)
INDIA Bloc March PIL in Supreme Court: এই মামলায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে বিবাদী (Respondent) করা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই যে বিরোধীরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন, এই পদক্ষেপ তারই স্পষ্ট বার্তা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
জি ২৪ ঘণ্টা ডিজিটাল ব্যুরো: রাজধানী দিল্লিতে এখন রাজনৈতিক উত্তাপ তুঙ্গে। ভোটার তালিকার ‘বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ বা ‘স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন’ (Special Intensive Revision – SIR)-কে কেন্দ্র করে জ্ঞানেশ কুমারের ইস্তফার দাবিতে সরগরম জাতীয় রাজনীতি। স্বচ্ছ ভোটদানের দাবিতে (Chief Election Commissioner – CEC) জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগ এবং অপসারণের দাবিতে একজোট হয়ে রাস্তায় নেমেছে বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মহাসংঘ ‘ইন্ডিয়া’ জোট (INDIA bloc)। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধী, প্রিয়াঙ্কা গান্ধী বঢরা, অখিলেশ যাদব এবং তেজস্বী যাদবের নেতৃত্বে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থক সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে ‘চলো দিল্লি’ (Chalo Delhi March) পদযাত্রায় অংশ নেন। সঙ্গে ছিলেন জেনজি আন্দোলনের অন্যতম প্রধান মুখ নেহা বোরা। লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর নেতৃত্বে বিরোধী শিবিরের ১১ জন শীর্ষ নেতা শীর্ষ আদালতে জনস্বার্থ মামলা (PIL) দায়ের করেন।কিন্তু রণেভঙ্গ দিয়ে কলকাতায় ফিরে এলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। রাহুল-প্রিয়ঙ্কা আন্দোলনের রাশ হাতে নিতেই কি গোসা হল মমতার?
কনট প্লেসের বারখাম্বা রোড থেকে সুপ্রিম কোর্টের তিলক মার্গ পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটারের এই বিশাল মিছিল ঘিরে পুরো রাজধানী স্তব্ধ হয়ে পড়ে। রাহুল গান্ধী সরাসরি অভিযোগ তোলেন, প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্বাধীনভাবে কাজ করছেন না, বরং তিনি সরকারের শীর্ষস্তরের চাপে নতিস্বীকার করেছেন।
‘ইন্ডিয়া’ জোটের শীর্ষনেতারা সুপ্রিম কোর্টে একটি বিশেষ পিটিশন বা আবেদনপত্র ফাইল করেছেন। এই পিটিশনে মল্লিকার্জুন খড়গে, রাহুল গান্ধী, অখিলেশ যাদব এবং তেজস্বী যাদব, আরজেডি-র তেজস্বী যাদব, শিবসেনা (ইউবিটি)-র সঞ্জয় রাউত, সিপিআই(এম)-এর এম এ বেবি, সিপিআই-এর ডি রাজা, জেএমএম-এর মহুয়া মাজি, এনসিপি-র সুপ্রিয়া সুলে এবং আইইউএমএল-এর ই টি মোহাম্মদ বশীর। মূল আবেদনকারী হিসেবে রাখা হয়েছে। আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে যে, ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের (SIR) নামে ব্যাপক হারে প্রকৃত ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া হয়েছে।
এই মামলায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে বিবাদী (Respondent) করা হয়েছে। নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা বজায় রাখতেই যে বিরোধীরা আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন, এই পদক্ষেপ তারই স্পষ্ট বার্তা বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
কঠোর নিরাপত্তায় স্তব্ধ রাজধানী, মেট্রো স্টেশন বন্ধ ও ইন্টারনেট নিয়ন্ত্রণ
বিশাল এই প্রতিবাদ ও মিছিল ঠেকাতে দিল্লি পুলিস জারি করেছিল চরম সতর্কতা।
মেট্রো চলাচলে বিধিনিষেধ: রাজীব চক, মান্ডি হাউস, জনপথ, সেন্ট্রাল সেক্রিটারিয়েট, প্যাটেল চক এবং বারখাম্বা রোড– এই ছয়টি গুরুত্বপূর্ণ মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বিকল্প প্রতিবাদ স্থান: দিল্লির ঐতিহ্যবাহী প্রতিবাদস্থল যন্তর মন্তর (Jantar Mantar)-কে বাতিল ঘোষণা করে রামলীলা ময়দান, বুড়াড়ি গ্রাউন্ড এবং পূর্ব দিল্লির সিবিডি গ্রাউন্ডকে বিকল্প স্থান হিসেবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আদালতের হস্তক্ষেপ: বিষয়টি গড়ালে দেশের শীর্ষ আদালত স্পষ্ট নির্দেশ দেয় যে সংবিধানের অনুচ্ছেদ ১৯(২) (Article 19(2))-এর আওতায় জনসাধারণের মৌলিক অধিকার যেন বিঘ্নিত না হয়। সেই মোতাবেক স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে মেট্রো ও ইন্টারনেট পরিষেবা অহেতুক দীর্ঘ সময় বন্ধ না রাখার বার্তা দেওয়া হয়।
বিজেপির পাল্টা তোপ
অন্যদিকে, বিরোধীদের এই নজিরবিহীন পদযাত্রাকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছে শাসকদল ভারতীয় জনতা পার্টি (BJP)। বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা ও মুখপাত্র অনুরাগ ঠাকুর এক সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, ‘বিরোধীরা দেশজুড়ে এক প্রকার অরাজকতা (Anarchy) তৈরি করতে চাইছে। সাংবিধানিক পদ ও প্রতিষ্ঠানকে অপমান করে আন্তর্জাতিক মঞ্চে ভারতের ছবি কালিমালিপ্ত করাই রাহুল গান্ধীর লক্ষ্য।’
বিতর্ক ঠিক কী নিয়ে?
১. SIR কী? নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ভোটার তালিকা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে খতিয়ে দেখা এবং হালনাগাদ করার একটি প্রক্রিয়া।
২. বিরোধীদের দাবি: এই সংশোধন প্রক্রিয়ার আড়ালে বিরোধীদের সমর্থনপুষ্ট লাখ লাখ ভোটারের নাম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বাতিল করা হয়েছে।
৩. পরবর্তী পদক্ষেপ: প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের অপসারণ নিশ্চিত করতে আইনি ও রাজনৈতিক– দুই পথেই লড়াই জোরদার করছে বিরোধী শিবির। কেরল বিধানসভাতেও ইতোমধ্যেই প্রধান নির্বাচন কমিশনারকে অপসারণের দাবিসংবলিত বিশেষ প্রস্তাব পাস হয়েছে।
(Feed Source: zeenews.com)
