ব্যক্তিগতভাবে শাহরুখের কাছে থেকে গেল একজন মানুষের স্মৃতি যিনি প্রয়োজনে বকেছেন, ভুল ধরেছেন, শিখিয়েছেন, আবার নিঃশব্দে ভালোও বেসেছেন।
মেন্টর-শিক্ষক-বন্ধু নানা পাটেকরকে হারিয়ে আবেগঘন শাহরুখ
মুম্বই: প্রথম দেখা। সামনে তখন নানা পাটেকর। মুগ্ধতা, খানিকটা অস্বস্তি—হয়তো নিজের চুল নিয়েই একটু নাড়াচাড়া করছিলেন শাহরুখ। আচমকাই তাঁর হাত সরিয়ে দিয়েছিলেন নানা। তারপর সোজাসাপ্টা বলেছিলেন, ‘হিরোর মতো চুল বানিও না… তুমি তো অভিনেতা।’ আজ নানা পাটেকরের প্রয়াণ দিবসে সেই দিনকেই মনে করছেন শাহরুখ ৷
সেই মুহূর্তের কথা আজও ভোলেননি শাহরুখ। কারণ, ওই একটি কথার মধ্যেই যেন ধরা ছিল নানা পাটেকরের সম্পূর্ণ ব্যক্তিত্ব। তিনি তোষামোদ করতেন না। কী শুনতে ভালো লাগবে, সেটা বলতেন না। বরং যা শোনা দরকার, সেটাই বলতেন। কখনও রুক্ষভাবে, কখনও কঠিন ভাষায়, কিন্তু নিজের বিশ্বাস থেকে। নানা এমনই ছিলেন—সোজাসাপ্টা, রুক্ষ অথচ সৎ। আর সেই কঠিন মুখের আড়ালে ছিল এক অসম্ভব সুন্দর হাসি। শাহরুখের চোখে নানা পাটেকর এমনই৷
স্নেহ প্রকাশের ধরনটাও ছিল তাঁর নিজস্ব। আগে বকাঝকা, তারপর হয়তো দু’-চারটে কড়া কথা। আর সেই বকুনির মাঝেই কখন যে মানুষটাকে আপন করে জড়িয়ে নিতেন, তা টের পাওয়ার সুযোগ থাকত না। শাহরুখ বলেন, ‘‘উনি আমাকে ভালোবাসতেন, আমিও তাঁকে ভালোবাসতাম’’—এই সম্পর্ককে আর কোনও বিশেষণের প্রয়োজন হয় না। শুধু সহকর্মী নন, নানা ছিলেন শাহরুখের কাছে মেন্টর, শিক্ষক, সমালোচক এবং বন্ধু। অভিনয়ের পাঠ যেমন দিয়েছেন, তেমনই প্রয়োজন হলে কঠিন সমালোচনাও করেছেন। তবে দু’জনের সম্পর্কের মধ্যে ছিল নিছক কাজের বাইরের এক বন্ধুত্বও। আর সেই বন্ধুত্বের অন্যতম স্মৃতি—ক্যারম বোর্ড। শাহরুখের কথায়, আরও একটা দীর্ঘ আড্ডা হতে পারত। আরও একটা তর্ক। এক কাপ চা। আর একটা ম্যাচ। কিন্তু সময় আর সেই সুযোগ দিল না। নানা পাটেকরের চলে যাওয়া শুধু সিনেমার জগতেই শূন্যতা তৈরি করেনি, তাঁর কথায়, তা ছুঁয়ে গিয়েছে অগণিত মানুষের হৃদয়। আর ব্যক্তিগতভাবে শাহরুখের কাছে থেকে গেল একজন মানুষের স্মৃতি যিনি প্রয়োজনে বকেছেন, ভুল ধরেছেন, শিখিয়েছেন, আবার নিঃশব্দে ভালোও বেসেছেন।
সংবাদ সংস্থা PTI-এর প্রকাশিত একটি পোস্টে দেখা যায়, গোয়ায় সম্রাট ক্লাব ইন্টারন্যাশনালের অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখছেন নানা পাটেকর। অনুষ্ঠানে তাঁর পরনে ছিল সাদা কুর্তা এবং সাদা গামছা। সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার ভোর ৫টা ২০ মিনিট নাগাদ নিজের বাড়িতে তীব্র হৃদ্রোগে আক্রান্ত হওয়ার পর নানা পাটেকরের মৃত্যু হয়। মণিপাল হাসপাতালের অনকোলজি বিভাগের প্রধান চিকিৎসক শেখর সালকার জানান, টানা ৪৫ মিনিট সিপিআর দেওয়ার পরও তাঁকে বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসক বলেন, “একটি মেডিকো-লিগ্যাল কেস (MLC) নথিভুক্ত করা হয়েছে এবং ময়নাতদন্ত করা হবে।”
(Feed Source: zeenews.com)