সিনেমার পর্দায় যে অভিনেত্রীর বাবা হয়েছিলেন, তাঁরই প্রেমে পড়েছিলেন নানা পাটেকর, সহ্য করতে পারেননি বিচ্ছেদ

সিনেমার পর্দায় যে অভিনেত্রীর বাবা হয়েছিলেন, তাঁরই প্রেমে পড়েছিলেন নানা পাটেকর, সহ্য করতে পারেননি বিচ্ছেদ

 

নানা পাটেকর আজ আর এই পৃথিবীতে না থাকলেও, তাঁর কথা এবং সিনেমা মানুষকে তাঁর কথা মনে করিয়ে দেবে। নিজের দৃষ্টিভঙ্গি এবং কাজের মাধ্যমে মানুষের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছিলেন তিনি, যা কখনও মুছে ফেলা যায় না। মানুষ তাঁর জীবনের সঙ্গে নিজেদের জড়িয়ে অনুভব করেন। আর তা যদি তাঁর প্রেমের গল্প হয়, তা হলে? বিবাহিত থাকা সত্ত্বেও নিজের এক সহ-অভিনেত্রীর প্রেমে পড়েছিলেন তিনি, যে অভিনেত্রীর বাবার ভূমিকায় তিনি একটি ছবিতে অভিনয় করেছিলেন। একসঙ্গে মোট তিনটি ছবিতে কাজ করেছিলেন তাঁরা। একটি সাক্ষাৎকারে নানা পাটেকর স্বীকার করেছিলেন যে মনীষা কৈরালার কথা তাঁর মনে পড়ে।

বিবাহিত থাকা সত্ত্বেও এক অভিনেত্রীর প্রেমে পড়েছিলেন নানা পাটেকর। পর্দায় যে অভিনেত্রীর বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি, বাস্তব জীবনেও তাঁর সঙ্গে ছিল বিশেষ সম্পর্ক। ১৯৯৬ সালের ‘অগ্নি সাক্ষী’ ছবিতে প্রথমবার একসঙ্গে দেখা গিয়েছিল এই দুই তারকাকে। ছবিতে নানা পাটেকর এক মানসিক ভারসাম্যহীন পুরুষের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সেই বছরই মুক্তি পেয়েছিল তাঁর মিউজিক্যাল ছবি ‘খামোশি’, যেখানে নানা পাটেকর ওই অভিনেত্রীর বাবার ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন। বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তাঁদের সম্পর্ক নিয়ে চর্চা চলত, কিন্তু জনসমক্ষে তাঁরা নীরবই থেকেছিলেন। নিশ্চয়ই বুঝতে পেরেছেন, এখানে নানা পাটেকর ও মনীষা কৈরালার সম্পর্কের কথাই বলা হচ্ছে। (Photo Source: IMDb)

নানা ও মনীষা সম্পর্কে ছিলেন। কিন্তু পরিস্থিতি এমন হয়ে দাঁড়ায় যে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়ে যায়। মনীষার থেকে দূরে থাকা মেনে নিতে পারেননি নানা পাটেকর। মনীষা কৈরালার অভাব সবসময় অনুভব করতেন তিনি। নানা পাটেকর মনীষাকে নিয়ে কথা বলা এড়িয়ে চলতেন। কিন্তু ১৯৯৭ সালে একটি সাক্ষাৎকারে তিনি স্বীকার করেছিলেন যে মনীষা কৈরালাকে তাঁর মনে পড়ে।

সাক্ষাৎকারে মনীষা কৈরালাকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছিলেন নানা পাটেকর। তাঁর চোখ জলে ভরে উঠেছিল। অভিনেতার কথায় তাঁর জীবনের একটি কঠিন সময়ের আভাস পাওয়া যায়, যদিও তিনি এই সম্পর্ক নিয়ে বিস্তারিত কথা বলেননি।

মনীষার সঙ্গে সম্পর্ক শেষ হয়ে যাওয়ার পর যে যন্ত্রণা অনুভব করেছিলেন, তা নিয়ে কথা বলেছিলেন নানা পাটেকর। তিনি বলেছিলেন, ‘‘এটা খুব কঠিন একটা সময়। সেই যন্ত্রণা বুঝতে হলে নিজেকেই তা অনুভব করতে হয়। আমি যে যন্ত্রণার মধ্যে দিয়ে গিয়েছি, তা প্রকাশ করার মতো শব্দ খুঁজে পাচ্ছি না। দয়া করে, এই বিষয়ে কথা বলবেন না। মনীষার কথা আমার মনে পড়ে।’

‘খামোশি’ এবং ‘অগ্নি সাক্ষী’র মতো ছবিতে একসঙ্গে কাজ করেছিলেন নানা ও মনীষা। অভিনয়ের জন্য প্রশংসাও কুড়িয়েছিলেন তাঁরা। ‘অগ্নি সাক্ষী’ ছবিতে অভিনয়ের জন্য জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পেয়েছিলেন নানা পাটেকর। ১৯৯৮ সালের ‘যুগ পুরুষ’ ছবিতে তাঁরা একসঙ্গে কাজ করছিলেন। সেই সময়ই তাঁদের সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার খবর সামনে আসে।

বিচ্ছেদ হয়ে যাওয়া সত্ত্বেও মনীষা এবং তাঁর প্রতিভার বরাবরই প্রশংসা করেছেন নানা পাটেকর। তিনি বলেছিলেন, ‘‘মনীষার মধ্যে জন্মগত প্রতিভা রয়েছে। তিনি সবচেয়ে সংবেদনশীল অভিনেত্রী। তিনি কস্তুরী হরিণের মতো। এখনও তাঁর বোঝা বাকি যে, অন্য কারও সঙ্গে প্রতিযোগিতা করার কোনও প্রয়োজন তাঁর নেই। তাঁর কাছে সবকিছুই রয়েছে, আর সেটাই যথেষ্টের চেয়েও বেশি।’’

মনীষা কৈরালাকে নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করেছিলেন নানা পাটেকর। ৯০-এর দশকে মনীষা নিজের ব্যক্তিগত জীবনেও কঠিন সময়ের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছিলেন। বহু বছর পর প্রকাশিত নিজের বই ‘হিলড’-এ অভিনেত্রী জানিয়েছিলেন, কীভাবে নিজের উপর পড়া চাপ সামাল দিতে তিনি মদের আশ্রয় নিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “শুটিং থেকে মন সরাতে এবং নিজেকে অসাড় করে রাখতে আমি মদ্যপান শুরু করেছিলাম। যদি ডায়েটে থাকতাম, তা হলে ভদকা পান করতাম।”

১৯৯৭ সালের একটি সাক্ষাৎকারে মনীষার পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন নানা। তিনি বলেছিলেন, মনীষাকে এভাবে লড়াই করতে দেখা তাঁর কাছে অত্যন্ত কষ্টকর ছিল। নানা বলেন, “যখন আমি দেখি, ও নিজের সঙ্গে কী করছে, তখন নিজের চোখের জল ধরে রাখাই আমার পক্ষে কঠিন হয়ে পড়ে। হয়তো আজ ওর সম্পর্কে কিছু বলার অধিকারও আমার আর নেই।” নীলকান্তি পাটেকরের সঙ্গে বিয়ে হয়েছিল নানার। যদিও তাঁরা আলাদা থাকতেন, কখনও বিবাহবিচ্ছেদ করেননি। ২০১০ সালে ব্যবসায়ী সম্রাট দাহলের সঙ্গে বিয়ে করেন মনীষা। কিন্তু মাত্র দু’বছরের মধ্যেই সেই বিয়ে ভেঙে যায়। নানার মৃত্যুর পর মনীষা দুঃখ প্রকাশ করেছিলেন এবং বলেছিলেন, শিল্পকলায় তাঁর অবদান ও নিষ্ঠার কথা চিরকাল স্মরণ করা হবে।

(Feed Source: news18.com)