Knowledge Story: কলকাতা নয়, পশ্চিমবঙ্গের এই একটি শহরকেই ‘মিনি ভারত’ বলে! আপনার খুব চেনা, কিন্তু কেন বলে জানেন?

Knowledge Story: কলকাতা নয়, পশ্চিমবঙ্গের এই একটি শহরকেই ‘মিনি ভারত’ বলে! আপনার খুব চেনা, কিন্তু কেন বলে জানেন?

 

Knowledge Story: খড়গপুর শহর যেন সমগ্র ভারতেরই এক প্রতিচ্ছবি। দেশের মানচিত্রে বহু বছর ধরে এই শহর ‘মিনি ইন্ডিয়া’ নামে পরিচিত। উত্তর থেকে দক্ষিণ কিংবা পূর্ব থেকে পশ্চিম, ভারতের প্রতিটি রাজ্য ও সংস্কৃতির মানুষের স্থায়ী ঠিকানা আজ এই ঐতিহ্যবাহী রেল শহর।

উৎসব-সংস্কৃতির মিলনে এই শহর হয়ে উঠেছে ‘মিনি ভারত’

খড়গপুর, পশ্চিম মেদিনীপুর, রঞ্জন চন্দ: পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার খড়গপুর শহর যেন আস্ত ভারতবর্ষেরই এক চালচিত্র। দেশের মানচিত্রে এই শহর বহুদিন ধরেই ‘মিনি ভারত’ নামে পরিচিত। উত্তর থেকে দক্ষিণ কিংবা পূর্ব থেকে পশ্চিম, ভারতের প্রায় সব প্রান্তের মানুষের ঠিকানা আজ এই রেল শহর। ভাষা, ধর্ম কিংবা খাদ্যাভ্যাসে বৈচিত্র্য থাকলেও দৈনন্দিন জীবনে সকলে মিলেমিশে একাকার। জীবিকা বা ব্যবসার প্রয়োজনে যাঁদের পূর্বপুরুষেরা বহু দশক আগে এখানে এসেছিলেন, খড়গপুরই এখন তাঁদের আপন ঘর। ফলে সারা বছর ধরেই শহরের আনাচে-কানাচে লেগে থাকে উৎসবের মেজাজ। কখনও শীতের পোঙ্গল, কখনও রামনবমী, আবার কখনও মাতা পুজো বা ওড়িয়া রীতির অনুষ্ঠান, সব মিলিয়ে গড়ে উঠেছে এক সর্বভারতীয় সংস্কৃতি।

কী ভাবে জঙ্গলমহলের এই তল্লাট ‘মিনি ইন্ডিয়া’ হয়ে উঠল, তার নেপথ্যে রয়েছে এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের ইতিহাস। গবেষকদের মতে, এক সময় গোটা এলাকা ছিল টিলা আর ঘন জঙ্গলে ঘেরা। ব্রিটিশ আমলে সেই জঙ্গল কেটে ও টিলা সমান করে পাতা হয় রেলপথ। শুরু হয় অবিভক্ত বেঙ্গল নাগপুর রেলওয়ে বা বিএনআর-এর পথচলা, যা বর্তমান দক্ষিণ-পূর্ব রেলের অন্যতম প্রধান স্নায়ুকেন্দ্র। রেল কারখানা ও যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রসারে দ্রুত কাজের সুযোগ তৈরি হয়। রুটিরুজির টানে দূরদূরান্ত থেকে ভিড় জমান শ্রমজীবী ও দক্ষ কর্মীরা। রেলকর্মীদের জন্য গড়ে ওঠে একের পর এক আবাসন, পাশাপাশি সাধারণ জমিতেও স্থায়ী বসতি গড়েন বহু মানুষ।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে সেই রেল-শহর আজ এক পূর্ণাঙ্গ আধুনিক নগরের চেহারা নিয়েছে। বিশ্বের দীর্ঘতম প্ল্যাটফর্মগুলির একটি যেমন এই স্টেশনের পরিচয়, তেমনই শহরের মুকুটে যোগ হয়েছে দেশের প্রথম সারির প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান আইআইটি খড়গপুর। সঙ্গে রয়েছে ভারতীয় বায়ুসেনার গুরুত্বপূর্ণ কলাইকুণ্ডা বিমান ঘাঁটি, একাধিক হাসপাতাল এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। সব মিলিয়ে কাজের পরিধি যেমন বেড়েছে, তেমনই বেড়েছে বিভিন্ন ভাষা ও সংস্কৃতির আদানপ্রদান। ভিন্‌ রাজ্য থেকে আসা মানুষজন স্থানীয় জনজীবনের সঙ্গে এমন ভাবে মিশে গিয়েছেন যে বিভেদরেখা মুছে গিয়েছে বহু আগেই।

ইতিহাস আর আধুনিকতার মেলবন্ধনে দাঁড়িয়ে থাকা খড়গপুরের এই বহুত্ববাদী চরিত্রই তার সবচেয়ে বড় শক্তি। দ্রুত বদলাতে থাকা সময়ে হয়তো অতীতের পাতা খুঁটিয়ে পড়ার সুযোগ অনেকের হয় না, কিন্তু শহরের অলিগলিতে কান পাতলে আজও শোনা যায় বহু ভাষার কলতান। পারস্পরিক সম্প্রীতি ও বহু সংস্কৃতির এই দীর্ঘ সহাবস্থানই বুঝিয়ে দেয়, ভৌগোলিক সীমানা পেরিয়ে কেন খড়গপুর আজও ভারতের প্রকৃত ক্ষুদ্র সংস্করণ।

(Feed Source: news18.com)