
৮ অক্টোবর গভীর রাতে শেষকৃত্য সম্পন্ন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই হিন্দি ও মারাঠি সিনেমার এই কিংবদন্তি অভিনেতা পঞ্চভূতে বিলীন হন। ভারাক্রান্ত মনে বাবার শেষকৃত্যের সমস্ত বিধি মেনে যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন নানার ছেলে মলহার। বাবার পা ছুঁয়ে তাঁকে শেষ বিদায় জানান তিনি। মন্ত্রোচ্চারণের মধ্য দিয়ে সমস্ত আচার-অনুষ্ঠান সম্পন্ন হয়। এই সময় তাঁর স্ত্রী নীলকান্তিকেও শোকাহত দেখায়। তবে সকলের মনেই একটি প্রশ্ন ছিল, কেন গভীর রাতেই পরিবারের তরফে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হল?
মাঝরাতে কেন সম্পন্ন হল শেষকৃত্য?
বাবাকে শেষ বিদায় জানানোর সময় ছেলে মলহারকে অত্যন্ত আবেগপ্রবণ দেখাচ্ছিল। সূর্যাস্তের পর কেন তাঁর বাবার শেষকৃত্য করা হয়েছিল, তা জানিয়েছেন মলহার পাটেকর। প্রচলিত রীতি অনুযায়ী, সূর্যাস্তের পর শেষকৃত্য সম্পন্ন করা হয় না। শেষকৃত্যের পর সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলার সময় এর কারণ ব্যাখ্যা করেন মালহার। তিনি জানান, পরিবার গোয়ায় ছিল এবং নানা পাটেকরের মরদেহ গ্রামের ফার্মহাউসে নিয়ে আসতে অনেকটা সময় লেগে যায়। পরিবারের আশা ছিল, তাঁরা দ্রুত পৌঁছে যাবেন। কিন্তু দীর্ঘ যাত্রার কারণে দেরি হয়ে যায়।
মলহার বলেন, ‘‘আমরা গোয়ায় ছিলাম এবং বাবার মরদেহ গ্রামের ফার্মহাউসে নিয়ে আসতে হত। আমাদের মনে হয়েছিল, আমরা দ্রুত পৌঁছে যাব। কিন্তু এতে কিছুটা সময় লেগে যায়। ভোরের দিকে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল এবং ততক্ষণে অনেকটা সময় পেরিয়ে গিয়েছিল। মরদেহ বেশিক্ষণ রেখে দেওয়া ঠিক ছিল না। তাই সূর্যাস্তের পর আমাদের শেষকৃত্য সম্পন্ন করতে হয়।’’
‘নানা সাহেবের মতো মানুষ আসলে কখনও চলে যান না’:
বাবাকে স্মরণ করে মলহার আরও বলেন, নানা সাহেবের মতো মানুষ আসলে কখনও চলে যান না। নিজেদের কাজ ও কৃতিত্বের মাধ্যমে তাঁরা সবসময় মানুষের মধ্যে বেঁচে থাকেন। তাঁর মতে, নানার দৃষ্টিভঙ্গি সবসময় একই রকম ছিল। তিনি চাইতেন, মানবতার স্বার্থে মানুষ একজোট হোক এবং পৃথিবীকে আরও সুন্দর করে তোলার জন্য কাজ করুক।
এই বিষয়টি নিয়ে চিন্তিত ছিলেন নানা পাটেকর:
নানা পাটেকরের ছেলে মালহার বাবার সঙ্গে হওয়া শেষ কথোপকথনের কথা উল্লেখ করে আবেগঘন একটি বিষয় জানিয়েছেন। তিনি জানান, মৃত্যুর আগে যখন নানা সাহেবের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছিল, তখন নানা নিজের থেকেও বেশি তাঁকে নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। মলহার জানান, গত কয়েক দিন ধরে তাঁর শরীর ভালো যাচ্ছিল না। এই বিষয়টি নিয়েই তিনি উদ্বিগ্ন ছিলেন। শেষ কথোপকথনে নানা পাটেকর ছেলেকে বলেছিলেন, ‘‘আমার জন্য শুধু এটুকুই যথেষ্ট যে, তুই নিজের শরীরের যত্ন নিস।’’ বাবার এই কথাগুলি থেকেই বোঝা যায়, ছেলের সুস্থতা তাঁর কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। সারাজীবন নিজের স্পষ্টবাদিতা এবং দৃঢ় ব্যক্তিত্বের জন্য পরিচিত নানা পাটেকরের এই রূপ তাঁর অনুরাগীদের আবেগপ্রবণ করে তুলেছে।
বাবার স্বপ্ন পূরণ করবেন মলহার:
মলহার আরও স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, নানা পাটেকরের সামাজিক কাজকর্ম বন্ধ হতে দেওয়া হবে না। নানা পাটেকর নাম ফাউন্ডেশনের মাধ্যমে তিনি জল সংরক্ষণ, শিক্ষা এবং স্বাস্থ্যের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে কাজ করছিলেন। মালহারের মতে, তাঁর বাবা আগামী দিনের কাজকর্মের জন্য বিভিন্ন ব্যক্তির উপর দায়িত্ব অর্পণ করে গিয়েছিলেন। তিনি জানান, মারাঠওয়াড়ায় প্রস্তাবিত কাজ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও আলোচনা হয়েছে। ফাউন্ডেশনের সিইও গণেশ থোরাটের নির্দেশনায় কাজ চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। মলহার বলেন, তাঁর বাবা যে বৃহৎ পরিসরে কাজ করতে চেয়েছিলেন, সেই লক্ষ্য পূরণ করা এখন পরিবার এবং তাঁর সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের দায়িত্ব।
(Feed Source: news18.com)
