)
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেছেন প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। এর পরই পিটিআই-এর প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুরকে গৃহবন্দি এবং সোহেল আফ্রিদি-সহ শীর্ষ নেতাদের আটক করা হয়েছে।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: পাকিস্তানের রাজনৈতিক টানাপোড়েন এক নতুন মোড়। গত রবিবার খাইবার পাখতুনখোয়ায় জরুরি অবস্থা জারি করেছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি। জঙ্গি মোকাবিলায় ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের মন্ত্রিসভার সুপারিশে এই পদক্ষেপ করা হয়েছে। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই প্রদেশটির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ (পিটিআই)-এর প্রাদেশিক সভাপতি জুনায়েদ আকবরকে আটক করা হয়। পাশাপাশি আর এক প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আলি আমিন গান্দাপুরকে ডেরা ইসমাইল খানে গৃহবন্দি করেছে পুলিস।
কারাবন্দি প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পিটিআই-এর হাতেই এত দিন এই সীমান্তবর্তী প্রদেশের শাসনভার ছিল। তবে সম্প্রতি ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদ অভিমুখে বড়সড় আন্দোলনের ডাক দেয় দলটি। রাজধানী দখলের আশঙ্কায় কেন্দ্র ও পিটিআই-এর মধ্যে সংঘাত চরমে পৌঁছায়। তার পরেই কেন্দ্র এই কড়া পদক্ষেপ করে। গান্দাপুরের গৃহবন্দি হওয়ার খবর নিশ্চিত করে এক্স হ্যান্ডলে ক্ষোভ উগরে দিয়েছে পিটিআই নেতৃত্ব। তাদের বক্তব্য, এটি দলের কর্মীদের ভয় দেখানোর চরম নিন্দনীয় অপচেষ্টা, তবে তাদের লড়াই থামবে না।
জরুরি অবস্থা ঘোষণার পরেই খাইবার পাখতুনখোয়ায় সেনা মোতায়েনের নির্দেশ দিয়েছে পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। আফগান সীমান্ত লাগোয়া এই এলাকায় তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান (টিটিপি)-এর মতো জঙ্গিগোষ্ঠীর উপদ্রব মারাত্মক হারে বেড়েছে। পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ, তা বোঝাতে গিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি জানান, বেশ কিছু জেলায় সন্ধ্যের পর সাধারণ মানুষ আতঙ্কে ঘর থেকেই বের হতে পারছেন না।
শাহবাজ শরিফের কার্যালয় জানিয়েছে, প্রাদেশিক প্রশাসন ইচ্ছাকৃতভাবেই সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান থেকে নিজেদের গুটিয়ে নিয়েছিল। নিরাপত্তা বাহিনী ও সাধারণ নাগরিকদের উপর একের পর এক হামলার মুখে সরকার ‘নীরব দর্শক’ হয়ে বসে থাকতে পারে না বলে স্পষ্ট জানান প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে ইসলামাবাদ অভিযোগ তোলে, পিটিআই জঙ্গি গোষ্ঠী ও আফগান তালিবানের প্রতি সহানুভূতিশীল। যদিও পিটিআই এবং আফগান তালিবান- উভয় পক্ষই এই অভিযোগ সরাসরি উড়িয়ে দিয়েছে।
কেন্দ্রের এই পদক্ষেপকে গণতন্ত্রের উপর সরাসরি আঘাত বলে তোপ দেগেছেন পিটিআই চেয়ারম্যান গওহর আলি খান। তিনি জানান, জনগণের নির্বাচিত রায় ও প্রাদেশিক স্বায়ত্তশাসন কেড়ে নিয়ে কোনও দিন শান্তি ফেরানো সম্ভব নয়। এটি একটি মারাত্মক রাজনৈতিক ভুল। দলের মুখপাত্র জুলফিকার বুখারি আরও এক ধাপ এগিয়ে গোটা ঘটনাটিকে ‘জরুরি অবস্থার আড়ালে সামরিক অভ্যুত্থান’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
পাকিস্তানের সংবিধানের ২৩২ ও ২৩৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী এই জরুরি অবস্থা জারি হয়েছে। নিরাপত্তার চরম সংকট কিংবা সাংবিধানিক অচলাবস্থার ক্ষেত্রে কেন্দ্রকে এই হস্তক্ষেপের ক্ষমতা দেয় আইন। আপাতত সোহেল আফ্রিদির নেতৃত্বাধীন নির্বাচিত সরকারকে বরখাস্ত করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী আজম নাজির তারার জানিয়েছেন, একটি উপদেষ্টা পরিষদের সাহায্যে প্রাদেশিক রাজ্যপাল আগামী ছয় মাসের জন্য শাসনভার সামলাবেন। সরকার দাবি করেছে নাগরিকদের সমস্ত মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়নি, এবং সাংবিধানিক নিয়ম মেনেই এই পদক্ষেপটির জন্য পরবর্তীতে সংসদের অনুমোদন চাওয়া হবে।
(Feed Source: zeenews.com)
