)
CJP Protest in Delhi: ১০ অক্টোবরের সিজেপি বিক্ষোভে রণক্ষেত্র দিল্লি। দিল্লি বিমানবন্দরে বিমানে ঢুকে আটক অভিজিৎ দীপকে। গুরুগ্রাম থেকে আটক ধ্রুব রাঠি। স্তব্ধ রাজধানী।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: মুখ্য নির্বাচন কমিশনার (CEC – Chief Election Commissioner) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ডাকা ‘সিজেপি’ (Cockroach Janta Party – CJP)-র যন্তর মন্তর অভিযান রুখতে শনিবার সকাল থেকেই রণক্ষেত্রের চেহারা দেশের রাজধানী দিল্লিতে। বিমানবন্দর থেকে রাজপথ– আন্দোলনকারীদের রুখতে সর্বত্র জারি রয়েছে দিল্লি পুলিসের সর্বাত্মক অভিযান। মুম্বই থেকে বিমানে দিল্লি পৌঁছনো মাত্রই বিমানের চাকা মাটি ছুঁতেই সেখানে ভেতরে ঢুকে সিজেপি প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে এবং দুই শীর্ষ নেতা সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করে পুলিস। নিজেদের ইনস্টাগ্রাম চ্যানেলে লাইভ করে এই রোমহর্ষক ঘটনার VDO পোস্ট করেছেন অভিজিৎ।
অন্যদিকে, ভোরবেলায় হরিয়ানার গুরুগ্রামের বাসভবন থেকে আটক করা হয়েছে জনপ্রিয় ইউটিউবার ধ্রুব রাঠিকে (Dhruv Rathee)। রাজধানীর বুক থেকে ইতোমধ্যেই ৬০০ জনেরও বেশি বিক্ষোভকারীকে প্রিভেন্টিভ ডিটেনশনে নেওয়া হয়েছে। ট্রেন বাতিল, ৪৫ মেট্রো স্টেশনে তালা এবং ২৪ ঘণ্টার মোবাইল ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউটের পর এই গণগ্রেফতারিকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়েছে।
রানওয়েতে রুদ্ধশ্বাস নাটক
শনিবার সকাল ১০টা ১৯ মিনিট নাগাদ মুম্বই থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিমানে দিল্লির ইন্দিরা গান্ধী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের (IGI Airport) ৩ নম্বর টার্মিনালে পৌঁছনোর পরেই সিজেপির আহ্বায়ক অভিজিৎ দীপকে, দলের অন্যতম প্রধান মুখ সৌরভ দাস ও আশুতোষ রাঙ্কাকে আটক করতে বিমানে চলে আসে পুলিসের দল।
ফ্লাইটের ভিতরেই অপারেশন: বিমান থামার সঙ্গে সঙ্গেই দিল্লির দক্ষিণ-পশ্চিম জেলা পুলিসের একটি বড় দল সোজা বিমানের ভেতর উঠে পড়ে। অন্য যাত্রীদের তখন সিটেই আটকে রাখা হয়।
ইনস্টাগ্রাম লাইভ: বিমানের ভেতর থেকেই গোটা ঘটনার সরাসরি সম্প্রচার (Instagram Live) করেন দীপকে। পুলিসকে লক্ষ্য করে তাঁকে বলতে শোনা যায়, ‘আমরা বিমান থেকে নামা পর্যন্ত তো অপেক্ষা করতে পারতেন! আসুন, গ্রেফতার করুন। গ্রেফতার হতেই এসেছি, কাউকে ভয় পাই না।’
সিজেপির প্রতিক্রিয়া: এই আটকের তীব্র নিন্দা জানিয়ে দলের তরফে এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের গণতান্ত্রিক কণ্ঠরোধ করতেই পুলিস এই পূর্বপরিকল্পিত পদক্ষেপ করেছে। অবিলম্বে সবার নিঃশর্ত মুক্তির দাবি তোলা হয়েছে।
গুরুগ্রাম থেকে ধ্রুব রাঠি আটক
যন্তর মন্তরের জমায়েতে যোগ দিতে সম্প্রতি দেশে ফিরেছিলেন ইউটিউবার ধ্রুব রাঠি। শনিবার সকালে গুরুগ্রামের বাড়ি থেকে দিল্লির উদ্দেশে রওনা দেওয়ার আগেই তাঁকে আটক করে পুলিস। অভিযোগ, তাঁকে দিল্লিতে প্রবেশ না করতে অনুরোধ করা হলেও তিনি তা শোনেননি।
একই সঙ্গে আইনি লড়াইয়ের দায়িত্বে থাকা আইনজীবী রত্না সিংহ-সহ সুপ্রিম কোর্টের একদল আইনজীবীকেও মাঝপথে আটকে প্রিজন ভ্যানে তোলা হয়েছে। যন্তর মন্তরে জমায়েত রুখতে দিল্লি পুলিস আইনের ৬৫ নম্বর ধারা (Section 65 of Delhi Police Act) প্রয়োগ করে আন্দোলনকারী, পড়ুয়া এবং সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারদের নির্বিচারে আটক করা হচ্ছে। আটক ব্যক্তিদের রাখতে একাধিক স্টেডিয়ামকে কার্যত অস্থায়ী আটক শিবিরে পরিণত করা হয়েছে।
দুর্গের ঘেরাটোপে রাজধানী
শনিবার সকাল ৬টা থেকেই রাজধানীর সমস্ত প্রধান রাস্তায় জারি হয়েছে যান চলাচলের পথ পরিবর্তন (Traffic Diversion)।
সীমান্ত সিল ও ট্রানজিট ব্লক: হরিয়ানা ও উত্তরপ্রদেশ সীমান্তে ব্যারিকেড দিয়ে কড়া নাকা চেকিং চলছে। যন্তর মন্তরগামী সমস্ত রাস্তায় মোতায়েন রয়েছে আধা-সামরিক বাহিনী (CAPF) ও দিল্লি পুলিশ।
মেট্রো ও ট্রেন বন্ধ: দিল্লি মেট্রোর (DMRC) ৪৫টি স্টেশনে সাধারণের প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ বা গেট বন্ধ রাখা হয়েছে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত নয়াদিল্লি ও নিজামুদ্দিনগামী বহু দূরপাল্লার এক্সপ্রেস ট্রেন আগেই বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
ডিজিটাল প্রাচীর: জনপথ থেকে ৪ কিমি ব্যাসার্ধে জারি রয়েছে মোবাইল ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট (Mobile Internet Blackout)।
সরব বিরোধী শিবির
বিমানে ওঠার আগেই অবশ্য কেন্দ্রকে তীব্র আক্রমণ করেছিলেন অভিজিৎ দীপকে। তাঁর অভিযোগ ছিল, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ দেশের যুবসমাজ ও সাধারণ মানুষের ক্ষোভকে ভয় পাচ্ছেন বলেই এহেন অঘোষিত জরুরি অবস্থা চালু করা হয়েছে।
এই দমননীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়েছে বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরও। লোকসভার দলনেতা রাহুল গান্ধী এক্স হ্যান্ডলে সাফ লিখেছেন, ‘জ্ঞানেশ কুমারকে যেতেই হবে, এই সরকারও যাবে; তারপরই শুরু হবে গণতন্ত্র মেরামতের কাজ।’ সমাজবাদী পার্টির প্রধান অখিলেশ যাদবও যুবকদের গণতান্ত্রিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার বিরুদ্ধে তোপ দেগেছেন। আটক ও প্রশাসনিক নিষেধাজ্ঞার পর এই ক্ষোভ আরও বড় রূপ নেয় কি না, সেদিকেই এখন নজর গোটা দেশের।
