয়েছেন। তাঁর বোনও হারিয়ে ছিলেন নিজের একমাত্র সন্তানকে৷ সেই শোকের পরিবেশেও নানা ধূমপান করতে করতে কাশছিলেন৷ তাঁকে ওই পরিবেশে ওই অবস্থায় দেখে বোলেন প্রতিক্রিয়া ছিল, ‘‘আর কী কী দেখতে হবে আমাকে!’’ এই প্রতিক্রিয়া যেন চাবুকের মতো বিঁধেছিল অভিনেতাকে৷ তিনি ধীরে ধীরে ধূমপান ছেড়ে দেন৷ একদিন-একদিন করে প্রতিদিনই মুক্ত হন ধূমপানের ধূম্রজাল থেকে৷ জীবনের তিক্ততার মুহূর্তগুলি নিয়ে এভাবেই নিজেকে জারিত করতে নানা পাটেকর, ওরফে বিশ্বনাথ গজানন পাটেকর ছিলেন সিদ্ধহস্ত৷
(Feed Source: news18.com)
