
একটি বিবৃতিতে সিজেপি নেতা অজিঙ্ক্য শিন্ডে অভিযোগ করেন, বিক্ষোভ আন্দোলনের ভয়ে সরকার জাতীয় রাজধানীকে স্তব্ধ করে দেওয়ার চেষ্টা করেছে। তিনি বলেন, দলটি “আগামিকাল আরও শক্তিশালী হয়ে” রাস্তায় ফিরবে এবং মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ না করা পর্যন্ত তাদের বিক্ষোভ চালিয়ে যাবে।
মুখ্য নির্বাচন কমিশনারের পদ থেকে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফা চেয়ে শনিবার দিল্লিতে কর্মসূচির ডাক দেয় সিজেপি, দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক এবং ছাত্র সংগঠন। সেই কর্মসূচি ঠেকাতে দিল্লিকে একপ্রকার ‘অভেদ্য দুর্গে’ পরিণত করা হয়েছিল। যন্তর মন্তর তো বটেই, দিল্লির বিভিন্ন দিকে ব্যারিকেড বসানো হয়। রাস্তায় নামে হাজার হাজার পুলিশ। তৈরি হয় অনেকগুলি অস্থায়ী ডিটেনশন ক্যাম্প।
ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়ায় কথিত অনিয়মের অভিযোগ তুলে জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে যন্তর মন্তরে বিক্ষোভের পরিকল্পনা করেছিল সিজেপি। তবে নিরাপত্তা, যান চলাচল এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উদ্বেগের কথা উল্লেখ করে দিল্লি পুলিশ ওই বিক্ষোভের অনুমতি দেয়নি। দিল্লিতে পৌঁছনোর পর সিজেপির একাধিক নেতাকে আটক করা হয়। তাঁদের মধ্যে ছিলেন দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে, সৌরভ দাস এবং আশুতোষ রাঙ্কা।
দিপকের আটক হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ সিজেপির:
দিপকে, রাঙ্কা এবং সৌরভ দাসের অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেছে দলটি। তাদের দাবি, আটক নেতাদের স্বাধীনভাবে যোগাযোগ করতে দেওয়া হচ্ছে না।
বিশেষ করে দিপকের বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে সিজেপি। কারণ, শনিবার মহারাষ্ট্রে তাঁর ঠাকুমা সাবিত্রীবাই দিপকের মৃত্যু হয়েছে। দলের অভিযোগ, অভিজিৎ দিপককে তাঁর ঠাকুমার সঙ্গে কথা বলতে দেওয়া হয়নি। তাঁর মৃত্যুর পর সরকার তাঁকে “মানসিক অত্যাচার”-এর শিকার করেছে বলেও অভিযোগ করেছে দলটি।
সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার সংকল্পের কথা ফের জানিয়েছে সিজেপি। অজিঙ্ক্য বলেন, “এটি দীর্ঘ লড়াই।” একই সঙ্গে তিনি জানিয়েছেন, সিজেপি “আগামিকাল আরও শক্তিশালী হয়ে” রাস্তায় ফিরবে। শনিবার মহারাষ্ট্রের হিঙ্গোলি জেলার নিজের বাড়িতে মৃত্যু হয় দিপকের ঠাকুমার। ওই দিনই সকালে দিল্লি বিমানবন্দরে রাঙ্কা ও সৌরভ দাসের সঙ্গে দিপকে-কেও আটক করা হয়েছিল।
দাবি খারিজ দিল্লি পুলিশের, জানানো হয়েছিল দিপককে:
অভিজিৎ দিপকের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়টি নিয়ে ওঠা অভিযোগ খারিজ করেছে দিল্লি পুলিশ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে পুলিশ জানিয়েছে, তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুর খবর “দ্রুত” এবং “যথাযথ সংবেদনশীলতার সঙ্গে” দিপকে-কে জানানো হয়েছিল। পুলিশ আরও জানিয়েছে, নির্ধারিত শেষকৃত্যের বিষয়েও তাঁকে অবহিত করা হয়েছিল। পাশাপাশি, “মানবিক কারণে” তাঁকে নিজের শহরে যাওয়ার জন্য সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল।
সোশ্যাল মিডিয়ায় দিপকেকে তাঁর ঠাকুমার মৃত্যুর খবর জানানো হয়নি বলে অভিযোগ ওঠার পর পুলিশের এই প্রতিক্রিয়া সামনে আসে।
তবে আটক নেতাদের অবস্থান সম্পর্কে তথ্য দেওয়া এবং তাঁদের মুক্তির দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছে সিজেপি। এদিকে, দিল্লিতে পৌঁছনোর পর দিপকে, দাস ও রাঙ্কাকে আটক করা হলে দলের বিক্ষোভের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য অজিঙ্ক্য শিন্ডের নাম ঘোষণা করা হয়।
(Feed Source: news18.com)
